মালকা বানুর দেশেরে আসতে পারেন সফরে

Published : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ | 2390 Views

মালকা বানুর দেশেরে আসতে পারেন সফরে

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

মালকা বানুর দেশেরে, বিয়ার বাইদ্য আল্লা বাজেরে।/ মালকা বানুর সাতও ভাই, অভাইগ্যা মনু মিয়ার কেহ নাই।/ মালকা বানুর বিয়া হইবো, মনু মিয়ার সাথেরে।

পুতুল নাচ: মালকা বানু ও মনু মিয়া

লোককথার সেই মালকা বানু ও মনুমিয়ার গল্প ও যাত্রাপালার সাথে আমাদের আজকের প্রজন্মের পরিচিতি নাও থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের মূল শিকড় এবং একেবারে নিজস্ব গৌরবের বিষয় হলো আমাদের লোক সাহিত্য। কারণ এমন সমৃদ্ধ, জীবনমূখী ও পুরনো লোকসাহিত্য পৃথিবীর কোনো জাতির নেই।

সেই আমাদের লোকসাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে মালকাবানু ও মনুমিয়ার প্রেমের উপাখ্যান। এই প্রেমকাহিনী তখন সারাদেশময় আলোড়ন তুলেছিলো। চট্টগ্রামের মালকা বানু-মনু মিয়ার প্রেম উপখ্যান ইতিমধ্যে লোকগাথা, যাত্রাপালা, মঞ্চনাটক ও পূর্নদৈর্ঘ্য চলচিত্রও নির্মিত হয়েছে।  তাদের প্রেম উপাখ্যান কোনো রূপকথার গল্প নয়,  মালকা বানু মনু মিয়ার প্রেম উপাখ্যান ছিল বাস্তবভিত্তিক প্রেম কাহিনী। জনশ্রুতি আছে মালকা বানু ও মনুমিয়ার বিয়ে হয়েছিলো খুব ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে। একমাস ধরে চলেছিলো তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান। আর সেই বিয়েতে বিভিন্ন স্থান থেকে শিল্পীরা এসে গান পরিবেশন করেছেন। তারমধ্যে এই গানটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। এমনকি এখনো গ্রামে গঞ্জে গানটি বেশ লোকপ্রিয়।

ইতিহাস খ্যাত এই মালকা বানু –মনু মিয়ার প্রেম উপাখ্যানের স্বাক্ষী চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সরল ইউনিয়েনে অবস্থিত মালকা বানুর মসজিদ ও দীঘি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মালকা বানুর পিতা আমির মোহাম্মদ চৌধুরী  ছিলেন প্রভাবশালী  জমিদার। তার আট সন্তানের মধ্যে একমাত্র কন্যা  মালকা বানু চৌধুরী। মালকা বানু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আনোয়ারার জমিদার পুত্র মনু মিয়ার সাথে। তাদের এই বিবাহের পূর্বে মিলন বিরহের ঘনঘটা পূর্ণ কাহিনী ছিলো। মালকা বানুর সাত ভাই আর মনুমিয়ার গল্প সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে যাত্রাপালার মাধ্যমে।

মালকা বানুর মসজিদ

তাদের সংসার জীবন ছিলো ঝাঞ্ঝাবিক্ষুব্দ। এক কন্যা সন্তানের জন্ম হলে মালকা বানু স্বামীর সাথে অভিমান করে পিতৃবাড়ী বাশখালীর সরলে চলে আসেন। সরলে মালকা বানুর মসজিদ ও দিঘী নামে মসজিদ এবং দীঘি রয়েছে তা মালকা বানুর পিতা আমির মোহাম্মদ নির্মাণ করে বলে দাবি করেন বলে জনম্রুতি রয়েছে। যদিও তা কালক্রমে মালকাবানুর মসজিদ ও দিঘী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এতে ফার্সী ভাষায় একটি শিলালিপিও ছিলো।

কিন্তু বর্তমানে স্মৃতিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিশাল দীঘিটিও বর্তমানে ভরাটের দ্বারপ্রান্তে।

Published : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ | 2390 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798