চুনুতির বন উদাস করে মন

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1529 Views

চুনাতির বন

চুনুতির বন উদাস করে মন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

চুনাতির বন

চুনাতি বা চুনুতি অভয়ারন্য বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ১৯৮৬ সালে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও অভয়ারন্যগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে বন্য এশিয় হাতির যাতায়াতের জন্য অন্যতম করিডোর হিসেবে ব্যবহার হয় এই বন। গাতির চলাচলের নির্দিষ্ট কিছু রুপ রয়েছে এই বনে। তাই এই অভয়ান্য অত্যন্ত গুরুত্বফপূর্ণ। যা চট্টগ্রামের বাশখালি, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৭৭৬৪ হেক্টর বা ৭৭ বর্গকিলোমিটার জুড়ে এই বন বিস্তৃত।

img_20160322_131626

এখানে রয়েছে শতবর্ষী মাদার গর্জন গাছ এবং গর্জন, রাকতান, কাম, চাপালিশ, শিমূল, কড়ই প্রভৃতি। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ এবং লতাগুল্মের ও দেখা মেলে এ বনে। বর্তমানে চুনাতি বনে প্রায় ১২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ দেখা যায় যার মধ্যে প্রায় ৪৫ প্রজাতির উচু গাছও রয়েছে। চট্টগ্রামের লোহাগড়া থানার শেষ প্রান্তে এর অবস্থান। লোহাগড়ার শেষের দিকে রাস্তা বাঁক নিতে শুরু করে আর আস্তে আস্তে লোকালয় কমে যায় আর ঘণ হতে থাকে গাছের সারি।

চুনুতি অভয়ারন্য

চুনুতি মূলত পাহাড়ী বন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই অভয়ারণ্যের গড় উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার। উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্যও সুপরিচিত। বনের ভেতর দিয়ে বহু সংখ্যক প্রাকৃতিক খাল বা পাহাড়ি ছড়া একেবেকে বয়ে গেছে যা অভয়ারণ্যে বাস করা প্রাণীদের জন্য পানির উৎস হিসেবে কাজ করে।  এখানে  হাতি, কয়েক ধরনের বিড়াল, বন্যশুকর, হনুমান প্রভৃতি প্রানী এবং কাঠঠোকরা, ছোট বসন্ত বৌরি, বনস্পতি, কানাকুয়া, আবাবিল, টিলাঘুঘু, ফিঙ্গে, বনময়না, ভাত শালিক প্রভৃতি পাখি। এ ছাড়া চুনাতি অভয়ারণ্যের ছড়াও মিস্টিপানির মাছসহ বেশ কিছু জলজ প্রাণীও দেখতে পাওয়া যায়।

চুনুতি ভ্রমণ

সম্প্রতি বনবিভাগ একে পর্যটকদের ঘোরার জন্য টিকেট ও বিনের ম্যধ্যে শর্তসাপেক্ষে হাঁটার অনুমতি দিয়ে থাকে। বনবিভাগের স্থানীয় অফিস বিষয়টি তদারক করে। এখানে আধামিটার থেকে তিনমিটার পর্যন্ত বনপথ রয়েছে। যা মহাসড়কের সাথে যুক্ত। তিনচার কিলোমিটার আঁকাবাকা পথ চাইলে ভ্রশণ করে আসতে পারেন।

চুনুতির গেট

গাছের ছায়া, পাখির কুজন আর পাহাড়ী ছড়ার কুলুকুলু বয়ে চলা জল আপনার মনকে ভিন্ন এক দোতনায় আন্দোলিত করবে। প্রকৃতির ও বৃক্ষের কাছাকাছি থাকতে যারা পছন্দ করেন তাদের ভ্রমণ তালিকায় এই বন আদর্শ হতে পারে।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে এর অবস্থান  জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এর পাশেই রয়েছে আরো দুটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান। ঐতিহাসিক যাত্রাপালায় উল্লেখিত মালকাবাণুর মসজিদ। সেই মালকাবানু যার যাথে মনুমিয়ার বিয়ে হয়।

img_20160322_110336

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের বাসে উঠে চুনুতি নামতে হবে। এমনকি চুনুতির বনবিভাগের অফিসের সামনেও নামা যাবে। খাওয়ার জন্য চুনুতি বাজারে প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া যাবে। থাকার জন্য রয়েছে বনবিভাগের ২ কক্ষের একটি বাংলো। পাহাড়ী বাংলোতে রাত একা থাকার মজাই আলাদা। পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমনের সময় আমি চুনতিতে একরাত ছিলাম। ছোট টিলার উপর অবস্থিত ছোট বাংলোটি দেখতে ভুতুড়ে মনে হলেও রাতে এক অদ্ভুৎ নির্জনতা তৈরী করে। আমি সুযোগ পেলে আমার যাবো চুনুতি বন এবং সে বাংলোটিতে থাকার জন্য।

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1529 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798