সাজেক ভ্রমণ: মেঘ পাহাড়ের দেশে চল

Published : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ | 3221 Views

সাজেক ভ্রমণ: মেঘ পাহাড়ের দেশে চল

জাহাঙ্গীর আলম শোভন
কবি সুনির্মল বসুর সবার আমি ছাত্র কবিতাটা নিশ্চয় আপনাদের মনে আছে। স্কুল জীবনের অন্যতম প্রিয় কবিতা এটি। আকাশ আমায় শিক্ষা দিল , উদার হতে ভাই রে,/ কর্মী হবার মন্ত্র আমি, বায়ুর কাছে পাই রে।/ পাহাড় শিখায় তাহার সমান- হই যেন ভাই মৌন-মহান,/ খোলা মাঠের উপদেশে- দিল-খোলা হই তাই রে।

সাজেক

পাহাড়ের কাছে আমাদের শেখার রয়েছে। যে কিভাবে মৌন ও মহান হওয়া যায়। বড়ো হয়েও কিভাবে শান্ত থাকা যায়। বিশাল হয়েও কিভাবে নিরংকার হওয়ার যায়। উন্নতশীর হয়েও কিভাবে অবনতশীরে মানবকল্যানে ব্রত হওয়া যায়। সমুদ্র বা পাহাড়ের কাছে আমরা অনেকে শুধু সৌন্দর্য দেখতে যাইনা শিক্ষাও নিতে যাই। আর সাজেক হলো আপনার সেই শিক্ষার একটা বিদ্যালয়। বাংলাদেশকে বলা হয় School of Life. জীবনের ইশকুল থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য সাজেক বেশভালো একটা ক্লাসরুম।

সারি সারি পাহাড়। যেদিকে দুচোখ যায় যেন পাহাড় আর পাহাড়। এযেন অন্য এক বাংলাদেশ আর তার অন্য এক প্রতিচ্ছবি। কবির কল্পনা শিল্পীর ক্যানভাসকে হারমানিয়ে উচু নিচু পাহাড়ী টিলাগুলো চলে গেছে আকাশের দিগন্তে। আর সকালের সোনারোদ আসার আগে সবুজ পাহাড়ের উপর কে যেন ছিটিয়ে গেছে এক চিলতে মেঘের ফালি। এযেন আমাদের দার্জিলিং। একেবারেই আমাদের। আমাদের নিজেদের। আমাদের বাংলাদেশের।

17770979168_ab53c6b4eb_b
সাজেকের উদার উন্মুক্ত আকাশ আর তারকারাশির নিচে পৃথিবীটো যেন অন্যকোনো গ্রহ।পূর্ণিমায় যখন চারদিকে চাঁদের আলোয় আলোকিত হয় পাহাড়ের চূড়া। তখন স্বর্গীয় এক ব্যঞ্জনা সৃষ্টি হয় পুরো পাহাড়ী পাড়াজুড়ে। জ্যোৎস্না রাতেও  পাহাড়ের ভাঁজে জেগে উঠছে ধবধবে ঘন সাদা কুয়াশা। এমনই যেন মেঘের দল ভিড় করেছে আমাদের আঙিনায়।এরকমই মেঘের ভেলায় ডুবে থাকা পাহাড়ের চূড়াকে মনে হবে সাগরের দ্বীপরাশি। অপার্থিব রাত ভোর হয়ে গেলে মেঘের উপর আছড়ে পড়ে নতুন দিনের সোনারী রোদ্দুর। হলুদিয়া নদী, সবুজিয়া পাহাড়ী বন, সব যেন জেগে ওঠে চোখের সামনে।

sajek

শুধুযে সাজেক আপনার জন্য সুন্দরের বিছানা পেতে রেখেছে তা নয়। খাগড়াছড়ি আর রাঙামাটির পুরোপথ আপনাকে স্বাগত জানাবে প্রকৃতির মমতামাখা আহবানে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এঁকে বেঁকে চলে গেছে কাচালং নদী।  বাঘাইহাট বাজারের পর গঙ্গারাম মুখ।নদীর মুখ। দুপাশ থেকে বয়ে আসা দুটি নদী এক হয়েছে তারপর পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে  গেছে বর্নালী পথ ধরে। খোলা আকাশের নিচে সবুজে ছাওয়া বনভূমি, পাহাড়ের কোলে জুম চাষ, উড়োবাজার, গঙ্গারামমুথ,  মাচালং বাজার, মাচালং নদী। সুন্দর পথ কিছুটা ঝুকিও রয়েছে।  বন্ধুর পথ, নতুন বা সমতলের গাড়ীচালকদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং। তাইতে এখানে চাঁদের গাড়িউ ভরসা।  দুইপাশেই আকাশছোঁয়া পাহাড়ের বুকে উন্নত শির তুলে গাছের সারি। তার মাঝেই বাঙালী পাহাড়ীদের মিলিত
তারপর আপনি পৌঁছে যাবেন রুইলুই পাড়ায়। এটাই সাজেক উপত্যকার  কেন্দ্র। রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। একসময় এটা পুরোদেশ থেকে বিচ্ছিন্নছিলো যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিলো না। এখন বদলে গেছে দৃশ্যপট। এ পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল-সবুজ।
15793573532_b1162dc68f_b
সাজেকে ঘুরে দেখার জন্য এখানকার প্রকৃতি আর মানুষকেই বেছে নিতে হবে। এখানকার নিজস্ব সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও খাবার কোনোটাই আপনাকে হতাশ করবেনা। এখান পাড়া থেকে ২০ মিনিটের হাঁটা পথ কংলাক পাড়া। যেখানে পাংখোয়াদের বসবাস  বিশাল পাথরের আড়ালে তাদের নিরিবিলি পাড়া। এই কংলাক পাথরচূড়ায় দাঁড়িয়ে দেখুন পুরো সাজেকের অপরুপ রুপ মাধুরী।

সাজেক যাওয়ার পথে বাঘাইহাট জোনে আপনার নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর এট্রি করতে হবে। এটা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত। সাজেক অনেক দুর্গম জায়গা। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। যাও আছে তা মূলত সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর। উঁচু জায়গা বলে পানীয় জলের সংকট আছে। তাই খাওয়ার পানি সঙ্গে নেয়া উচিত।

যেভাবে যাবেন
অবস্থানগতভাবে রাঙামাটিতে হলেও সাজেকে যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি থেকে ৬২ কিলোমিটার।দিঘীনালা থেকে  দু ঘন্টা মতো লাগে। ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহন, বিআরটিসি (এসি বাস), সেন্ট মার্টিন (এসি বাস), শ্যামলী, সৌদিয়া, ঈগল, এস.আলম পরিবহনে  দিঘীনালায় সরাসরি যাওয়া যায়। ভাড়া ৬০০ টাকা । অথবা ফেনী গিয়ে ফেনী থেকে খাগড়াছড়ির গাড়ি রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘন্টায় গাড়ি ছাড়ে, ভাড়া ১৯০ টাকা।
খাগড়াছড়ি অথবা দিঘীনালা থেকে ভাড়ায় চাঁদের গাড়ি, ৩ হাজার ৫শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা, সিএনজি ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা অথবা মোটরবাইক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ রির্জাভ করে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন।

যেখানে থাকবেন

থাকার জন্য আছে, রূনময় রির্সোট (বিজিবি পরিচালিত), সাজেক রির্সোট (সেনাবাহিনী পরিচালিত) আলোর রির্সোট এবং ক্লাব হাউস। সাজেকবাসীদের পরিচালিত কয়েকটি দোকানে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে সেক্ষেত্রে আগেই তাদের জানাতে হবে।
বাংলাদেশের সেরা অনলাইন পেমেন্টন গেটওয়ে ওয়ালেটমিক্স লিমিটেড ও চলবে ডট কম যৌথভাবে আয়োজন করেছেণ সাজেক ট্যূুরের। যেকোনো মাচেণ্ট যাদের অনলাইনে বিজনের রয়েছে তারা ১২ হাজার টাকায় পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে ওয়ালেটমিক্স এর তত্বাবধানে দুইদিনে ঘুরে আসতে পারবেন সাজের ও্র খাগড়াছড়ি। (১২ হাজার টাকা এর রেগুলার রেট। আর ভ্রমনটা বাড়তি পাওনা)

যোগাযোগ: ০১৯৭৪ ০০২২৪৪

www.walletmix.com, www.Cholbe.com

Published : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ | 3221 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798