কক্সবাজারকে লেখা পত্র , পর্ব: ৩

Published : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬ | 1758 Views

কক্সবাজারকে লেখা পত্র ,  পর্ব: ৩

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

বালুকাজলের হরিনী

তুমিতো কক্সবাজার। অফূরন্ত এক সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছো জাতিকে। সারা বিশ্বে এখন পর্যটনের অমিত সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই সম্ভাবনায় সামিল হয়েছে বাংলাদেশও। ভরসা অনেকাংশে তুমি, মানে কক্সবাজার। মানুষ মনের আনন্দ খোজার জন্য সাগর নদী পাহাড় বা বনের কাছে যায়। তোমার এখানে এই চারটি উপাদানই বিদ্যমান। এখন শুধু এগুলো তুলে আনতে হবে লাইম লাইটে। তোমাকে বানাতে হবে তারকা। যাতে তোমার রুপ দেখতে আসে সারা দুনিয়ার মানুষ। আর তাতেই আমার দেশ হয়ে উঠবে সমৃদ্ধ ও আর সচ্ছল।

কক্সবাজার ভ্রমণ

2009 সালের এক হিসেবে দেখো যায় সারা বিশ্রে মোট বিনিয়োগের 7.35% হয় পর্যটন খাতে। ২০০০সালের এক হিসেবে দেখা যায় বিশ্বে এখাতে জড়িত জনশক্তির সংখ্যা ৩৮৬ মিলিয়ন। যা বিশ্বের মোট জনবলের ১০.৫% । বিশ্বেও দেশসমূহে জাতীয় উৎপদনের ৫.৫% যোগান আসে এই পর্যটন খাত থেকে॥ (WTO) এজন্য একে বলা হয় সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে পর্যটনই হবে আগামীর বাংরাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

হে সুন্দরের প্রতিমা
তুমিতো আমাদের কাছে সাত রাজারই ধন। এজন্য হৃদয় ভারাক্রান্ত হয় – যখন দেখি তোমার কাছে যাওয়ার পথে ভাঙ্গ রাস্তা, পুরনো সেতু আর পথে পথে নানা সমস্যা। সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের দিকে তাকালে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে। দেশটির জিডিপির ১৭-১৯% এবং অর্জিত বৈদেশিক মূদ্রার ৭২% আসে পর্যটন সংক্রান্ত আয় থেকে। ২০০০ সালের এক হিসেবে দেখো গেছে মালদ্বীপে গড়ে বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার পর্যটক আসে। কোনো কোনো বছর তাদের পর্যটক বৃদ্ধির হার ২০০% পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। ২০০৫ সালে ভারত জাতীয় আয়ের ৭.১%, মালয়েশিয়া ১৯.৮% সংকুলান করেছে পর্যটন খাত থেকে। ২০০৯ সালে ভারতে আসা পর্যটক সংখ্যা ৪০ লাখ, শ্রীলংকায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার, পাকিস্তানে ৮ লাখ আর বাংলাদেশে মাত্র ২ লাখ ৮ হাজার । যা নেপাল ও মালদ্বীপের তুলনায় অর্ধেক। একই বছর পর্যটন থেকে পাকিস্তান আয় করে ৮২৭ মিলয়ন, শ্রীলংকা ৭২৯ মিলিয়ন, নেপাল ১৬০ মিলিয়ন, মালদ্বীপ ২৮৭ মিলিয়ন আর আমাদের দেশ মাত্র ৭৮ মিলিয়ন ডলার।

সাগর

প্রকৃতিকন্যা
তুমি শুধু রুপবতী নও ধনবতীও বটে। সামুদ্রিক সৌন্দর্য আর সম্পদ ব্যবহার করে পৃথিবীর বহুদেশ উন্নয়নের ভীত মজবুত করেছে। আজকের কোরিয়া, ইটালি, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিফাইন, আমিরাত, মারিশাস, জ্যামাইকা, ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মেক্সিকোসহ বহু সমুদ্র সংলগ্ন ও পর্বতঘেরা দেশ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কান্ট্রি, আফ্রিকার কিছু দেশ, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অনেক দেশ ধীরে ধীরে পর্যটনকে সামনে এনে এগিয়ে চলছে।
খুশির কথা যে পৃথিবীর কিছু দরিদ্র দেশও পর্যটন শিল্পে উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে অবদান রাখছে। মঙ্গোলিয়াতে কমুউনিটি বেজড টুরিজম ব্যাপক সফল একটি পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।। কম্বোডিয়াও এক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য ছু’তে পেরেছে। যেমন ১৯৯৮ সালে কম্বোডিয়ায় আসা পর্যটক সংখ্যা ছিলো ৯৬ হাজার আর বাংলাদেশে ১ লাখ ৫০ হাজার। আর ২০০৬ সালে কম্বোডিয়ায় পর্যেটকের সংখ্যা দাড়ায় ২০ লাখে আমরা পড়ে আছি ২ লাখে।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আশার কথা শুনতে ভালো লাগে আমাদের এখানে নানা উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। ১৯৯২ সালে হয়েছে পর্যটন নীতিমালা। গঠিত হয়েছে কিছু সংস্থা। এর মধ্যে বেশ কিছু হোটেল মোটেল নির্মাণ হয়েছে। কিছু ইভেন্ট হচ্ছে । ক্সকক্সবাজারে জমির ব্যবসা জমে উঠেছে । বিদেশী পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে এগুলো কতটা কার্যকর তাই এখন দেখার বিষয়।

 

(চলবে)

রচনাকাল: ২০০৯ সাল।

ছবি: ২০১৬ সালে লেখক এর পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ যাওয়ার সময় তোলা

Published : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬ | 1758 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798