পর্যটন ও ই-কমার্স

Published : অক্টোবর ৮, ২০১৬ | 2000 Views

পর্যটন ও ই কমার্স: প্রেক্ষিত তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন: হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণ শেষে

ই কমার্সের মূলত শুরু হয়েছে পর্যটন ভিত্তিক একটা সেকশান থেকে। সেটা হলো এয়ার টিকেট বুকিং। বিমানের টিকেট বুকিং এর জন্য বিমানকোম্পানীগুলো যখন এজেন্ট নিয়োগ দেয়। তখন অনলাইনে বুকিং ও ক্ষেত্রবিশেষে কিছু লেনদেনও হয়। এভাবেই অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায়ের সূচনা ঘটে। তবে এটা মূলত বি টু বি প্রসেসে। বি টু সি প্রসেসে প্রথাগত ই কমার্স শুরু হয় আরো পরে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন ইকমার্স খুব ভালোভাবে না দাড়ালেও আভ্যন্তরীন পর্যটন এর ক্ষেত্রে বেশ ভালো অবস্থা রয়েছে। ডোমেস্টিক ট্যুরিজমের বিজনেসটাকে আমরা অনেকে ই কমার্সের ভেতরে ধরছিনা বলে বিষয়টি সামনে আসছে না। এমনকি আমরা একটু খেয়াল করে দেখবো শুধুমাত্র ফেসবুক ব্যবহার করে এতে ট্যুর ইভেন্ট তৈরী করে অনেকে বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজ বানিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে কাজ করছে। সূতরায় ট্যুরিজম এর ক্ষেত্রে ই কমার্সের একটা ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সমতলভূমির চা বাগান

তেঁতলিয়ায় সীমান্তঘেষা চা বাগান। ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন।

পাঠক মাত্রই জানেন আমি গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী পাঁয়ে হেঁটে যে ভ্রমণ শুরু করি এবং ৪৬ বা ৪৭ দিনে শেষ করার পর স্বভাবতই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে নানামাধ্যমে আমার বিভিন্ন লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। তারই সূত্র ধরে এটিও একটি লেখা। যাতে আমি আমর ভ্রমনের উপর অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে। এবং বর্তমানে প্রচলিত অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোক মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন হলিডে ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর কোম্পানীগুলো তাদের ব্যবসায় চালাচ্ছে। তাতে তারা অনলাইন ব্যবহার করে ভোক্তার কাছে যাচ্ছে আবার মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করে লেনদেন করছে ফলে এখানে ই কমার্সের একটা শক্ত ধারা তৈরী হচ্ছে। এর প্রবাহটা ভোগ্যপন্য বা কনজিউমার প্রোডাক্টস এর ক্ষেত্রে কাজে লাগানো গেলে একটা আশার ঝলক দেখা দিতে পারে।

দিনাজপুর ভ্রমণ

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির

পর্যটন এর এই ক্ষেত্রে ই কমার্স নিয়ে আলোচনা করা যাক আজ
কেন অনলাইন ইভিত্তিক ট্যুর অপারেটিং এর চাহিদা রয়েছে?
আজকাল মানুষ ঘুরতে পছন্দ করে। শত সমস্যা থাকলেও অনেকেই চেষ্টা করে বছরে অন্তত একবার পরিবার পরিজন নিয়ে, অথবা একা অথবা গ্রুপে ট্যুর দেয়া জন্য। আর এজন মানুষ অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য সার্চ করে ফলে এখান থেকে মানুষর ট্যুর প্লান বানায়। আরেকটা বিষয় হলো সামাজিক যোগাযোগ। এর মাধ্যমে একজন বন্ধু বা পরিচতি ব্যক্তি যখন কোনো জায়গায় ভ্রমনে গিয়ে সেখানকার ছবি তুলে পোস্ট করে তখন তা দেখে অন্যদের যাওয়ার জন্য আগ্রহ তৈরী হয়ে। তাছাড়া ফেসবুকে ইভেন্ট এর মাধ্যমে খুব সহজে কমার্শিয়াল বা ননকমার্শিয়াল ভাবে গ্রুপ তৈরী করে কোথাও থেকে ঘু রে আসা যায়।

মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। মুন্সিগঞ্জের মেঘনা রিসোর্ট। আমরা কম লোকই হয়েতো এটা চিনি। ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

এটাতো সিজনাল ব্যবসায়? চার মাস চলবে তারপর কি করবো?
হাঁ পর্যটন সিজনাল হলেও আজকাল সেটা আর নেই। এখনকার অপারেটরগণ অফসিজনেও এমনকি বর্াকালে এমনভাবে ছোট ছোট ট্যুর ডিজাইন করে থাকেন যে, কেউ চাইলে তখনও ভ্রমণ করতে পারে। এবং নামকরা কোম্পানীগুলো কিন্তু তাই করছে। তারা হয়তো এমন একটা প্যাকেজ বানালো যেটার নাম হলো বর্াষ বিলাস বা নৌকা ভ্রমণ। ঢাকার কাছেই যাতে দিনে দিনে আসা যায়। অথবা পুরনো একটা জমিদার বাড়িতে পিকনিকের মতো যেটা গাড়ীতে গিয়ে ইনডোরে প্রোগ্রাম করে আবার ইনডোরে ফিরে আসা যাবে।

ময়নামতি

( ঢাকা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দুরে কুমিল্লায় বলতে গেলে একই ঠিকানায় রয়েছে দেখার মতো অনেকগুলো জায়গা যেমন বৌদ্ধবিহার, শালবন বিহার, ওয়ার সেমেট্রি, ইটাখোলা মুড়া, রুপবান মূড়া, শালবন, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, কোর্টবাড়ী ইত্যাদি। এবং এখানে থাকা খাওয়া পিকনিক গাড়ী পার্কিং সব সুযোগ সুবিধা আছে। ছবি জাহাঙ্গীর আলম শোভন।
এই ব্যবসায়তো তাহলে ঘরে বসে করা যাবে না।?
ঠিক কথা এই ব্যবসায় ঘরে বসে করার কোনো সুযোগ নেই। আপনাকে নিজের ব্যবসায়িক গোছগাছ করার পাশাপাশি। প্রতিটি ট্যুরের জন্য বিজ্ঞাপন বা বুষ্ট পোষ্ট করতে হবে। একটা সুন্দর প্যাকেজ ডিজাইন করতে হবে। সব সার্ভিস ওয়ান স্টপ করতে হবে। গাড়ী ধরানো হোটেল বুকিং অন্যান সব কিছু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। একথা বললে ভুল হবে বরং বলতে সঠিকভাবে ঠিক রাখতে হবে। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে কোনো কোনো জায়গায় সরেজমিনে গিয়ে সব দেখে তারপর কাজ শুরু করতে হবে। এটা কিন্ত কাস্টমারের সাথে একেবারে একছাদেরে নিচে শোয়ার মতো ব্যাপার অন্তত দুই এক দিনের জন্য হলেও।

বাংলাদেশ পল্রী উন্নয়ন একাডেমী

( বন, পাহাড়, সমুদ্র, নদী, গ্রাম ও পত্নতাত্বিক নির্দর্শন একেক জনকে একেকটা বিষয় টানে। ছবি জাহাঙ্গীর আলম শোভন)

কিন্তু বাংলাদেশে তো খুব বেশী ঘোরার জায়গা নেই। মানুষ এক জায়গায় আর কত যাবে?
আসলে আমরা বাংলাদেশের অনেক জায়গার খবর জানি না। আবার খুব বেশী ঘরতে যাইনা বিধায় বার বার টপ সিলেক্ট জায়গাগুলো বেছে নেই। ফলে অন্য স্থানগুলো আড়ালে থাকে। আমাকে অবশ্যই প্রতিটি আলাদা আলাদা পার্সপেক্টিভ থেকে একটু ট্যুর প্যাকেজ সাজানোর কথা ভাবতে হবে। খেয়াল করুন ভারতে যদি তাজমহল না থাকতো তাহলে কি কেউ ভারতে ঘুরতে আসতো না? আমাদের যদি কক্সবাজার না থাকতো তাহলে কি প্রতিবছর বিদ্যালয় গুলো শিক্ষাসফর করতো না? সূতরাং যখন আমরা যে কারণে ঘুরতে যাবো সেভাবে সাজাতে হবে প্লান। এবং তখন দেখবেন অনেক কিছুই বেরিয়ে আসছে। পাকিস্তান আমলে আমরা বুঝতে পারি যে সেন্টমাটিন দ্বীপ দেখার মতো জায়গা। বাংলাদেশ আমলে আমরা টের পাই যে, দিনাজপুরের রামসাগর েএকটা দেখার মতো। সিলেটের রাতারগুল আর বরিশালের রিভারমার্কেটতো সেদিন কেবল প্রাদপ্রদীপের আলোয় আসতে পেরেছে। সাজেব, বগা লেক আরো অনেক গুলো কিছুদিন আগে থেকে মাত্র মানুষ যাতায়াত শুরু করেছে। সূতরাং কেউ আগে নিজে এসব বিষয়ে খোজখবর ও ভ্রমণ করে নিতে পারেন। নিজের ভ্রমনের আগ্রহ না থাকলে এই ব্যবসায় না আসাই ভালো।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

শত সহস্র বছরেও কি সমুদ্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণ এতটুকু কমেছে? কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্র সৈকতে লেখক
কিভাবে একটি ট্যুর প্যাকেজ তৈরী করা যায়?

এক্ষেত্রে স্থানকাল পাত্র বিবেচনায় নিতে হয়। বিবেচনায় রাখতে হয় টূরটা কি ধরনের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকের নাকি একই ধরনের বা গ্রুপের কিছু লোকের জন্য। ঋতু বা সময়টা বিবেচ্য। বিবেচনা যোগ্য হলো সময়। সাধারণত অপারেটর কোম্পানীগুলো অফসিজনে কাছাকাছি একদুইদিনের ট্যুর প্যাকেজ ঘোষনা করে এবং সেটা শুক্র শনিবার হয়। আর সজনে লম্বা ছুটিগুলোর জন্য লম্বা প্লান থাকে। তখন আবার ফ্যামিলি ট্যুর বেশী হয়। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় যেমন ধরুন আপনি উত্তরবঙ্গ ভ্রমনের একটি প্যাকেজ তৈরী করবেন তাহলে সেটা কেমন হরেত পারে। বিভিন্ন প্যাকেজের প্রতি খেয়াল রাখুন। আরসবচে ভালো হলো নিজে একবার দেশটা ঘুরে দেখুন।

Published : অক্টোবর ৮, ২০১৬ | 2000 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798