পুলিশের সাথে এক রাত

Published : সেপ্টেম্বর ২, ২০১৬ | 803 Views

পুলিশ ব্যারাকে এক রাত
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
( দেশদেখা শিরোনামে পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া যাওয়ার সময় গত ১৭ মার্চ চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যারাকে রাতযাপন করি, মূলত সে স্মৃতি নিয়ে এই লেখা)
চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে অতিথি শালা রয়েছে ইয়াছিন ভাই আমাকে সেখানে রাখলেন না কারণ সেখানে থাকলে আমার দেখভাল করবে কে? সিপাহীদের সাথেই থাকলাম। আমিও চাচ্ছিলাম তাদের সাথে থাকবো গল্পগুজব করে সময় কাটাবো। এলাকার বেশ কয়েকজনকে পাওয়া গেলো। ফোরুক ভাইসহ আরো অনেকে বলতে গেলে সবার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। পুলিশ ও আর্মির সাথে থাকার অভিজ্ঞতা আমার নতুন নয়। পুলিশের সাথে আমার খারাপ অভিজ্ঞতার স্মৃতি আমার নেই বললেই চলে। আর এই সফরে পথে পথে পুলিশ আনসার বিডিআর আমাকে শুধু সহযোগিতাই করেনি বরং এরকম একটা কাজের জন্য সম্মান উৎসাহ দিয়েছি। বিশেষ করে টুরিস্ট পুলিশের অফিসে ইন্সপেক্টার রুহি সহ টুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি সহ সবাই পাশে থাকার কথাই বলেছেন। আসলে পাশে থাকা মানে তো সাথে সাথে থাকা নয়। সাহায্য চাইলে এগিয়ে আসাটাই বড়ো। আগেই বলেছি পুলিশ নিয়ে আমার সেরকম কোনো এলার্জি না থাকায় আমার ওদের সাথে খুব সহজে মিশতে পারি আর আমার ধারণা তারাও আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করে। আর দু একজন দুষ্ট প্রকৃতির লোক থাকলে আমার ধারণা তারা আমার মতো লোকদের কাছ থেকে দুরেই থাকে। এটা পুলিশ বলে নয়। আমাদের চারপাশের ধান্ধাবাজ লোকগুলোও আমার মতো গোবেচেরা টাইপের লোকদের কাছ থেকে দূরে থাকবে এটাইতো স্বাভাবিক।
পুলিশের সম্পর্কে আরেকটা কথা বলে রাখি। আসলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নিরীহ লোকগুলো যারা ভ্রদ্র ছিলো কখনো কোনো অন্যায় করেনি বা করার সুযোগ পায়নি তারাইতো পুলিশে চাকরী পায়। মেধার মাপতো আছেই। আজকাল কিছু রাজনৈতিক নিয়োগের কথা শোনা যায়, এরকম হলেও তাদের সংখ্যা খুব বেশী নয়। আর অফিসার র্যাং কে কেউ আক্রমনাত্বক থাকলেও সিপাহীরা শান্তিপ্রিয়। আমার অভিজ্ঞতা অন্তত তাই বলে।এই যে কেউ কেউ আক্রমনাত্বক এটা বলতাম না, যদি না মিডিয়াতে না দেখতাম তাদের হিংগ্রতা বা দূনীর্তি সম্পর্কে না জানতাম। এরকম ঘটনাগুলো না ঘটলে বা না দেখলে বা নিজেরা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়তো সকলেই পুলিশদেরকেয়ে সবচে ভালো লোক বলতেন। কারণ অনেকের কাছ থেকেই শুনি পুলিশের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার হতে।
এটার একটা ব্যাখা হলো আসলে বদলোক তো আমাদের সমাজ এর সব শ্রেণীতেই আছে। সূতরাং পুলিশের নামে আলাদা বদনাম করে লাভ কি? আমাদের সমাজে ভাই ভাইকে মারছে, স্ত্রী স্বামীকে হত্যা করছে, শিশুদের হত্যা করে শত্রুতা উদ্ধার করা হচ্ছে, নারীদের হত্যা করা হচ্ছে যৌতুকের জন্য, কাজের শিশুকে লোহাপুড়িয়ে দাগ দিচ্ছে ছোটখাটো ভুল ত্রুটির জন্য এসব কাজ পুলিশ করছেনা, সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে হচ্ছে। যে সমাজে হরদম এসব অপরাধ বিদ্যমান তখন পুলিশ দু-চার পয়সা ঘুষ খাওয়াকে তেমন বড়ো পাপই মনে করেনা, বা করবেনা। আমার কাছে অন্তত তাই মনে হয়। আমরা যারা বিনামূল্যে নীতিবাক্য বলি তারা ওখানে গেলে কি করতাম সেটা তো বলা মুশকিল। কারণ যাদের কথা বলছি আর বলে বলে নাক সিটকাচ্ছি তারাতো আমাদেরই কেউ না কেউ। তবে অনেক ভালোমানুষ পুলিশে আছেন এটা যেমন অনেকে বিশ্বাস করেন তার সাথে আমি আরো একটা জিনিস বিশ্বাস করি সব খারাপ মানুষ মানে যাদের আমরা খারাপ ভাবি তারাযে সব সময় খারাপ কাজ করে ভালো কাজে নেই তা নয় সেটা পুলিশে হোক আর সিভিলে হোক। আর এই ঘুষটা চালু হয়েছে মানুষদের দ্বারা পুলিশের দ্বারা নয় কারণ কিছু অপরাধী অপরাধ করে পার পাওয়ার জন্যই উৎকোচ দেয়া চালু করেছে। আর রাজনৈতিক নিপীড়িন, রাজনীতির ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকা পিসাচ আর ডায়ানরাতো পুলিশকে ব্যবহার করছেই।
আমি তো এমন আর্মি অফিসার দেখেছি। একজনের কথা অন্তত বণতে পারি আর্মি থেকে বহিস্কৃত আমি তার পদবি উল্লেখ করে সে পদবীর কোউকে ছোট করতে চাইনা। সে উচ্চ পর্যায়ের আর্মি অফিসার নামায কালামও পড়ে, কোরআন হাদীসের কথাও বলে। কিন্তু মানুষের কোনো গুনই তার মধ্যে নেই। দেশ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা তার নেই। সে যাদেরকে পছন্দ করে না তাদের উন্নতিতে সে শুধু জ্বলে পুড়ে মরে, মিথ্যা কথা তার চব্বিশ ঘন্টার সঙ্গী মধ্যবয়সী ভদ্রলোকের আবার অল্পবয়সীমেদের খুব পছন্দ। তিনবিয়ের পরও তার স্ত্রী আছে, আছে বান্ধবীও, সাধারণ মানুষকে মনে করে গরু ছাগল কথায় কথায় গালি দেয়। কোনো ধরনের দূর্ঘটনা বিপদ আপন কোনো বিষয়ে তার কোনো মানবিক আফসোস বা অনুভূতি নেই। সারা দুনিয়ার মানুষকে বলে চোর। আর সুযোগ পেলেই এটা তার শখের পেশায় পরিনত আসল পেশা কোনটা সেটা মনে হয় বোঝা গেছে। কেবল রুটি রুজি আমার সামিাজিক কারণে মাঝে মধ্যে চাকরী বাকরী করতো। কিন্তু ২/৪ মাসের মধ্যে সব জায়গা থেকে তার ছুটি মিলে যেতো স্থায়ীভাবে। কারণ ততোদিনে সেখানকার লোকেরা তার আসল চেহারা দেখে ফেলতো। কোথাও কোথাও অযোগ্য লোকেরা যারা অধস্তন তাদের কেউ সুবিধা পাওয়ার জন্য চামচা কিংবা চুরির কাজে সাগরেদ বনে যেত তখনে হয়তো নয়মাস ছয়মাস বা বছর দুই টিকে যেতো।
জানোয়ার বললে শুনতে ভালো শোনায়না, রোবট বলা যায়না কারণ তার অনৈুতকতা আছে কিংসা ক্ষোভ রাগ আছে। শয়তান বললে হয়তো কিছুটা কাছাকাছি যাবে। কারণ একটা শয়তান এতো পাপের সাথে জড়িত কিনা আমার সন্দেহ আছে।

Published : সেপ্টেম্বর ২, ২০১৬ | 803 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798