চলো না, রাম সাগরে এবার যাই

Published : আগস্ট ৩০, ২০১৬ | 1926 Views

চলো না,  রাম সাগরে এবার যাই

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

১৭৫০সাল। তখনো ব্রিটিশরা এই দেশ দখল করেনি। শুরু হয়নি এংরাজি কচকচি। দেশের সম্পদ লুটে নেয়া শুরু হয়নি। দেশীয় ভূপতিরা রাজত্ব করছিলো। দিনাজপুরের রাজা ছিলেন দয়ালু প্রাণণাথ। রাজ্যে দেখা দিলো প্রচন্ড খরা। প্রচন্ড গরম আর জলকষ্টে প্রজা সাধারণ এর প্রাণ ওষ্ঠাগত। উপায় নিয়ে ভাবতে থাকেন রাজা। ভাবনায় পড়ে গেলেন আমাত্যবর্গ। কিন্তু উপায় বুদ্ধি আসে না। নদীর জল তখন কমে গেছে তার সেটা অনুকে দূর। পুকুরের তলা গেছে শুকিয়ে। বৃষ্টি হচ্ছে না বহুদিন।

রামসাগরে পুরনো মন্দির

রামসাগরে পুরনো মন্দির

এ সময় রাজা একদিন স্বপ্ন দেখলেন গভীর দিঘী খনন এর মাধ্যমে এই জলকষ্ট দূর করা যায়। তারপর শুরু হলো মহাযজ্ঞ। হাজার হাজার শ্রমিক মজুর ঝুড়ি কোদাল নিয়ে নেমে পড়লেন কাজে। তারপর একদিন শেষ হলো খনন কাজ। কিন্তু হায় দিঘীতে যদি জল না থাকে, কি হবে এই দিঘী দিয়ে? জল তো আর উঠেনা। প্রায় ৩০,০০০ টাকা খরচ করে ১৫,০০,০০০ শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে তৈরী কাজ কি ব্যর্থ হবে তবে।

তারপর আবার স্বপ্ন। স্বপ্নাদিষ্ট রাজা, দীঘির মাঝখানে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করেন। তারপর এক ভোরে যুবরাজ রামনাথ সাদা পোষাকাচ্ছাদিত হয়ে হাতির পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করলেন সেই দীঘির দিকে। দীঘির পাড়ে পৌঁছে যুবরাজ রাম সিঁড়ি ধরে নেমে গেলেন মন্দিরে। সঙ্গে সঙ্গে দীঘির তলা থেকে অঝোর ধারায় পানি উঠতে লাগল। চোখের পলকে যুবরাজ রামনাথসহ পানিতে ভরে গেল বিশাল দীঘি। চিরদিনের জন্য যুবরাজ রাম হারিয়ে গেলো দিঘীর জলে। সেই থেকে দিঘীর নাম হলো রাম সাগর। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দিঘী এবং দেশের সবচেয়ে বড় দিঘি এবং সবচেয়ে ছোট জাতীয় উদ্যান রয়েছে এর পাশে।

IMG_20160218_142222

দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার (৮,০০০ মি) দক্ষিণে তেজপুর গ্রামে দীঘিটি অবস্থিত।দিঘীর মোট আয়তন  ৪,৩৭,৪৯২ মিটার, দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা ১০-১৫ মিটার। এটি বাংলাদেশে মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় দিঘি।। বিভিন্ন আকৃতির বেলেপাথর স্ল্যাব দ্বারা নির্মিত ঘাটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল যথাক্রমে ৪৫.৮ মিটার এবং ১৮.৩ মিটার। দীঘিটির পাড়গুলো প্রতিটি ১০.৭৫ মিটার উঁচু।

এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৭টি পিকনিক কর্নার। সেখানে আছে ২টি টয়লেট, ১টি ক্যাফেতেরিয়া। আছে শিশুপার্ক। এছাড়া সেখানে আছে কিছু হরিণ। এই উদ্যানে প্রবেশের জন্য রয়েছে টিকিটের ব্যবস্থা। রয়েছে একটি পুরনো মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ।

কিভাবে যাবেন

সড়কপথে অনেক বাস সার্ভিস রয়েছে। ঢাকার কল্যাণপুর থেকে প্রতিদিনই দিনাজপুরের উদ্দেশে বাস যায়। তা ছাড়া বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা থেকে সহজেই চলে আসা যায় দিনাজপুরে। দিনাজপুর শহর থেকে অটোরিকশায় ৩০-৪০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় রামসাগর জাতীয় উদ্যানে।

ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

কোথায় থাকবেন:  
দিনাজপুর শহরে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল হচ্ছে পর্যটন  মোটেল ফোন :৯৮৯৯২৮৮৯১   এসি টুইনবেড ১৫০০ টাকা এবং এসি টুইনবেড ডিলাক্স কক্ষ ১৮০০ টাকা অন্যান্য সাধারণ মানের হোটেলে ১০০১২০০ টাকায় রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে  আরো কিছু হোটেল হলোহোটেল ডায়মন্ড , মালদহ পট্টি, ফোন: ০৫৩১৬৪৬২৯, হোটেল আল রশিদ- নিমতলা ফোন: ০৫৩১৬৪২৫১,। এছাড়া রামসাগর পাড়ে রয়েছে, বনবিভাগের একটা বাংলো। আগে থেকে যোগাযোগ করলে খালি থাকা সত্বে এখানে জুটে যেতে পারে আপনার থাকার জায়গা। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে কয়েকবছর যাবত সাধারণের জন্য এটি ভাড়া দেয়া হয়না।

ছবি: লেখক

 

Published : আগস্ট ৩০, ২০১৬ | 1926 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798