কুদুম গুহা: বুনো ভ্রমনের বুনো শিহরণ

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1118 Views

কুদুম গুহা: বুনো ভ্রমনের বুনো শিহরণ
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

টেকনাফের গেম রিজার্ভ বাংলাদেশের একমাত্র গেম রিজার্ভ বন। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেক নিদর্শন হিসেবে শোভিত হচ্ছে স্থানীয় তৈঙ্গাচূড়া।  এই চূড়া বেশ খাড়া। এটি সমূদ্রপৃষ্ট এক হাজার ফুট উপরে। এখান থেকে বঙ্গোপসাগর, নাফ নদী, মিয়ানমার সীমানার পাহাড় শ্রেণী এবং গেম রিজার্ভের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

কুদুম গুহা

গেম রিজার্ভের অভ্যন্তরে রইক্ষ্যং এলাকায় কুদুমগুহার অবস্থান। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বালু-মাটির পাহাড়ী গুহা। কুদুমগুহা প্রচুর বাদুড়দের আশ্রয়স্থল। তাই এটিকে বাদুড় গুহা বলেও । কুদুমগুহায় দুই প্রজাতির বাদুড় ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির শামুক, মাকড়সা এবং যখন পানি ‍ওঠে তখন জলচর জোঁকসহ নানা প্রাণীদের বাস।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় মুছনী গ্রামে অবস্থিত গেম রিজার্ভ এর ভেতরে কুদুমগুহা। স্থানীয়রা বলে কুদুং। দুর্গম পাহাড় অতিক্রম করে এই গুহায় যেতে হয়। এখানকার রোমাঞ্চকর পথ এবং গুহার ভেতরে প্রবেশ করার জন্য অবশ্যই গাইড বা বনবিভাগের প্রহরীর সাহায্য নিতে ভুলবেন না।

গেম ফরেস্ট

গুহার ভেতরে প্রবেশ করে আপনি হয়তো আদিম যুগে হারিয়ে যাবেন। বাঁদুড়ের হাক ডাক আর ওড়াউড়ি, সাথে বোটকা গন্ধ।  বাদুড়-চামচিকা থাকলে সেখানে সাপ থাকতে পারে তাই খুব সাবধানে এবং মশাল নিয়ে এগুতে হবে। বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে পাহাড় বেয়ে এতে পানি নেমে আসে, এখানকার পানি বেশ ঠান্ডা এখানে তখন জোঁক থাকে। পানিতে মিঠাপানির মাছও দেখতে পারেন।

img_20160323_131524

এছাড়া এখানে আছে টেকনাফ নেচার পার্ক টেকনাফ শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার উত্তরে দমদমিয়া পাড়ায়  নেচার পার্ক অবস্থিত। জঙ্গলের ভেতরে ভ্রমণের হাঁটার জন্য তিনটি পাহাড়ী বুনো পথ রয়েছে। বন গাইডের সহায়তায় ট্রেলিং করা যায় এখানে। পাশে রয়েছে একটি চাকমা গ্রাম। সময় পেলে একবার ঢু মেরে আসতে পারেন সেখানে। তবে গুহায় প্রবেশ করতে চাইলে বাড়তি কাপড় সাথে রাখবেন।

 

যেতে হলে: টেকনাফ থেকে ৩৫ কিঃমিঃ, কক্সবাজার থেকে প্রায় ৫০ কিঃমিঃ এসে নামতে হবে হোয়াইকং বাজারে।বুঝতেই পারছেন এখানে আসার জন্য আপনাকে প্রথমে কক্সবাজার বা টেকনাফে আসতে হবে। হোয়াইকং-শাপলাপুর রোডে মিনিট পনেরো গেলেই একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নামতে হয়।  হোয়াইকং বাজারে বনবিভাগের একটা বিট অফিস  হোয়াইকং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অবশ্যই পুলিশ এসকটও নিতে পারেন, যদি মনে করেন অন্যকোনো ঝুঁকি থাকতে পারে।

থাকতে হলে: টেকনাফে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল নে টং ( ফোন :০৩৪২৬-৭৫১০৪, এসি দ্বৈত কক্ষ ১৯০০ টাকা, এসি স্যুইট ৩১০০ টাকা এবং সাধারণ দ্বৈত কক্ষ ১৩০০ টাকা)।  আগে যোগাযোগ করলে ২০% কমিশন পেতে পারেন। আর এটা টেকনাফ শহর থেকে তিনকিলোমিটার বাইরে নাফ নদীর কিনারায় পাহাড় ঘেষে। এর ভেতরে আবার মেবাইলের নেটওয়ার্ক থাকেনা। পর্যটনের এ মোটেলটি টেকনাফ শহরের বাইরে। টেকনাফ শহরেও কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। এসব হোটেলে ৩০০-১২০০ টাকায় কক্ষ পাওয়া যাবে। এখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি একেবারে যা তা। তাই গরমে আসলে সর্তক থাকবেন।

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1118 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798