পুরনো ক্যামেরা কেনার কথা ভাবছেন?

Published : নভেম্বর ২৪, ২০১৬ | 1341 Views

পুরনো ক্যামেরা কেনার কথা ভাবছেন?

যারা পুরানো ক্যামেরা কেনার কথা ভাবছেন তারা অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখে কিনবেন।
১. শাটার কাউন্ট পরীক্ষা করুন : ছবি তুলে ফাইল নম্বর দেখে শাটার কাউন্ট দেখবেন। অনেক সময় রিসেট করে শাটার কাউন্ট মুছে ফেলে যায় সেই ক্ষেত্রে ক্যাননের জন্যে http://astrojargon.net/EOSInfo.aspx… এবং নিকনের জন্যে http://www.myshuttercount.com/
এই দুই পদ্ধতিতে শাটার কাউন্ট চেক করা যায়।
২. সেন্সর পরীক্ষা করুন : সেন্সর একটা ক্যামেরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে অথবা সাদা দেয়ালে যতটুকু সম্ভব ছোট এ্যাপাচার অথবা এফ ২২ দিয়ে ফটো তুলবেন। তাহলে দেখতে পারবেন ছবিতে কোথাও কোন প্রকার কালো স্পট বা অস্পষ্ট কিছু আছে নাকি। কালো স্পট থাকলে বুঝে নিবেন সেন্সরে ময়লা পড়েছে সেটি ক্লিন করতে হবে। এছাড়া ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সেন্সর চেক করার আরেকটি মেনুতে গিয়ে দেখবেন ম্যানুয়াল সেন্সর ক্লিনিং অপশন আছে ঔটা একটিভ করে দিবেন তখন খট করে শব্দ করে মিরর লক হয়ে উপরে উঠে যাবে তারপর লেন্স খুলে আপনি সেন্সর দেখে নিতে পারেন কোথাও কোন স্ক্র্যাচ আছে কিনা। ক্র্যাচ থাকলে সেটি আপনার ছবিকে আরো অস্পষ্ট করে তুলবে। তবে এই ধরনের সেন্সর পরীক্ষা করার সময় খোলা জায়গায় যাবেন না উল্টা ময়লা ঢুকে যেতে পারে।


৩. লেন্স পরীক্ষা করুন : প্রথমে দেখবেন ফ্রন্ট এবং রিয়ার এলিমেন্ট স্ক্র্যাচ আছে কিনা। তারপর লেন্স উল্টা করে আলোর দিকে ধরে দেখবে লেন্সের ভিতর কালো অথবা সাদা দাগ আছে কিনা। কালো হলে ডাস্ট জমেছে আর সাদা হলে ফাঙ্গাস জমেছে। তারপর অটো ফোকাস মুডে গিয়ে এভি অপশন সিলেক্ট করে ছোট থেকে বড় এ্যাপাচার চেক করে দেখবেন কোন প্রকার সমস্যা হচ্ছে কিনা। তারপর ম্যানুয়াল ফোকাস মুডে গিয়ে একই ভাবে পরীক্ষা করবেন।


৪. স্ক্রীন পরীক্ষা করুন : ভিউফাইন্ডারে চোখ রাখুন দেখুন স্পষ্ট কিনা, মেনু বাটন ও ন্যাভিগেটর বাটন প্রেস করে দেখুন ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা। এলসিডি প্যানেল এর কোটিং ঠিক আছে নাকি দেখুন, স্ক্রীনে ছবি ঠিকঠাক রং দেখতে পারছেন কিনা দেখুন। তবে স্ত্রীনে ক্র্যাচ পড়াটা স্বাভাবিক তবে সেটা মাত্রাতিরিক্ত ভালো না ।


৫. বডির গায়ে ঘষা মাজা পরীক্ষা করুন : বেশী পুরানোর ক্ষেত্রে কিছু কিছু স্থানে বডির রং উঠে যেতে পারে কিংবা ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। তবে এটি সিরিয়াস ইস্যু নয়।


৬. আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করুন: ব্যাটারী, ব্যাটারী চার্জার, মেমোরি কার্ড, ইউভি ফ্লিটার (যদি থাকে), ইউএসবি ডাটা ক্যাবল, ড্রাইভার সিডি, ক্যামেরার ব্যবহার ম্যানুয়াল এই সব বুঝে নিবেন। যদি ওয়ারিন্টি থাকে সেই ক্ষেত্রে দরকারী কাগজ পত্র। কোথা থেকে কিনেছেন সেটি জানতে ক্রয়ের ক্যাশমেমো কাগজ দেখে নিবেন তাহলে আপনি জানতে পারবেন কতদিনে পুরানো। তবে অনেক সময় এই কাগজ নাও থাকতে পারে। অরিজিনাল কিংবা চোরাই ক্যামেরা কিনা যাচাই করতে অরিজিনাল ব্যাটারী চার্জার, ইউএসবি ক্যাবল, ড্রাইভার সিডি, ক্যামেরার ম্যানুয়াল বুক পরীক্ষা করে বুঝে নিবেন। মনে রাখবেন চোরাই কিংবা ছিনতাইকৃত গিয়ারের ক্ষেত্রে বেশীর ভাগ দুই নম্বর ব্যাটারী, চার্জার, ডাটা ক্যাবল দেওয়া হয় এবং অরিজিনাল সিডি ও ক্যামেরা ম্যানুয়াল সরবরাহ করা হয় না।


আশা করি, আপনারা সবাই ক্যামেরা কেনার ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করবেন। মনে রাখবেন, একটি দূঘর্টনা সারাজীবনের কান্না। সুতরাং আবেগের বশে কোন কিছু করবেন না, ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে কিনুন, যাতে এটি করে কোন ক্যামেরা আপনার বোঝা না হয়ে এটি আপনার গর্বিত সম্পত্তি হয়।

সংগ্রহ: অয়ন

Published : নভেম্বর ২৪, ২০১৬ | 1341 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798