শাহপরীর দ্বীপ বেড়াতে আসুন ভিন্ন স্বাদের ভ্রমনে

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1499 Views

শাহপরীর দ্বীপ বেড়াতে আসুন ভিন্ন স্বাদের ভ্রমনে

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

শাহপরীর দ্বীপ ঘাট

সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম। পূর্বে এটি একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ছিল,কালক্রমে মূল ভূখন্ডের সাথে কিছুটা আলাদা বা কিছুটা যুক্ত হয়ে আছে। মাঝখানে একটি কাঁচা রাস্তা আর লবণ মাঠ। মাঠের দূরে দেখা যাবে সমুদ্রের কুয়াশাময় ছায়া, আর দিগন্তজোড়া উদার উন্মুক্ত আকাশ। মাঝে মধ্যে আপনাকে অতিক্রম করবে জেলেদের দল কাঁধে থাকবে মাছের ভার, মোটর সাইকেল নিয়ে লবণ ক্ষেত দেখতে আসবে লবণ ব্যবসায়ীরা। কখনো স্পিডবোটও দেখবেন। আর একটু পর পর বিজিবির চেটপোস্ট।

শাহপরীর দ্বীপ, লবণমাঠ

শাহপরীর দ্বীপের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে শাহ সুজারস্ত্রী পরীবানু ও শাহ সুজার ‘শাহ’ শব্দ যুক্ত হয়ে

শাহপরী হয়েছে, কারো মতে ‘শাহ ফরিদ’ আউলিয়ার নামে দ্বীপের নাম করণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। অন্যএকটি বর্ণনায় জানা যায় অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি সা’বারিদ খাঁ’র ‘হানিফা ও কয়রাপরী’ কাব্য গ্রন্থের

অন্যতম চরিত্র ‘শাহপরী’। রোখাম রাজ্যের রাণী কয়রাপরীর মেয়ে শাহপরীর দ্বীপের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে।

শাহপরীর দ্বীপ

শাহপরীর দ্বীপের শেষপ্রান্তের মসজিদ

লবণমাঠ পেরিয়ে জালিয়াপাড়া বা জেলেপাড়া এখানে জেলেদের বাস সমুদ্রকে বুকের সামনে ধরে তাদের জীভনের বাঁচামরার লড়াই। আশপাশের নিচু জলাশয়গুলোতে বক, সারস আর গাংচিলের কিচির মিচির ডাক তাদের দলবেঁধে চরে বেড়ানো আপনার মনকে আন্দোলিন করবে ছবি তুলতে প্রলুব্দ করবে। এখানে একদিকে সমুদ্র সৈকত অন্যদিকে জেলেদের বসতি। সে অন্যে এক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশ এখানে না আসলে হয়তো কোনোদিন দেখা হবেনা।

জালিয়া পাড়া

শাহপরীর দ্বীপ আপনাকে ভালোভাবেই স্বাগত জানাবে। এখানে একটি ঘাট রয়েছে। যেখান থেকে কোনো একসময় জলযানগুলো ছেড়ে যেত টেকনাফের উদ্দেশ্যে। এখানে এলজিইডির একটা রেস্টহাউস আছে আগে থেকে যোগাযোগ করে গেলে এখানে থাকতে পারবেন। এখানে সমুদ্র সৈকত দেখতে পারেন দক্ষিণ পাড়ায়। নিরিবিলি গ্রামীন পরিবেশে সমুদ্র দেখা সে আরেক ভিন্ন অনুভূতি। যেতে পারেন সর্বদক্ষিনের গোলাপাড়ায়। গোলাপাড়া যদিও পুরোটা এখন সমুদ্রের বুকে তলীয়ে গেছে বাঁকী আছে কেবল একটি মাত্র বাড়ী। এখানে বিস্তীর্ণ চরে দাড়ালে আপনি সূর্যাস্ত সূর্যোদয় চন্দ্রাস্ত চন্দ্রদয় সব দেখতে পারবেন। মনে হবে সমূদ্রের মাঝখানেই আছেন আপনি। কিছুটা ছেড়াদ্বীপের মত শুধু এখানে প্রবাল পাথর নেই।

শাহপরীর দ্বীপ

শাহপরীর দ্বীপে যাওয়াটা কিছুটা কষ্টকর। শাহপরীর দ্বীপ  টেকনাফ মূল ভূখন্ড এর সাথে একটি কাঁচা ভাঙ্গাচোরা সড়ক দিয়ে যুক্ত। শীতের দিনে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় অটোরিক্সা ভাড়া ও লোকাল পাওয়া যায়। টেকনাফ শহর থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া। শাহপরীর দ্বীপের ফেরীঘাটের সামনে নামিয়ে দেবে। আর বর্ষাকালে এপ্রিল থেকে অকটোবর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে হলে নৌকা বা ট্রলারে যেতে হয়। কারণে তখন কাঁচারাস্তাটি কর্দমাক্ত থাকে এমন অনেক জায়গায় ভেঙ্গে যায়। শাহপরীর দ্বীপ টেকনাফ উপজেলা সদর এর দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার।

আমার জন্য শাহপরীর দ্বীপ ও গোলারচর স্মৃতিময় স্থান। কারণ ২০১৬ সালে পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণকালে আমি সেখানে আমার পদযাত্রা সম্পন্ন করি। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে।

শাহপরীর দ্বীপ

শাহপরীর দ্বীপে তিনটি ভিন্ন সৈকত রয়েছে। এগেুলোতে লাইফ গার্ডের ব্যবস্থা। জোয়ার-ভাটার সাংকেতিক কোন চিহ্নও থাকে না যদিও স্থানীয় লোকেরা বুঝতে পারে। তাই সমুদ্র স্নানে নামলে আগে থেকেই নিজ দায়িত্বে জোয়ার ভাটা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ভাটার সময় সমুদ্রে নামা যাবে না।

ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1499 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798