শালবনবিহার: ইতিহাস যেখানে দন্ডায়মান

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 2364 Views

শালবনবিহার: ইতিহাস যেখানে দন্ডায়মান

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আমরা কুমিল্লার রস মালাই এবং খাদি বা খদ্দরের কথা জানি। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ কুমিল্লা আরো অনেক কারণে বিখ্যাত। এখানে ঐতিহাসিক নানা নির্দশন রয়েছে। এখানো কুমিল্লা শহরের পুরনো বাড়ী আর স্থাপনা সেইসব গৌরবময় দিনের স্মৃতি বহন করে।

কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার প্রধান। এর আশেপাশে আরো কয়েকটি মূড়া বা বিহার রয়েছে। এগুলো একই সার্কেলের অন্তভূক্ত। শালবিন বিহার খননের পর এখানে বিভিন্ন যুগের স্থাপত্য নির্দর্শণ পাওয়া গেছে। মূল বিহারে ছিলো ১১৫টি কক্ষ। ধারণা করা হয় এগুলোতে ভিক্ষুরা থাকতেন।

ময়নামতি

৫৫০ ফুট বাই ৫৫০ ফুট পরিমাপের একটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমানে এটি জনসাধরনের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। একে ‘শালবন বিহার’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। খ্রিস্টীয় সাত শতকের মধ্যভাগ হতে আট শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেব বংশের শাসকগণ এই অঞ্চল শাসন করেছেন। দেব বংশের শাসনামলে চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক এই ‘মহা বিহার’ নির্মিত হয়। আসলে এর নাম ছিলো ‘ভবদেব মহাবিহার’।

মধ্যভাগে মূল  মন্দির, মূল মন্দিরের চারপাশে ছোট ছোট ১২টি মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছে। উত্তর বাহুর মধ্যবর্তী স্থানে বিশালাকার তোরণ এই বিহারের বিশেষ আকর্ষণ।  বিহারের চারদিকের দেয়াল ৫ মিটার পুরু। চুন ও সুরকিংর তৈরী দেয়ালগুলো এখনো রয়েছে।

এইসেই কূপ

এইসেই কূপ

বিহারের সামনে একটি প্রচীন ও কূপ উন্মোচিত হয়। পানীয় জলের জন্য এটি ব্যবহার করা হতো। কূপটির সময়কাল আনুমানিক সাত হতে আট শতক। এখানে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে, পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জের মূর্তি, নকশাকৃত ইট, সিলমোহর ও বিভিন্ন মূল্যবান মুদ্রা। এগুলো পাশ্ববর্তী যাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা আছে। শালবন বিহারের ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন সময়ের নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়।  ইতিহাস ও প্রকৃতি এই দুয়ে মিলে  কুমিল্লা শালবন বিহারে ভিন্ন এক আবহ তৈরি করে করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয় এখানে।ৎ

ভবদেব বিহার

পাশেই রয়েছে রুপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া ও লতিকোট মূড়া নামে সমসাময়িক আরো কয়েকটি প্রত্নতাত্তিক নির্দশণ। এগুলোতে আপনি ইতিহাস ঐতিহ্যের নানা বিষয় জানতে পারবেন। জানতে পারবেন বাঙালীর পূর্বপুরূষদের সম্পর্কে। এখানে একসময় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা হতো। ঐতিহাসিক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানেও একসময় দেশবিদেশ থেকে বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা নিতে লোকেরা সমাগম করতো।

শালবন বিহার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সপ্তাহে সাত দিনই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুধুমাত্র বছরের দুই ঈদের দিনই বিহারটি বন্ধ । টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ২০ /=

কুমিল্লা

শালবন বিহার দেখা ছাড়াও আছে দেশের সবচে উচু ৩০ ফুট উঁচু একটি বৌদ্ধ মন্দির।  লালমাই পাহাড়, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বার্ড। ওয়ার সিমেট্রি, সেনানিবাস জাদুঘর ইত্যাদি। ভ্রমণ শেষে যাওয়ার সময় কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদির পোশাক ও রসমালাই নিতে ভুলবেন না।

আসতে হলে:

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বাস সার্ভিস তিশা, এশিয়া লাইন, রয়েল, প্রাইম, কর্ডোভা হয়ে আসতে পারেন। ঢাকা থেকে কুমিল্লা শহরের দূরত্ব মাত্র ৯৬ কিলোমিটার। তবে নামতে হবে কুমিল্লা কোটবাড়ী গেট বা ময়নামতি ক্যান্টমেন্ট এর সামনে এখান থেকে ছোট গাড়িতে করে কোটবাড়ী বা শালবন বিহার।

আর যারা চট্টগ্রাম থেকে আসতে চান তারা কুমিল্লার বাসে আসলে প্রথমে কুমিল্লা শহরে বা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে থেকে সিএনজি, অটোরিকশা যোগে অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারেন কুমিল্লা শালবন বিহারে।

আর যদি ঢাকার বাসে আসেন তাহলে কোটবাড়ী রোডের মাথা বা ক্যান্টনমেন্ট গেটে নামতে হবে।

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 2364 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798