কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে লেখা চিঠি (পর্ব ৫)

Published : অক্টোবর ১৯, ২০১৬ | 1737 Views

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে লেখা চিঠি (পর্ব ৫)

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

(ধারাবাহিক রচনা: পূর্ব প্রকাশের পর)

 

লাস্যময়ী মনহরিণি,

উন্নয়নের হাজারো সুযোগ আছে, পরিকল্পনার নানা বিষয় আছে। সেজন্য আগেতো চাই স্বপ্ন দেখা। তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখার আসলে কোনো শেষ নেই। সীমা পরিসীমা নেই। এটা কখনো শেষ হবার নয়। সেইসব স্বপ্ন থেকেই আস্তে আস্তে বাস্তবের পথ রচনা করতে হবে। এই পথকে নিয়ে যেতে হবে উন্নয়নের রোডম্যাপে। আর সেটা মিলিত হবে ভবিষ্যত বাংলাদেশের এক সুন্দর তটরেখার সাথে।

এছাড়া ট্যূরিস্ট ক্লাব গঠন করে বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার সাথে ট্যুরিস্ট ক্লাব গঠন করা যেতে পারে। যা হতে পারে সরকারী কিংবা বেসরকারী উদ্যোগে। বর্তমান বিশ্বে প্রচারণা একটা ব্যাপার তাই আন্তজাতিক ভাবে প্রমোশন করা প্রয়োজন। প্রয়োজন দেশকে ব্রান্ডিং করা।

 

দেশের পর্যটন সম্পর্কিত সকল সার্ভিসকে এক ছাতার নিচে (Onestopservice) আনতে পারলে তা খুবই ফলপ্রসু হবে। যাতে একজন ট্যুরিস্ট একটা জায়গা থেকে সব সেবা গ্রহণ করতে পারে। যেমন হোটেল, বিমান, পরিবহন ও গাইড সার্ভিস ইত্যাদি।

বানিজ্যিক কেন্দ্র, বন্দর, এবং অন্যান্য বানিজ্যিক সুযোগ সুবিধা সৃস্টি করে বানিজ্যিক ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করা যায়। যারা ব্যবসায় ও বিনিয়োগের জন্য ভ্রমণ করে থাকেন। দুবাই, সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

তৈরী করতে হবে বিশেষ কিছু আকর্ষণ। যার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ট্যুরিস্টরা ছুটে আসবে। হতেপারে আন্ডার ওয়াটার সী মিউজিয়াম, আন্ডার ওয়ারটার রেস্টুরেন্ট, থিমপার্ক, এমিউজমেন্ট পার্ক, ন্যাচারাল পার্ক, ভাসমান শফিং সেন্টার, ভাসমান হোটেল, ফিস সার্কাস, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ট্যুরিজম ইনস্টিটিউট।

মনহরণের বৈকালিনি

মৌলিক কিছু বিষয় আছে যেগুলো উন্নয়ন না করলেই নয়। যেমন যাতায়াত ও যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও আইনশৃংখলা, পর্যটন সুবিধা, তথ্যপ্রাপ্তি, আশপাশের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াচড়ি বান্দরবনসহ বিভিন্ন ট্যুরিজম স্পটের উন্নয়ন।

বর্তমান সময়ের আলোচিত ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তনেকে মাথায় রেখে কাজের পরিকল্পনা করতে হবে। বন্যা সুনামী সাইক্লোন ও জলোচ্চাস এবস প্রাকৃতিকসমস্যার মোকাবিলায় টেকসই, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশ দূষনের হার কমিয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। করতে হবে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

img_20160326_080252

লীলাবতী ললনা কক্সবাজার

তোমার সুন্দরের মাঝে কলংক নেই। আছে অহংকার। সেঅহংকারের আগুনে তুমি কখনো কখনো ঝলসে উঠো বয়ে আনো তোমার সাগর প্রকৃতির ঐসব অভিশাপগুলো। তবু তুমি আমাদের জন্য চৈত্রের খরতাপে শীতল বাতাস। তোমাতে শুধু সমুদ্র নয় আছে গাছ পাহাগে ভরা নানা প্রাকৃতিক সম্পদ। তেমনি তোমার নিচেও রয়েছে তেলগ্যাস সহ নানা ধন। সমুদ্রের মাছ শামুক আর লবনের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আজ বঙ্গ সন্তারদের দায়িত্ব তোমার সম্পদকে পাহারা দেয়া, রক্ষা করা। েসকলের দায়িত্ব রয়েছে এতে। আজ তাই সময় হযেছে কাজে নেমেপড়ার।

সাগরিকা

তোমাকে অস্টাদশ শতকের একটি প্রেমের গল্পবলি। এক নাবিক একবার প্রেমপত্র লিখে তা বোতলে চিপি এটে সমুদ্রে ফেলে দেয়। সে পত্রের সূত্র ধরে পরে িএক কৃষক মেয়ের সাথে নাবিকের প্রেম ও বিয়ে হয়। এবার আমি একটা বোতল ছুড়বো তোমার সমুদ্রের বুকে। দেখি যদি কিছু হয়।

অনেক কথা হলো। আসলে আমাকে আজ রবীন্দ্রনাথের চার অধ্যায়মগল্পের নায়ক অন্তুর মতো কথায় পেয়ে গিয়েছিলো। হয়তোবা আমি চিরকালই কথায় পাওয়া মানুষ।

আজ এখানেই ভালো থেকো। ভালো থেকো পাহাড়ী চাতকের খেলার সাথী হয়ে। ভালো থেকো রাতজাগা আকাশের কথার পাখি হয়ে। ভালো থেকো তোমার সাগর মাতার সহচর হয়ে। মনে রেখো তোমার সাক্ষাত ভিখারী এই মেঘবালকেরে।

ইতি মেঘবালক।

(এই লেখার সময়কাল ২০০৯। ছবিগুলো তোলা হয়েছে ২৪,২৫,২৬ ফ্রেবুয়ারী, হেঁটে দেশভ্রমনের সময়)

Published : অক্টোবর ১৯, ২০১৬ | 1737 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798