মার্গারিতা মামুনকে নিয়ে বিতর্ক ফেসবুকে

Published : আগস্ট ২২, ২০১৬ | 1224 Views

মার্গারিতা মামুনকে নিয়ে বিতর্ক ফেসবুকে

04+mamun

রাশান থেকে অনুবাদ করলে তার নাম মার্গারিতা মামুন, ইংরেজী থেকে মার্গারিটা মামুন, ডাক নাম রিতা। রিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের পর তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একদল বলছে বাংলার বাঘিনী। অন্যরা বলছে সে একটা রুশ মেয়ে সে আমাদের কেউ নয়। তার জয়ে আমাদের খুশি হওয়ার কি আছে।

রিও অলিম্পিকসে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের ব্যক্তিগত অল-এরাউন্ড ইভেন্টের শিরোপা জিতলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাশিয়ান তরুণী মার্গারিতা ফাইনালে তিনি পেছনে ফেলেন ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকসের স্বর্ণজয়ী রুশ তারকা ইয়ানা কুদরায়েতসেভাকে। ক্যারিয়ারে অল-এরাউন্ড ইভেন্টে কুদরায়েতসেভার বিপক্ষে মার্গারিতা মামুনের এটি প্রথম জয়। মার্গারিতা মামুনের বাবা বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন, মা রাশিয়ান আন্না মামুন৷ ছোটবেলায় অনেকবার বাংলাদেশে এসেছিলেন রিতা৷

রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়ানকে মার্গারিতা মামুন বলেন, এটা জেনে আমি খুবই খুশি যে বাংলাদেশে আমার প্রচুর ভক্ত রয়েছে। এবং তারা আমাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলা বলতে পারেন নাকি? মার্গারিতা মামুন বলেন, বাংলায় এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনতে পারি আমি। আমার ছোটবেলায় বাবা আমাকে বাংলা শেখাতেন। তবে এখন আমি তা ভুলে গেছি। মার্গারিতা বলেন স্বর্ণটা আমার কাছে একবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। অল-এরাউন্ডে প্রতিযোগিতায় আগের প্রত্যেকবারই কুদরায়েতসেভার কাছে আমি হার দেখেছি। আমি স্বর্ণ জয়ের কথা আসলেই ভাবিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন লিখেন-  আমি মার্গারিটা মামুনের সাফল্যে আনন্দিত এবং গর্বিত। এতটা ছোট মনের মানুষ আমি নই, যে মেয়েটার সাফল্যে জ্বলে পুড়ে মরবো। আমার আপত্তিটা হচ্ছে তাকে নিয়ে এখন যে আদিখ্যেতাটা করা হচ্ছে সেটা নিয়ে। এই মেয়েটা ২০০৯ এ বাংলাদেশের হয়ে অলিম্পিকে অংশ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেসময় কর্তৃপক্ষ তাকে দলে ভিড়িয়ে ঝুকি নিতে চায় নি। এখন মেয়েটা গোল্ড জিতেছে বলে সবাই হামলে পড়েছে তার কৃতিত্বের ভাগ নিতে। এটা কেন??? আমার আপত্তিটা সেখানে। আমরা চার বছরে অলিম্পিয়ানদের দিকে চোখ ফিরে তাকাবো না, নিজেদের এ্যাথলেটদের প্র্যাকটিস করার সুযোগ দেবো না, পারলে ফেডারেশনের চা পানি টানাবো আর অলিম্পিকের ময়দানে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের সামনে হেরে গেলে কান পাকড়ে বলবো মেডেল পাইলি না ক্যান?

আরেকজন লিখেছেন- যতই চিল্লিয়ে গলা ফাটান, ঐ মেয়ে আপনাদের কেউ না। যতই তাকে ধরে পাকরিয়ে ফুল দিয়ে বাংলাদেশে আনেন, সে আপনাদের হবে না।  ঐ মেয়ের কাপড় দেখছেন? জিমন্যাস্টিকসে গোল্ড মেডেল পেলে আপনাদের শফি হুজুর বলতো – বেগানা তেতুল, শরীর দেখায়া মেডেল আনছে, এই মেডেল হারাম।

বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে হিজাব পরা তনু ও বাঁচেনি। আর এই মেয়েরেতো আরো আগেই ঝোপ জঙ্গলে নিয়ে যেতেন, মেয়েটা বেঘোরে মারা পড়তো। তারপর আফসানার মতন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতেন।

সো, ওকে নিয়ে আজাইড়া কামড়া কামড়িটা বন্ধ করেন। আর কত ছোট করবেন নিজেদের? আর কতবার বাঙালকে কাঙাল প্রমান করে থামবেন বলুনতো? এভাবে নানা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুকে।

হুপ, বল, ক্লাবস ও ফিতার চার রাউন্ডে ৭৬.৪৮৩ স্কোর নিয়ে শিরোপা জেতেন মার্গারিতা মামুন। ৭৫.৪০৮ স্কোর নিয়ে রৌপ্য পদক জেতেন কুদরায়েতসেভা। রাশিয়ায় প্রবাসী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রাজশাহীর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের কন্যা মার্গারিতা মামুন জুনিয়র পর্যায়ের জিমন্যাস্টিকসে কিছুদিন বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ‘রিতা- দ্য বেঙ্গল টাইগার’ নামে খ্যাত মার্গারিতা মামুন এ ইভেন্টের বাছাই পর্বে শীর্ষস্থান নিয়েই ফাইনালে পা রেখেছিলেন।

Published : আগস্ট ২২, ২০১৬ | 1224 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798