বরিশালের দূর্গাসাগর দিঘী: জলের ছায়ায় মনের ডানা

Published : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬ | 982 Views

বরিশালের দূর্গাসাগর দিঘী: জলের ছায়ায় মনের ডানা

গেট দিয়ে ঢুকতেই দীঘির পাড়ে মিলবে হরিণ। জলে ভেসে বেড়াচ্ছে রাজহাঁস। চারপাশে প্রচুর সবুজ বৃক্ষের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আর পাখির কলকাকলিতে মনে হবে প্রকৃতি অফুরন্ত রূপের ডানা মেলে দিয়েছে এই ‘দুর্গাসাগর’ দীঘি ঘিরে।

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা গ্রাম। মাধবপাশা ছিল চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের সর্বশেষ রাজধানী। ১৭৮০ সালে তৎকালীন রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী দুর্গা রানীর নামে খনন করেন এক বিশাল জলাধার। যার নাম দেওয়া হয় ‘দুর্গাসাগর’। রাজ্য নেই, রাজাও নেই। তবে

দুর্গাসাগর দীঘিটি এখনও  জীবন্ত হয়ে ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীঘিটি পুনঃখনন করা হয়। ১৯৯৬ সালে এ দীঘিকে ‘দুর্গাসাগর দীঘি উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারণ্য’ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে পরিণত করা হয়েছে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে। দীঘিটির এখন তত্ত্বাবধান করছেন বরিশাল জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান সমকালকে জানান, পর্যটকদের কাছে দুর্গাসাগরকে নিরাপদ ও আরও আকর্ষণীয় করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের দেওয়া উপহার দুটি হরিণ রাখা হয়েছে দীঘিপাড়ে। দীঘির অভ্যন্তরের চার পাড় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় নেওয়া হয়েছে, যাতে করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। পুরনো ঘাটলাগুলো টাইলস দিয়ে সংস্কার এবং দীঘির চারপাশে পর্যটকদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। দুই শতাধিক দেশি ও রাজহাঁস ছাড়া হয়েছে জলে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, শিশু দর্শনার্থীদের জন্য দীঘির অভ্যন্তরে প্রাণীর উপস্থিতি আরও বাড়ানো হবে। দীঘির জলে ভেসে বেড়াতে প্যাডেল বোট নির্মাণ কাজ চলছে। দীঘির মাঝখানের দ্বীপটিকে চিত্তাকর্ষক করতে সেখানে বাঘ, সিংহ ও জিরাফের ভাস্কর্য স্থাপন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে পিকনিক শেড ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ। গত বর্ষা মৌসুমে বিপুল সংখ্যক ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে দীঘির চারপাশে। দুর্গাসাগর যেহেতু নগরীর খুব কাছাকাছি, সে কারণে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের উন্নয়ন ও নজরদারিতে গত প্রায় এক বছর ধরে দর্শনার্থী আয়ও বেড়েছে পাঁচ গুণ। দেড়-দুই বছর আগেও মাসে আয় ছিল ১০-১৫ হাজার টাকা। এখন তা প্রায় লাখের কাছাকাছি উন্নীত হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সারা বছরই বনভোজন ও ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশ মূল্য এবং গাছের চারা বিক্রি করে আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম খননের ১৯৪ বছর পর ১৯৭৪ সালে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দীঘিটি পুনঃখনন করেন তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত। তখন দীঘির মাঝখানে একটি দ্বীপ তৈরি করা হয়। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর উদ্যোগে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘দুর্গাসাগর দীঘি উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারণ্য’ প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়। তখন দুর্গাসাগর দীঘির চারপাশে নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ ও অভ্যন্তরে সৌন্দর্য বর্ধনের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। দীঘিটির মোট আয়তন ৪৫.৫৫ একর। চারপাশে চারটি ৫০ ফুটবিশিষ্ট পাকা ঘাট, মাঝ বরাবর একটি দ্বীপ দীঘিটিকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। লম্বায় ১৯৫০ ফুট ও প্রস্থে ১৭৫০ ফুট দীঘিটির চারপাশে বিশেষ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি জানান, দুর্গাসাগর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পর্যটন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পর সেটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

দূর্গাসাগর: অফুরন্ত রূপের ডানা
সূত্র: দৈনিক সমকাল, পুলক চ্যাটার্জি,

Published : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬ | 982 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798