মুভি রিভিউ: স্বপ্নের ঠিকানা

Published : সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৬ | 2593 Views

সালমান শাহ

স্বপ্নের ঠিকানা আমার হলো বালুচর

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

মুভি রিভিউ: স্বপ্নের ঠিকানা

আজ ৬ সেপ্টম্বর বাংলা সিনেমার সব সময়ের জনপ্রিয় তারকা সালমান শাহের মৃত্যু বার্ষকী। আপাত দৃষ্টিতে আত্মহত্যা করে সালমান শাহ মারা গেছে বলা হলেও। আত্মহত্যার যেমন কারণ জানা যায়নি তেমনি জানা যায়নি তার মৃত্য বা হত্যা রহস্য। এই দিনে সালমানের একটা মুভি রিভিউ লিখার কথা ভাবলাম।

মুভি: স্বপ্নের ঠিকানাৎ

ধরণ: রোমান্টিক

পরিচালকঃ এম এ খালেক

প্রযোজকঃ মোঃ নুরুল ইসলাম পারভেজ

প্রযোজনাঃ ‌এটলাস মুভিজ পরিবেশকঃ ‌এটলাস মুভিজ
কাহিনী মোঃ মোশারফ হোসেন, মোঃ নুরুল ইসলাম পারভেজ

চিত্রনাট্য  ও সংলাপ: নিতিশ সাহা, ছটকু আহমেদ

সুর সঙ্গীত পরিচালক: আলম খান

গীতিকার:  মনিরুজ্জামান মনির

অভিনয়ে: সালমানশাহ, শাবনূর, সোনিয়া, রাজিব, আবুল হায়াত, ডলি জহুর, প্রবীরমিত্র, দিলদার ও নাসরিন।

মুক্তি :১১ মে, ১৯৯৫

ফরম্যাট : ৩৫ মি.মি. রং রঙিন দৈর্ঘ্য (রান টাইম) ১২০ মিনিট

সুমন ‍ও সুমী দুজনে ছোটবেলায় একসাথে লেখাপড়া করে। সুমন বড়লোকের ছেলে। সুমি গরিবের মেয়ে। তাদের মধ্যে ভালোভাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে এক দূর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে সুমন। তখন তার বাবার বন্ধুর মেয়ে সোনিয়া বিদেশ থেকে আসে। তার সাথে বিয়ে ঠিক হয় সোনিয়ার। কিন্তু স্মৃতিশক্তি না থাকায় বিয়ে হচ্ছে না। বা সুমন (সালমান শাহ) সুমি (শাবনূর) এর কথা ভুলে গেছেন। এদিকে শুরু হয় সুমির সাথে তার দ্বন্দ।

স্বপ্নে ঠিকানাকে বলা হয় বাংলা চলচ্চিত্রের বেদের মেয়ে জোসনার পরে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি। এই ছবির গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ‘‘এইদিন সেইদিন কোনোদিন’’ ‘‘ নীল সমুদ্র পার হয়ে’’ ‘‘ ওসাথীরে, যেওনা কখনো দূরে’’ এমনি নানা গান। এছাড়া কৌতুক অভিনেতা লিপে এ একটি প্যারেডি গান জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। ‘‘যদি সুন্দর একখান বৌ পাইতাম’’

বেদের মেয়ের জোসনার মতো স্বপ্নের ঠিকানার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিলো ধনী গরিবের দ্বন্দ। বরাবরের মতোই এ ধরনের ছবি জনপ্রিয়তা পায়। স্বপ্নে ঠিকানা ছবির গল্পটা গতানুগতিক হলেও এর গাঁথুনিও ছিলো বেশ ভালো, গল্পের গতিছিলো ঝরঝরে সংলাপগুলো ছিলো একটু ভালো। অন্তত সেই সময়ের তুলনায়। আর রাজিব এবং আবুল হায়াত এর দ্বন্দটা দেখানো হয়েছে ভালোভাবে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী জলিজহুর এর সাবলীল অভিনয় তখনকার ছবিগুলোর একটা দর্শকপ্রিয় ব্যাপার ছিলো।

জুটি হিসেবে তখন সালমানশাহ- শাবনূর, ওমরসানি- মৌসুমী, খুব জনপ্রিয় ছিলো। আর ইলিয়াছ কাঞ্চন-দিতি, মান্না- চম্পা ও বেশ ভালো যাচ্ছিলো। এই ছবি হিট হওয়ার পর সালমানশাহ- শাবনূর জুটি টপে চলে যায় এবং তারা নিজেদের পারশ্রমিক বাড়িয়ে নেন।

৩৫ এমএম ফরম্যাটে নির্মিত প্রথম দিকের ছবি স্বপ্নের ঠিকানা। চামড়া ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম পারভেজ এই সেনেমার মাধ্যমে সিনেমায় নামেন। গানে কন্ঠ দিয়েছেন। রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন এন্ড্র কিশোর।

তখনো হিন্দি সিনেমার নকলের প্রবণতা ছিলো। আর এই কারণেই ইমন এর নাম হয় সালমান শাহ, আর ছবিতে একটি হিন্দি গানের বাংলা রুপায়ন দেখানো হয়। ‘‘নীল সমুন্দর’’। সবকিছুর মধ্যে কেবল সালমান শাহই ছিলেন আলাদা। তার স্টাইল, তার ভাব, ভাষা, ফ্যাশন সবই নিজের মতো।

স্বপ্নে ঠিকানা গতানুগিতিক ছবিই ছিলো। আলাদা বা নতুনত্ব বলতে ওই ৩৫ এমএম আর এনিমেশন টাইটেল। কিন্তু হতানুগতিকার মাঝেও প্রতিটি বিষয় তৈরীর সময় বেশ যত্ন করা হয়েছিলো। স্মৃতি হারানোর ব্যাপারটা হয়তো উত্তম সুচিত্রার সাগরিকা ছবির সাথে মিলে যায়।

তবে এই ছবির মাধ্যমে সালমান শাহ দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন পেতে নেন। আজ সালমান শাহ নেই। তার ভক্তদের কাছে সিনেমার জগতটা বালচরের মতো। সালমান শাহর আরেক সিনেমা থেকে গান নিয়ে বলতে হয়। ‘‘ তুমি আপনের আপন, পরের চেয়ে পর, নিজেই বান্ধিয়া ঘর নিজেই আনো ঝড়, স্বপ্নের ঠিকানা আমার বালুচর, নিজেই বান্ধিয়া ঘর নিজেই আনো ঝড়’’

Published : সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৬ | 2593 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798