কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে লেখা চিঠি (পর্ব ৪)

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1396 Views

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে লেখা চিঠি (পর্ব ৪)

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

(ধারাবাহিক রচনা: পূর্ব প্রকাশের পর)

 

প্রিয় সৈকত বালা,

তোমার আছে বিশ্বের সর্বদৈর্ঘ সৈকত, এতিহ্যমন্ডিত আজ্ঞামেধা কেয়াং, পাহাড়ের বুকফেটে নেমে আসা হিমছড়ি ঝর্ণা, অনিন্দ সুন্দর লাবনী পয়েন্ট, প্রবালপ্রাণ সেন্টমার্টিন, নৈসর্গিক ছেড়াদিয়া, ছায়াসুনিবিড় রামু, মোহনীয় নাফ নদীর মোহনা, প্রান্তিক সুন্দর টেকনাফ, প্রকৃতি ও মানুষের মিতালীমাখা মহেষখালী আর সোনাদিয়া দ্বীপ। তোমার অপার সম্ভাবনাই আমাদের ভবিষ্যত। অনাগত দিনের উত্তরনের সম্ভাবনাই আমাদের ধাবিত করুক অপার সম্ভাবনার দিকে।

Coxbazar

২০০৭ সালে বাংলাদেশে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিলো ২৮.৯ মিলিয়ন। ২০০২ ও ০৩ সালে এই সংখ্যা ছিলো যথাক্রমে ৬.৯১ ও ৭.৬ মিলিয়ন এবং অর্জিত মুদ্রা যথাক্রমে সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায় যার পরিমাণ যথাক্রমে ৩৩১২.৬ ও ৩৩১০ মিলিয়ন টাকা। উক্ত বছরগেুলোতে ফরেন এক্সচেঞ্জ থেকে আয় হয় ৬৫৩৮.৪০ ও ৯৫৯৯.২০ মিলিয়ন টাকা। (BPC,BB)

আমাদের ক্রমবর্ধমান হোটেল গুলোকে কাজে লাগিয়ে বছরে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। ২০০৬ সালে ওভারসীজ টিকেটিং থেকে রেভিনিউর পরিমাণ ৩৫৬ মিলিয়ন ডলার যা টোটাল ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি রেভিনিউর ২৫ শতাংশ। এছাড়া পর্যটকদের থাকা খাওয়া যাতায়াত শপিং সব মিলিয়ে আয়ের সম্ভাবনা বছরে ১.৫ মিলিয়ন ডলার। (bangladesh2020.wordpress.com) পর্যটনে উন্নয়ন ঘটলে তার ছোঁয়া শিল্প বানিজ্য অবকাঠামো, উৎপাদন ও জীবন যাত্রা সবকিছুতে প্রভাব পড়বে।

BPC: Bangladesh Parjatan Corporation

BB: Bangladesh Bank

img_20160325_130116

প্রিয় কক্সবাজার

হাঙরের উৎপাতমুক্ত তোমার সৈকত। তাই আমরা তোমাকে একটা সুন্দর উপাধি দিতে পারি। এবং আমাদের দেশের একটা স্লোগান দিতে পারি। যেমন মালয়েশিয়া লেখে Truly Asia, ভারত লিখে থাকে Incredible india, আমরা লিখতে পারি Bangladesh: The Heart of Asia. আজকাল আরো কিছু সুন্দর স্লোগান আছে যেমন বাংলাদেশকে আমরা বলছি School Of Life.  আরো একটা বিষয় হলো আমরা প্রতিটি বিষয়কে আলাদা  স্লোগানে নিয়ে আসতে পারি। যেমন কক্সবাজারের জন্য আলাদা স্লোগান, সেটা হতে পারে, Beauty of Ocean, Heart Of Bengal, Bed of Nature, Friend of Ghest, ETC.

img_20160326_141906

জলনন্দিনী

তোমার খ্যাতি ও উন্নয়নের সাথে জড়িত দেশের পর্যটন শিল্পের ভাগ্য। তার সাথে জড়িত জাতীয় সমৃদ্ধি। সমৃদ্ধির উপর ভর করে উন্নয়ন ঘটবে দেশের অন্যান্য খাতের। দূরহবে বেকারত্ম, বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা ও অশিক্ষা। এবং নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্ত হবে দেশ। সন্ত্রাস দূর্নিীতি অপরাজনীতি, কুসংস্কৃতি, সাম্প্রদিয়কতা আর দরিদ্রের কষাঘাত থেকে মুক্তির সূচনা হবে।

 

চিরযৌবনা প্রকৃতিকন্যা

তোমার মাধ্যমেই উন্নয়নের একটা রেখা টানা শুরু করতে পারি আমরা। অবশ্য এগুলো কোনোভাবেই এমনি এমনি হবেনা। এজন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমুদ্র সৈকতে স্কুবা ডাইভিং, সার্ফিং, ফিশিং, বোটিং, ওয়াটার রাইডিং, সী রানিং, সুইমিং, ক্লাইম্বিং, সানবাথিং, মোটর ডাইভিং, সিনে শ্যুটিংসহ নানা বীচ স্পোটস এ আয়োজন থাকা দরকার। যা একদিকে পর্যটকদের ভ্রমণকে করবে আনন্দময় আর অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আর কর্মসংস্থান দুটোই এনে দেবে।

img_20160326_080611

বিদেশী ট্যুরিস্টদের জন্য স্কাই কার, রিসার্চ টাওয়ার, সিঙ্গেল এভিয়েশান, গলফ, সুইমিং পুল, ক্যাসিনো, পানশালা, বিশেষায়িত ক্লাব, স্পোটস জোন, (ইনডোর আউটডোর) পাটি এন্ড এক্সিবিশন সেন্টার, কর্মাশিয়াল স্যুট, স্টুডিও এপার্টমেন্ট, কনফারেন্স সেন্টার এন্ড হল, আন্তজাতিক মানের শপিং সেন্টার, আন্তজাতিক কালচারাল সেন্টার এসব সুবিধা থাকলে পর্যটকরা এখানে সময় ব্যয় করবে এবং টাকা খরচ করবে। বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে আরো বেশী ট্যুরিস্ট আসবে। এভাবেই বদলে দিতে হবে সুন্দরের যত প্যারামিটার আর উন্নয়নের যত সূচক।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বিনোদিনী

আজ পৃথিবীর অনেক দেশ কমুইনিটি ট্যূরিজম ও সোস্যল টূরিজম এবং ইকোট্যুরিজম এর মাধ্যমে নিজ নিজ দেশের উন্নয়ন দশ বছরের ট্যুরিজম উন্নয়ন দুই বছরে করে নিয়েছে। আজ থেকে পরিকল্পনা করলে আমরাও সেটা পারবো। এবং তুমি কক্সবাজার সহ আমাদের অন্যান্য সব ‍স্পট নিয়ে একীভূত এবং ভিন্ন পরিকল্পনা করে এগুতো হবে। ‍প্রাকৃতিক পর্যটন, গ্রামীন পর্যটন হতে পারে আমাদের আগামীদের নতুন পথচলার বাহন।

 

(চলবে)

লেখা: ২০০৯, ছবি: লেখকের, ২০১৬, পাঁয়ে হেঁটে দেশদেখার সময় তোলা।

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | 1396 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798