সৃজনশীলতা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি?

Published : নভেম্বর ৬, ২০১৬ | 9131 Views

সৃজনশীলতা বা ক্রিয়েটিভিটি কাকে বলে?

জাহাঙ্গীর আলম শোভন
কোনো মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনার আলোকে কোনোকিছু নতুন করে তৈরী করাকে এবং কোনো বিষয়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চিন্তাকে সৃজণশীলতা বলে। সৃজনশীলতার আরেকনাম সৃস্টিশীলতা।
গল্প, কবিতা ও উপন্যাস লেখা, ডিজাইন করা, ও এনিমেশন তৈরী করা। এগুলো একধরনের সৃজনশীলতা।  আমেরিকা আবিষ্কার,  সোনার খনি আবিষ্কার এক ধরনের সৃজনশীলতা।  টেলিফোন আবিষ্কার, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় পদ্ধতি উদ্ভাবনও সৃজনশীলতা।
যিনি সৃজণশীলতা চর্চা করেন বা সৃস্টিশীল হন বা নতুন কিছু উপহার দেন তিনিই সৃজনশীল। এই সৃজনশীল বা সৃজনশীলতা কয়েকপ্রকার হতে পারে।

সৃজণশীলতা কতপ্রকার?

দ্ভাবনী সৃজনশীলতা:
নতুন কিছু তৈরী করাই হলো উদ্ভাবন। যারা উদ্ভাবন করেন তারা উদ্ভাবনী সৃজনশীল। মানুষের প্রয়োজনের সাথে উদ্ভাবনী শক্তির এক সমন্বয় হলো উদ্ভাবনী সৃজনশীলতা। টমাস আলভা এডিসন চলচ্চিত্র আবিষ্কার করেন।  এধরনের সৃজণশীলতা  প্রথমে তৈরী হয় পরে মানুষের প্রয়োজনে এসবের অনুরুপী বা কপি তৈরী হয়। তবে কোনো ক্ষেত্রে এগুলোর উন্নত সংস্করণও সৃজণশীলতা হয়
যেমন। যেমন আমরা দেখতে পাই মুঠোফোনের নানা পরিবর্তন ও উন্নয়ন।

কারিগরি সৃজনশীলতা
কারিগরি জ্ঞান ও কাজে উৎকর্ষতার মাধ্যমে শিল্প সুষ্টি করা হলো কারিগরি সৃজণশীলতা। কারিগরি জ্ঞান মানুষের শিল্পমাধ্যমকে নতুন মাত্রা দিয়ে থাকে। কারিগরি বিষয় সমূহ নতুন ভাবনা আনার জন্য সৃজনশীল মনন এর প্রযোজন হয়। কারিগরি সৃজনশীলতা মানুষের প্রয়োজনে বিকশিত হয়। এবং সারসরি মানুষের জীবনকে আকৃষ্ট করে। যেমন কার্পেন্টার, হস্তশিল্প, কম্পিউটারের নতুন নতুন প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

সংযোগকারী সৃজনশীলতা:
এ ধরনের সৃজণশীলতা আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এখানে যারা এই নতুন চিন্তা করেন তারা সমাজে পরিবর্তন এনে দেন চিন্তার দ্বারা এবং মানুষের অভ্যাস ও কাজে পরিবর্তন ঘটান। এ ধরনের আদর্শিক সৃজণশীলতার মাধ্যমে  নতুন রীতি চালু করার নাম সংযোগকারী সৃজণশীলতা। এর দ্বারা আগের ও পরের আচরনের মধ্যে একটা সংযোগ স্থাপিত হয়। যেমন, রাজা রাম মোহন রায় ও ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন।

তত্বাবোধিনী সৃজনশীলতা:
এটা বিশাল ব্যাপার যে, কারো একটা আবিষ্কার বা উদ্ভাবন মানুষের আচরণ বা অভ্যাসকে শুধু পরিবর্তন নয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের উদ্ভাবন এর মাধ্যমে তারা কিছু বিষয়ের উপর তাদির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে যেমন তাদের তত্বাবধানেই সবকিছু চলছে। এটা ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষন পর্যন্ত আরেকজন তত্বাবোধক বা নিয়ন্ত্রক সৃজনশীল মানুষ প্রভাবশালী কোনো কিছু পেশ না করছেন। কিছু কিছু লোকই কেবল এই বড়োকিছু আনতে পারেন যেমন স্টিভ জবস, বিল গেটস ইত্যাদি।

বিশ্লেষনী সৃজনশীলতা:
এ ধরনের সৃজনশীলতাই আমাদের দেশে আমরা সৃজণশীলতা হিসেবে গন্য করি। এসবের প্রভাব সমাজে কতটা পড়ে সেটা মূল্যায়ন করা কঠিন। গান, কবিতা, গল্প, চিত্র, নকশা এসবই হলো বিশ্লেষণী সৃজনশীলতা। এগুলোতে সৃজনকারীর নিজ¯ স্ব^াধীন চিন্তা প্রতিফলিত হয়।

Published : নভেম্বর ৬, ২০১৬ | 9131 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798