• প্রচ্ছদ
  • /
  • ভ্রমণ
  • /
  • শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা: ভাটির বাঘের রাজধানীতে স্বাগতম

শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা: ভাটির বাঘের রাজধানীতে স্বাগতম

Published : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | 1740 Views

চম্পক নগর: ভাটির বীরের রাজধানীতে স্বাগতম

ফেনীর ছাগল নাইয়াতে ভারতীয় সীমান্তের কাছে চম্পকনগর ও সোনাপুরে স্থাপন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘শমসের গাজী রিসোর্ট’। সম্পূর্ণ বাঁশের তৈরি রিসোর্টে রয়েছে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা। রয়েছে ফেনী নদী ভ্রমণে ব্যবস্থা হিসেবে আধুনিক জলযান।  বাঁশের কেল্লাটিকে অত্যন্ত  অভিনব দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করা হয়েছে। মাটি ও মানুষের কাছে থেকে ইতিহাস দেখার একটা ব্যবস্থা বটে।  রিসোর্টের আঙিনায় স্থাপন করা হয়েছে শিল্পীর কল্পনায় আঁকা শৈল্পিক ঝরনা। খড়ের বেড়া, বাঁশের খুঁটি, ছনের চাল ব্যবহার করে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিপুনভাবে।  শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট।

শমসের গাজী রিসোর্ট

কিন্তু আসলে এখানে থাকার কথা ছিলো ফেণীর দোদন্ড প্রতাবশালী শাষক শমসের গাজীর রাজপ্রসাদ। কিন্তু সেকালের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তা পুরো নিশেষ হয়ে গেছে। ত্রিপুরার রাজার আক্রমনে। প্রতিহিংসা পরায়নভাবে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর শমসের গাজীকে হত্যা করে তার প্রাসাদ মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিলো।

শমসের গাজী বেশ কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধে স্থানীয় জমিদার ও পরে আগরতলা মহারাজকে পরাজিত করে ত্রিপুরা সিংহাসনে বসেন। ১৭৫০ থেকে ১৭৬১ সাল পর্যন্ত। মাত্র ১১ বছরে তিনি ফেনী ও সনি্নহিত এলাকায় প্রজাদের সুবিধার্থে খনন করেন বেশ কয়েকটি দীঘি, নির্মাণ করেন রাস্তাঘাট । সেযুগে  বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ দেয়ার চিন্তা চিলো খুবই দু:সাহসী এবং সুদূর প্রসারী।

ছাগলনাইয়া সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে ও পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শুভপুর বাজার থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চম্পকনগর গ্রাম।  এখানেই তিনি গড়ে তোলেন রাজপ্রাসাদ ও দরবার হল। ১৭৬১ সালে ইংরেজ ও ত্রিপুরা রাজের ষড়যন্ত্রে নিহত হন শমসের গাজী। আজও চম্পকনগর পাহাড়ে তার প্রাসাদের ভগ্নাংশ দেখতে পাওয়া যায়। শমসের গাজীর বংশধররা আজও ওই এলাকার সোনাপুর গ্রামে বাস করছেন।

বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট

 শমসের গাজী ত্রিপুরা জয় করার পর রাজধানী আগরতলা থেকে উদয়পুরে নিয়ে আসেন। সত্যিকার অর্থে তিনি রাজকাজ চালাতেন ফেনীর ছাগলনাইয়ার রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে চম্পকনগর গ্রাম থেকে। । রাজত্বকালে শমসের গাজী রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে চম্পকনগরে  ২০ কানি  ৩২ হাজার শতক জমি নিয়ে রাজপ্রাসাদ স্থাপন করা হয়। প্রাসাদের চারপাশে খন্দক খণন করা হয় নিরাপত্তার জন।  শমসের গাজীর প্রাসাদের দক্ষিণ পাশে চারটি পাহাড়কে পাড় বানিয়ে ওই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে তৈরি করা হয় রাজপ্রাসাদের ব্যবহারের উপযোগী একটি দৃষ্টিনন্দন দীঘি। এ দীঘি দর্শনার্থীদের মন আজও ভুলিয়ে দেয়। পাহাড়ের ভেতর সুড়ঙ্গ কেটে তৈরি করা হয় রানীদের দিঘীতে যাতায়াতের পথ। এটি এখনো শমেসের গাজীর সুড়ঙ্গ নামে পরিচিত। দীঘির অর্ধেক অংশ এখন বাংলাদেশের, অর্ধেক ভারতে অবস্থিত। স্থানীয় মানুষদের দাবী হলো দিঘী ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে ভারতের কাছ থেকে পুরোটাই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রনে আনার দাবী জানান স্থানীয় অধিবাসীরা। শমসের গাজী খাল কেটে বাঁকা নদীকে সোজা করেন। আজও নদীর এ স্থানকে কাটাগঙ্গা ও মরাগঙ্গা নামে অভিহিত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সরকার উদ্যোগ নিলে চম্পকনগর ও সোনাপুর গ্রামের অতীত ইতিহাসের অনেক নিদর্শন উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এর মাটির নিচে রয়েছে অনেক মূল্যবান অলঙ্কার ও যুদ্ধাস্ত্র।
13322184_261524590904810_4724885558280730204_n
 শমসের গাজী সম্পর্কে কিছু কথাঃ
 তথ্যসূত্র: “শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট” এর ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া।

বাঁশের কেল্লা (মালিক): ০১৭১৩ ৪৫৯৭১০

Published : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | 1740 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798