আয়নাবাজি ‘ র বাজিমাত

Published : অক্টোবর ১, ২০১৬ | 2558 Views

আয়নাবাজি ‘ র বাজিমাত

মুভি রিভিউ: আয়নাবাজি

রিভিউ: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

মুভি: আয়নাবাজি

ভাষা: বাংলা

পরিচালক: অমিতাভ রেজা চৌধুরী

প্রযোজক: কন্টেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড, হাফ স্টপ ডাউন

চিত্রনাট্যকার: গাউসুল আলম শাওন, অনম বিশ্বাস

গল্পকার: গাউসুল আলম শাওন, চঞ্চল চৌধুরী

মুক্তি: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অভিনয়ে: চঞ্চল চৌধুরী আয়না, মাসুমা রহমান নাবিলা, পার্থ বড়ুয়া, লুৎফর রহমান জর্জ, বৃন্দাবন দাশ, গাউসুল আলম ও ইফফাত তৃষা।

আয়না একজন অভিনেতা। এই সমাজের প্রভাবশালী লোকদের চরিত্রে সে অভিনয় করে। কিছু দিনের জন্য তাদের পাপের বোঝা মাথায় নেয়। তারপর সে কয়দিন সে ওই চরিত্রের মধ্যে থাকে এবং নিজেকে ভুলে যায়। মনস্তাত্বিকভাবে বিষয়টি জটিল ও ‍আগ্রহোদ্দীপক। এসবেরমধ্যে প্রতিবেশী এক রমনীর সাথে পরিচয় এবং প্রেম। আবার আয়নার পিছে লাগে এক অপরাধ সাংবাদিক। সাংবাদিক ইতোমধ্যে আয়নার বদলী আসামীর ব্যাপারটা জেনে যায়। কিন্তু সে কোনোভাবে আয়নার কাছ থেকে কিছু বের করতে পারে না বা কোনো তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ও করতে পারে না।

aynabaji-bg20160820124340

ভালোবাসা আয়নাকে একসময় বদলে দেয়। সে বাসা বদলিয়ে রিপোটারকে ফাঁকি দিতে পারে। আর তার এজেন্ট যে তাকে এসব বদলির কাজ পাইয়ে দেয় তার কাছ থেকে বাঁচার জন্য নিজের সীমটাও বদলে ফেলে। কিন্তু অপরাধ জগত থেকে বের হওয়া খুব সহজ নয়। নিজাম সাইদ চৌধুরী নামে এক রাজনীতিবিদ তাকে উঠিয়ে নিয়ে আবার বাধ্য করে ‍তার হয়ে তারই মেকআপ গেটআপ এবং চরিত্রবৈশিস্ট্য নকল করে নিজাম সাইদ নামে পুলিশের কাছে ধরা দেয়।

নেতা কথা দিয়েছিলো তাঁকে বাঁচাবে। কিন্তু ঘটনা বদলে যায়। ফাঁসির আদেশ হয়ে যায় তার। ব্যাপারটা চোখে পড়ে সাংবাদিক ‍সাবের হোসেন (পার্থ) এর সে রিদি (নাবিলা)কে জানায়। ভালোবাসার টানে রিদি জেলখানায় ছুটে গেলেও নিজাম সাইদ চৌধুরীরুপে আয়না তার চরিত্র থেকে বের হয়ে আসে না। এবং আইনের কাছে নিজের আসল পরিচয় বলে না। অন্যদিকে আসল নেতার কোনো খবর নেই। আবার খুন হয়ে যায় তার এজেন্ট।

গল্পের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু উপস্থাপনের গুনে সেটা কারো মনে আসেনা সহজেই। ‍অন্যসব সিনেমার মতো এখানেও আয়নার এই বদলী আসামীর পেশায় নামার যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে মায়ের ক্যান্সার। বাস্তবে অপরাধীরা হয়তো এমন হয়না। কিন্তু আয়না অপরাধী নয় সে একজন সহজ সরল ভালো মানুষ এবং ভালোভাবে জীবন যাপন করতে চায়। তারজন্য হয়তো গল্পের দিক থেকে এই কারণটা দরকার ছিলো। ছবিতো অনেক বৃষ্টির দৃশ্য ছিলো। আসলে এতগুলো বৃস্টির হয়তো প্রয়োজন ছিলো না। নায়ক বা নায়িকাকে ক্যামেরার সামনে আনার জন্য পরিচালক কোনো ঢং করেননি। এটা আরেকটা ইতিবাচক দিক। বোঝানো হয়েছে এটা নায়ক নায়িকার ছবি নয় গল্পের ছবি। দর্শক হয়তো একটা দ্বৈত গান আশা করেছিলো নায়ক নায়িকার ভালোবাসা জমে উঠার পর কিন্তু তা না থাকলেও কোনো অরপূর্ণতা চোখে পড়েনি। লোকেশনগুলো ছিলো খুবই চমৎকার এবং গল্পের সাথে বেশ যায়। আয়না বাচ্চাদের একটা স্কুল চালায় এটাকে মূল গল্পের সাথে সমন্বয় করার চেষ্টা সফল ছিলো।

aynabaji-3

কমলাপুর রেলস্টেশানে ট্রেণ চলে যাওয়ার পর যেভাবে ফাঁকা দেখানে হয়েছিলো বাস্তবে এমনটা হয়না। সেখানে  প্লাটফর্মে সবসময় কমবেশী লোক থাকে এমনকি সকালবেলায়ও। এটা দর্শকসারি থেকেই প্রশ্ন উঠেছিলো। মনে হলো ক্লোজ শর্ট এর পরিমাণ একটু বেশী ছিলো হয়তোবা ছবির নাম আয়নাবাজি বলে, অথবা মনস্তাত্বিকছবি ছবি অথবা পুরনো ঢাকার লোকেশন বলে। তবে সেগুলো গল্পের সাথে মানানসই মনে হয়েছিলো।

বুড়িগঙ্গার দৃশ্যগুলো খুব ভালো হয়েছে। প্রতিটি ফ্রেমকেই যত্নকরে নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। লাইটিং, নেপথ্যকন্ঠ, মিউজিক সব উৎরে গেছে। সংলাপগুলোও দর্শকদের ভালো লেগেছে। একটি চমৎকার টিমওয়ার্কের দৃশ্যায়ন হয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। সবগুলো চরিত্রথেকে অভনয় আদায় করার চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবেই নিতে পেরেছেন পরিচালক। শেষের দিকে দ্বৈত অভিনয়ের সময় মনে হয় একটু চিড় ধরেছিলো।শেষে দ্বৈত চরিত্রের খুব বেশী প্রয়োজন ছিলো কিনা জানি না। আয়নাবাজিতে একটা কিসিং সিন আছে। উত্তম সূচিত্রা ধাঁচের। দর্শক কিন্তু মজাই পেয়েছে মনে হয়।

নিজাম সাইদ চৌধুরী নাম শুনে দর্শক চট করে তিনটি নাম আবিষ্কার করে ফেলে তিন রাজনীতিবিদের। আরেফিন শুভর অল্প  উপস্থিতি চমকে দেয় দর্শককে। শেষ আয়না যেভাবে জেল পালায় সেটা হয়তো বাস্তবে সম্ভব নয়। কিন্তু তাতে গল্পের নাটকীয়তা ও বিষয় বক্তব্যের সাথে ‍সংঘর্ষ হয়নি এটাই বড়ো কথা। কিভাবে পালায় সেটা দর্শকরা হলে গিয়ে দেখলেই ভালো হবে। সবকিছু লিখে দিয়ে আকর্ষণ নষ্ট করতে চাইনা। দর্শকরা নিজ চোখেই একটি মৌলিক চিন্তার ভালো বাংলাছবি উপভোগ করুন, বরং সেটাই ভালো।

আর প্রথমদিনে হলভর্তি দর্শক মুহু মুহু আয়নাবাজি দেখেছে এটা বড়ো ইতিবাচক দিক। বাংলা ছবিতে আয়নাবাজি একটা নতুনমাত্রা যোগ করতে পেরেছে বলে আমার মনে হলো। প্রতিটি দিক ছবিটির যেভাবে সুন্দর হয়েছে। পরিচালানা আর চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় একেবারে লা জবাব। অন্যান্য পেশাদার অভিনেতারা তাদের নামের প্রতি সুবিচার করেছে। নাবিলায় তার জায়গায় বেশ ভালো করেছে। এমন একটা ছবির জন্য শুধু হলে বসে নয়। বাসায় এসেও হাততালী দিতে হয়।

Published : অক্টোবর ১, ২০১৬ | 2558 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798