খইয়াছড়া ঝর্ণা: জলপড়ে পাতা নড়ে

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 2185 Views

খইয়াছড়া: জলপড়ে পাতা নড়ে

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

জলপড়ে পাতা নড়ে, কোন কারকে কোন বিভক্তি, এরকম প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অনেকেই বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায়। খইয়াছড়া ঝর্ণায় গিয়ে দেখে আসুন কিভাবে জল পড়ে আর পাতা নড়ে। এখানে পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরছে ঝিরি ঝিরি ঝরণা পাশের নানা লতাগুল্মে সে জল পড়ে নড়ছে পাতাগুলো।

খৈয়াছরা  বা খইয়াছিড়া এডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের নতুন গমন গন্তব্য।বাংলাদেশের সুন্দর  ঝরনাগুলোর মধ্যে খইয়াছড়া উপরের দিকে থাকবে। চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের ভেতরে অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা। পাহাড়ী ছড়ায় সাত থেকে নয়টি বড় ধাপে এই জলপ্রপাত থেকে পড়ছে জল। এমনই এক  পটে আঁকা ছবির মতো ঝর্না আপনার গা ভেজানোর অপেক্ষায়। এর পানি এত শীতল আর পরিষ্কার এখানে এসে গা ভেজানোর লোভ সামলানো সত্যিই কঠিন। বিশ্বাস না হলে একবার এসেই দেখুন।

khoyasora
আসতে হেলে জেনে নিন এর অবস্থান লোকেশান ও যাতায়াত তথ্য। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পার্শ্বে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে ঝর্নার অবস্থান।  চট্টগ্রাম থেকে ৬০ আর ফেনী আনুমানিক ৪০ কিলোমিটারের পথ হবে। নামতে বড় তাকিয়া বাজারে। এখান থেকে ১ কিলোমিটার পথ গাড়ীতে যাওয়ার পর বাকী ৩ কিলোমিটারের বেশী পথ যেতে হবে পায়ে হেঁটে। গ্রাম, উচুনিচু পাহাড়, বাঁশের সাঁকো, ধানক্ষেত, ছরা পেরিয়ে তারপর ঝর্ণার দেখা মিলবে। তবে ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখে পথচলার কষ্ট ভুলে যাবেন।

এর স্বচ্ছ পানির ধারা গড়িয়ে পড়ছে পাথর গড়িয়ে। নির্জন, শান্ত পাহাড়ের ঝর ঝর ঝর্ণাধারা সৃষ্টি করে অন্যরকম ছান্দসিক অনুভূতি। পাহাড়ী লতাপাতা, বাঁশবন, বুনোফুল ও ফুল ও ফলের গাছ ছড়িয়ে আছে চারদিকে। বর্তমানে প্রতিদিন এখানে লোকসমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছের ছায়া মাড়িয়ে পাহাড়ী পথ পেরিয়ে ঝর্ণার কাছে যাওয়ার আনন্দই  আলাদা। এই পথকে বলে ঝিরি পথ। কারণ সেই পথ দিয়ে ঝিরি ঝিরি ঝর্ণার জল বয়ে আসছে।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পাখির ডাক, প্রজাপতির রঙিন ডানার প্রদর্শনী, ফড়িংয়ের মিছিল, আর সবুজের সমারোহের ভেতর দিয়ে চলছে ঝর্ণা। আর কখনো শুনতে পাবেন ঝিঁঝিঁ পোকার ছন্দময় সূর। কোথাও বুনো অর্কিডের ঝোপ, কোথাও সবুজ শেওলা, কোথাও ঘাসের এভাবে পথের শেষে দেখা মিলবে। কালোপাহাড়ের গা বেয়ে নামা স্বচ্ছ জলরাশির। জলঝরছে তো ঝরছেই এই ঝরার যেন শেষ নেই, বিরাম নেই, বিশ্রাম নেই। পূর্ণিমা রাতে  এই ঝরণা এক অদ্ভূৎ সুন্দর রুপ ধারণ করে।  বানর আর হরিণের দল আসে এখানে তৃষ্ণা নিবারণ করতে।

বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার কারণে তা গুল্ম, গাছপালা, বনজ গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। দেশের এখানে গাইড বা সুরক্ষা ও নির্দেশনা প্রহরী। নেই বারণ করার কেউ বা পরিষ্কারের কোনো আয়োজন। ফলে প্রতিদিন মানুষ বোতল, পলিথিন, খাবারের বর্জ্য ঝর্ণার পাদদেশে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গড়ে তুলেছে অবৈধ দোকান।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে :

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাসে উঠে পড়তে হবে। নামতে হবে মিরশ্বরাইতে। অথবা চট্টগ্রামের মিরসরাই পার হয়ে বারতাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে নামবেন ।  খরচ সাশ্রয় করতে চাইলে ঢাকা থেকে ফেণীর বাসে উঠে। ফেনী থেকে লোকাল বাস ধরতে পারেন। ট্রেনে আসতে হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনে ফেণীর টিকেকে আসতে হবে।

ঢাকা চট্টগ্রাম রোড থেকে ঝিরি পর্যন্ত আপনি সি.এন.জি নিয়ে যেতে পারবেন। খৈইয়াছড়া ঝর্ণা পর্যন্ত বর্ষা কালে যাওয়া যথেষ্ট দূর্গম সাধারণ মানুষের জন্য।যদিও যে কেউ এই দূর্গম পথ খুব সহজেই পাড়ি দিতে পারবে,এক জোকের সমস্যা ছাড়া।এই দূর্গম পথই আপনার আনন্দ বাড়িয়ে দিবে।

চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রাম থেকে আসতে হলে ফেনীর বাসে আসতে হবে। নামতে হবে মিরসরাই আসার আগে সীতাকুন্ড পার হয়ে বড়তাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে নামবেন । ঢাকা চট্টগ্রাম রোড থেকে ঝিরি পর্যন্ত আপনি সি.এন.জি নিয়ে যেতে পারবেন। ট্রেনে আসতে হলে চট্টগ্রাম থেকে েএসে ফেণীতে নামতে হবে। ফেনী নেমে উল্টো আবার চট্টগ্রামের দিকে যেতে হবে।

 

কোথায় থাকবেন?

বড়তাকিয়া বাজারে থাকার কোন হোটেল নেই।কিন্তু আপনি চাইলে চেয়ারম্যানের বাংলোয় উঠতে পারেন। চট্টগ্রামের মিরসরাই পার হয়ে বারতাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে নামবেন । ঢাকা চট্টগ্রাম রোড থেকে ঝিরি পর্যন্ত আপনি সি.এন.জি নিয়ে যেতে পারবেন। যদি থাকতে চান তাহলে মিরশ্বরাই নামতে পারেন। তবে এখানেও থাকার ভালো ব্যবস্থা নেই। এখানে থাকতে হলে সরকারী ডাকবাংলোতে আগে যোগাযোগ করে যেতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয়ে মিরশ্বরাই এর আগে ফেনীর পরে বারইয়ার হাট নামতে পারলে এখানে বেশকিছু হোটেল রয়েছে। এটা ব্যবসা কেন্দ্র। বারইয়ার হাট থেকে খইয়াছড়া খুব দূরে নয়। লোকাল পরিবহনে যেতে পারবেন।

যা সাথে নিতে পারেন

১) ব্যাগ ও কাপড়ছোপড়
২) গামছা ও টিস্যু
৩) ছাতা বা রেইন কোট – যদি গরমে বা বর্ষায় যান

৫) অতিরিক্ত ০১(এক) সেট কাপড়- যদি গোসল করতে চান
৬) পানির বোতল- যদিও সেখানে কিনতে পাওয়া যায়
৮) কেডস/ সেন্ডেল : বেল্ট এর ভালো স্যান্ডেল বা কেডস (চামড়ার জুতো নয়)
৯) ক্যামেরা+ব্যাটারী+চার্জার , প্রয়োজনে পাওয়ার ব্যাংক
১০) আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি

১৪) পাথরে হাঁটতে গিয়ে তাল সামলাতে না পারলে স্থানীয়ভাবে একটি লাঠি নিতে পারেন।
১৫) ব্যক্তিগত ঔষধ, যদি প্রয়োজন হয়।
১৬) একটা দড়ি নিয়ে গেলে অনেক কাজ দিবে মূল ঝরনার উপরে স্টেপ গুলা টপকাতে পারবেন।

১৭) সেলফি স্টিক

১৮) এছাড়া ব্রাশ, পেস্ট, সানক্রিম, সানগ্লাস ইত্যাদি।

 

কোথায় খাবেন

বড়তাকিয়া বাজারেই খাবার হোটেল আছে। আছে কয়েকটা নতুন রেস্টুরেন্ট ঝর্ণার কাছেই। কথা বলে নেবেন নইলে গলাকাটা দাম নিতে পারে। তাছাড়া মিরশ্বরাই কিংবা বারইয়ার হাট গেলে খাবারের অনেক অপশন আছে। যদি নিজের গাড়ি নিয়ে যান ফেনী পার হওয়ার আগে কুমিল্লার শুয়াগাজি ও চৌদ্দগ্রামে বেশকিছু হাইওয়ে হোটেল আছে দাম একটু বেশী নিলেও খাবারের মান ভালো। মিয়ামী, ভিটাওয়াল্ড ইত্যাদি।

খরচাপাতি:

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম: বাস ভাড়া ননএসি ৬৫০, এসি ৯০০

সিএনজি ভাড়া: ১৫০ থেকে ২০০

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 2185 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798