সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক

Published : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬ | 3541 Views

সীতাকুন্ড

                        সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক

                                                সীতাকুন্ডে একদিন

সীতকুন্ডকে নিয়ে যে পুরানের আখ্যান রয়েছে এটাও চট্টগ্রামের পুরানত্ব সমর্থন করে। পুরান মতে দক্ষযজ্ঞের সময় অগ্নিকুন্ডে আত্মহুতি দেয়া মৃতা দক্ষরাজকন্যা সতির মৃতদেহ শিব ত্রিশুলে করে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেন। এরকম ৫২টি স্থান সতিকুন্ড বা সীতাকুন্ড নামে পরিচিতি পায়। পৌরানিক ধারনা অনুযায়ী দূর্গার সে সময় নামছিলো সতি, তারই দেহের একটি অংশ এখানে এসে একটি কুন্ডে পড়ে। এখানে গিরিখাতের মধ্যে একটি জলাধার রয়েছে। হিন্দুদের বিশ্বাস মতে এখানেই তার দেহ পতিত হয়। সে মোতাবেক সনাতন ধর্মের লোকেরা একে তীর্থস্থান হিসেবে গন্য করে এবং এখানে প্রচুর লোকসমাগম হয়।

সীতাকুন্ডে নজরুল

আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই। এমনটাই লিখেছেন দ্রোহের কবি নজরুল। সীতাকুন্ডের রুপসৌন্দর্যের অবারিত মহিমা প্রকাশ করতে গিয়ে নজরুল এখানে এসে এর রুপমার্ধূয্যেয মুগ্ধ হয়েছিলেন

বনবিভাগের কর্তা: সীতাকুন্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডর ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্ট ব্লকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুশোভিত চিরসবুজ বনাঞ্চলে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক অবস্থিত। এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এর পাশে অবস্থিত। এখানে ওইতিহাসিক সীতাকুন্ড অবস্থিত।যারা অন্যরকম অভিজ্ঞতা চান তারা বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে থেকে যেতে পারেন একটি ভুতুড়ে বাড়িতে। হ্যাঁ বনবিভাগের কর্তার জন্য বানানো একটি বাড়ী ভুতের ভয়ে খালি হয়ে আছে। জায়গাটা ভীষন হন্টেড। এর আগে এখানে অনেকে থাকার চেষ্টা করে পরে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। আপনিও একবার চেষ্টা করে দেখতে পার্। প্রবেশ পথের কয়েকশ গজের মধ্যেই পড়ে। দেথে তেমন কিছু মনে হয়না। কিন্তু এখানে নাকি সত্যি সত্যি ভূতেরা থাকে।

ভূত

এই সেই ভুতের বাড়ী

এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো এবং সর্বপ্রথম ইকোপার্ক। এখানে মূল্যবান অনেক গাছগাছালী ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রাণী। আছে দুটি ঝর্ণাসহস্রধারা ও সুপ্তধারা। এখানে পাহাড়ী রাস্তা পাকা করে দেয়া হয়েছে সিএনজিও ভেতরে যায়। অনেকে হেঁটেও উপরে উঠেন। প্রবেশদ্বার থেকে আধা কিলোমিটার ভেতরে সুপ্তধারা ঝর্ণা আর দেড় কিলোমিটার উপরে গেলে রয়েছে সহস্রধারা ঝর্ণা। সুপ্তধারা শুকিয়ে গেলেও সহস্রধারায় এখনো জল পড়ে আর পাতা নড়ে। স্থান থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৫ কি.মি., আপনি পায়ে হেঁ‌টে অথবা জীপ, মাইক্রোতে চড়ে সেখানে যেতে পারবেন। প্রকৃতিপ্রেমী লোকদের একটি দেখার জয়াগা এটা।

সীতাকুন্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন

  উঁচুনিচু পাহাড়, বেজী হরিণ, ভালুক, বানর, খরগোশ এবং হনুমান সহ বিভিন্ন প্রাণীর আনাগোনা, পাখির কুজন, চিরসবুজ বৃক্ষরাজি সমৃদ্ধ ইকোপার্ক  মনমুগ্ধকরঅনুভূতি দেবে আপনাকে।পাহাড়ের উপর থেকে আশপাশের পাহাড়, দূরের গ্রাম ও মহাসড়ক মনে হবে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো ছবি।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা দুই কিশোর

নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা দুই কিশোর

 এখানকার গাছের মধ্যে অর্জুন, তেলসুর, চাপালিস, চুন্দুল, করই, জারুল, তুন, জাম, জলপাই সহ রয়েছে আরো নানা রকম ফুল ফল আর পাহাড়ী গাছ। বাঁশ আর বেতও রয়েছে অনেক। একসময় এই বন স্থানীয় মানুষদের জীবিকার অবলম্বন ছিলো। এখানে দেশী বিদেশী প্রায় ৫০ রকমের অর্কিড আছে।ইকো পার্কের ভিতরেই আছে একটা ওয়াচ টাওয়ার।

সীতাকুন্ড ইকোপার্ক

সীতাকুন্ড ইকোপার্ক

যাতায়াত:

ঢাকা থেকে বিআরটিসি এর বাসগুলো ছাড়ে ঢাকা কমলাপুর টার্মিনাল থেকে।আর অন্যান্য এসি, ননএসি বাস গুলো ছাড়ে সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে।  সীতাকুন্ড বাস স্ট্যান্ড থেকে মাত্র ২ কিঃমিঃ দক্ষিণে ফকিরহাট নামক স্থান দিয়ে এ পার্কে প্রবেশ করতে হয়। অথবা সীতাকুন্ড না নেমে ফকিরহাট নামলেও ভালো। ট্রেনেও যাওয়া যায়। তবে এখানে থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। টূরিস্টদের রেস্ট নেয়ার জন্য রেস্ট আছে অবশ্য।

 

      লেখা ও ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ছবি: পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনের সময় তোলা

Published : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬ | 3541 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798