মুছাপুর ক্লোজার: উচ্ছল আনন্দের নতুন গন্তব্য

Published : আগস্ট ৩০, ২০১৬ | 1488 Views

মুছাপুর ক্লোজার

মুছাপুর ক্লোজার: উচ্ছল আনন্দের নতুন গন্তব্য

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

মুছাপুর, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্খিত। পাশেই ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা। দুইদিক থেকেই যাওয়া যায়। এতদিন এটি একটি সাদামাটা স্লুইসগেট থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, নিবিড় বন, গ্রামীণ পরিবেশ, পাখির কোলাহল, মৎস্যজীবি মানুষদের জীবন সব মিলিয়ে অন্যরকম এক দোতনা সৃষ্টি করে প্রকৃতিপেমী মানুষদের মনে। ফেনী নদীর উপর নির্মিত ক্লোজার, ২৩ ভেন্ট রেগুলেটর, পানির ছল ছল আর  বিশাল আকাশের নিচে আপনার অবস্থান, অবারিত বাতাসের সামনে দাড়িয়ে মাথার চুলে বিলি কাটুন। এমন নির্মল বাতাস আর সবুজ বনানী আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

মুছাপুর

মুছাপুর ক্লোজারে গত বছর আমি আর ওয়ালেটমিক্স এর সিইও হুমায়ন কবীর ভাই।

সাগরে যখন জোয়ারের পানি উথলে উঠে তখন আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। ঢেউয়ের উচ্চাস ছুয়ে যাবে আপনার মনকেও।  দূর থেকে দেখা  ঢেউয়ের তালে তালে দুলতে থাকা  নৌকাগুলো আপনার মনে দিয়ে যাবে এক সূর লহরীর ছোঁয়া। রাতের সৈকতে দাড়ালে বিন্দু বিন্দু আলোকণা ভেসে বেড়াতে দেখবেন নদীতে। মাছধরা নৌকাগুলো কেমন যেন এক ছন্দ রেখে আকাশের তারার বিন্যাসের মতো হেলেদুলে চলেছে। আর আলোর ছায়াগুলো নাচতে থাকে রাতের কালো জলে। সে এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

( উত্তর প্রজন্মকে নিয়ে ঘাষের বিছানায় শুয়ে পড়েছি আমি)

সৈকতে এখন পাকা ব্লক লাগানো হয়েছে। তাতে মনের আনন্দে ঘুরুন নাচুন কাঁদা লাগবেনা। পাশে রয়েছে নবসৃষ্ট বন। দূর দিগন্ত রেখার কাছাকাছি নিয়ে যাবে সবুজ রেখা আপনার দৃষ্টিকে। যাওয়া পথে পড়বে নদীর ধার। সবুজ গালিচা বিছানো ঘাষের মাঠ। দিগন্তজোড়া ফষলের মাঠ। মাঝে মাঝে চরে বেড়ানো গরু ছাগল। ‍মাঠের কুল ঘেষে গ্রামের বাড়ীগুলো তার মধ্য দিয়ে এঁকে বেঁকে গেছে কালো পিচঢালা পাকারাস্তা। নদীর ভাঙনে রাস্তাটি এখন বেশ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এখানে চা নাস্তা খাওয়ার জন্য দোকানপাট ছাড়া আর কিছুই নেই। সরকারীভাবে একে এখনো ‍পর্যটন কেন্দ্র বলে ঘোষনা করা হয়নি। এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় ভ্রমণকারীদের খুব বিপাকে পড়তে হয়।

ফেনী ও নোয়াখালী জেলার সীমানায় এর অবস্থান। দুই জেলার ভ্রমণপ্রিয় লোকেরা প্রতিদিন ভিড় করেন এখানে। ছুটির দিনে প্রচুর লোকসমাগম হয়। মজার ব্যাপার হলো এক বছর আগে আমি এবং ওয়ালেটমিক্স এর হুমায়ন কবীর ভাই যখন গিয়েছিলাম তখন আমরা ছাড়া আর কাউকে দেখিনাই। মাঝে মধ্যে দুই একজন যেত অবশ্য। সেখান থেকে এসে আমি নেটে জায়গাটা সম্পর্কে কোনো তথ্য না পেয়ে কয়েকটা লেখা লিখি। আলাদা এবং নোয়াখালী জেলার পর্যটন স্থানসমূহের সাথে একসাথে। এর মধ্যে বেড়িবাঁধে কিছু উন্নয়নমূলক কাজও হয়েছে। ‍আজকাল ফেসবুকও একটা ব্যাপার কেউ ভ্রমনে গিয়ে একটা ছবি তুলে পোস্ট করলে ট্যুরিজম ভেন্যুগুলো জনপ্রিয় হয়ে যায়।

12087522_10207903839580020_839646523_n

মুছাপুর ক্লোজারে যেতে হলে। যেতে হবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বা বসুর হাটে এখান থেকে সিএনজিতে যাওয়া যায়। ২০ কিলোমিটারের কম হবে। সর্বশেষ বাজার হলো বাংলাবাজার তাও ৪/৫ কিলোমিটার দূরে হবে। ওখানে কয়েকটি টং দোকান ছাড়া আর কিছুই নেই। খালি জায়গা আছে পিকনিক পাটি গেলে রান্না করে খেতে পারবে। সেখানে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনতে পাওয়া যাবে খেপের সময় গেলে।

থাকার জন্য কোম্পানীগঞ্জেও এখনো কোনো আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেনি। নির্ভর করতে হবে ফেনী শহরের উপর। ফেনী থেকে মুছাপুর ক্লোজার ৫০ কিলোমিটারের কিছু কম হয়ে থাকবে। রাস্তা খুব প্রশস্ত না হলেও ভালো আছে।

Published : আগস্ট ৩০, ২০১৬ | 1488 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798