পেশাদারিত্বের অভাবে দক্ষকর্মী তৈরী হচ্ছে না।

Published : আগস্ট ২৩, ২০১৬ | 1891 Views

পেশাদারিত্বের অভাবে দক্ষকর্মী তৈরী হচ্ছে না।

লায়ন মোহাম্মদ ইমরান

লাখ লাখ টাকা দিয়ে বিবিএ / এম বি এ করে একটা অফার লেটার লিখতে জানে না এমন লোকের অভাব নাই। আবার একটা ইমেইল লিখতে বললে যেন দাত ভেঙ্গে যায়। রিপোর্ট কি জিনিস তা মনে হয় জীবনে কোনদিন দেখে নাই। । জানে না প্রফেশনালিজম কি । আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনই। কোন মতে টাকার বিনিময়ে একটা ডিগ্রি। ব্যস হয়ে গেল।
আর এ জন্যই প্রফেশনাল লোকের খুব অভাব আমাদের দেশে। আর এজন্য বেশির ভাগ কোম্পানিতে বড় পোস্ট গুলো দখল করে আছে বিদেশিরা।

এ ধরনের লোক যখন কোন কোম্পানিতে প্রথম জব শুরু করে তখন তার মনে অনেক অদ্ভত প্রশ্ন দোলা দেয়। এই যেমন, এত প্রফেশনালিজমের কি দরকার? এত রিপোর্ট এর কি দরকার? আমি সারাদিন এত পরিশ্রম করি আর ম্যানেজার কিছু করে না।সুধু বসে বসে আমার থেকে ডাবল সেলারি নেয়। আমাদের বস কত বোকা কাজের লোকের দাম দিতে জানে না । কেন যে এই কোম্পানিতে পরে আছি?

কিছুদিন পর এদের মনের অশান্তি অন্য এমপ্লয়িদের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। শুরু হয় ছোট ছোট গসিপ, এর পর কোরাম। এর ভিতর কিছু মানুষ বুজে না বুজে তাল দিয়ে যায়। চলে যায় অনেকের চাকরি ।তখন লাখ টাকার ডিগ্রি ধারি মিটি মিটি হাসে। ঠিক লেজ কাটা শিয়াল টার মত।

আর এখানেই একটি কোম্পানির সামনে যাবার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। এটা একটা ভাইরাল হিসেবে কাজ করে। একটা ভুল মানুষকে যেমন অনেক শিক্ষা দেয় তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করে দিয়ে যায়। আর এজন্য মাক্সিমাম কোম্পানি ফ্রেশার নিতে ইচ্ছুক হয় না। কারন তাদের অভিজ্ঞতা আর তিক্ততা অনেক বেশি এই লাখ টাকার ডিগ্রি দের নিয়ে।

যারা বলে আমি সারাদিন কাজ করি তাও এত কম সেলারি পাই আর ম্যানেজার বসে থেকে এত সেলারি কেন পায় তাদের জন্য নিচের গল্পটা ঃ

একদেশে এক রাজা ছিল। প্রতিদিনের মত বিকেলে ছাদের উপর হাটা হাটি করছে। হটাত এক সৈন্য এসে রাজার অনুমতি নিয়ে কিছু বলতে চাইল।
রাজা অনুমতি দিলে সৈন্য অনুযোগ করতে লাগল –

“হুজুর, আমরা আপনার সৈন্য। জীবন বাজি রেখে আপনার রাজ্য ও আপনাকে পাহারা দেই। আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাই না। সব সময় আপনার দেখাশুনা করি। ”

রাজাঃ হুম।
সৈন্য ঃ অথচ মন্ত্রি সারাদিন কিছু করে না। শুধু আপনার সাথে বসে থাকে। আর আমাদের কে বকা দেয়।
রাজাঃ হুম
সৈন্য ঃ কিন্তু আমাদের বেতন এত কম কেন আর মন্ত্রির বেতন এত বেশি কেন?

রাজা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলতে লাগল ” ওই যে দেখছ একটা পালকি যাচ্ছে তাদের কে জিজ্ঞেস করে এসো কোথায় যাচ্ছে।” সৈন্য দৌড় দিয়ে গিয়ে উত্তর নিয়ে আসল আর বলল “অরা অমুক গ্রামে যাচ্ছে”

রাজা আবার বলল “অরা কোথা থেকে আসছে?” সৈন্য দৌড় দিয়ে গিয়ে উত্তর নিয়ে আসল আর বলল ” অরা অমুক গ্রাম থেকে আসছে”

রাজা আবার বলল “অরা কোন বাড়িতে যাচ্ছে?” সৈন্য দৌড় দিয়ে গিয়ে উত্তর নিয়ে আসল আর বলল ” অরা অমুক বাড়িতে যাচ্ছে”

এইভাবে ৭ বার এর বেশি সৈন্য দৌড় দিয়ে উত্তর নিয়ে আসল । তারপর অনেক ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ল। রাজা তখন বলল মন্ত্রিকে ডাক । যথারিতি মন্ত্রি আসল। এবার রাজা মন্ত্রি কে জিজ্ঞেস করল ” ওই যে দেখছ একটা পালকি যাচ্ছে তাদের কে জিজ্ঞেস করে এসো কোথায় যাচ্ছে।”

মন্ত্রি গিয়ে সব তথ্য নিয়ে আসল। তারপর রাজাকে বলল “অরা অমুক গ্রামে যাচ্ছে” । রাজা মন্ত্রিকে জিজ্ঞেস করল সেই প্রশ্নগুলো যা সৈন্য কে করেছিল । সাথে সাথে মন্ত্রি সব উত্তর বলে দিল । কারন মন্ত্রি প্রথমবার সব প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিয়েছিল।

এবার রাজা সৈন্য কে বলল ” এবার তোমার উত্তর পেলে কেন আমি মন্ত্রিকে বেশি বেতন দেই ? তুমি একটা কাজ সাতবার করলে আর আমার সময় নষ্ট করলে আর মন্ত্রি ওইটা একবারে করে আমার সময় ও শ্রম দুইটাই বাচিয়ে দিল।”

শারিরিক পরিশ্রম যদি সবচেয়ে মূল্যবান হত তাহলে একজন দিনমজুর সব চেয়ে বেশি অর্থ আয় করত। একজন ফ্রিলাঞ্চের ১ ঘণ্টায় যা আয় করে একজন দিন মজুর সারাদিনে সেটা করে কিনা সন্দেহ আছে। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা না করে নিজের বেস্ট দেয়াটাই ভাল। নিজের ভুল গুলো শুধরিয়ে ভাল কিছু চেষ্টা করাটাই শ্রেয়।

Published : আগস্ট ২৩, ২০১৬ | 1891 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798