অাপনা মাংসে হরিণা বৈরী

Published : আগস্ট ২১, ২০১৬ | 1617 Views

এটা একটা প্রবাদ। একেবারে এক হাজার বছরের বেশী এই প্রবাদের বয়স। খোদ প্রাচীণ পুঁথি চর্যাপদের চরণ। যার মানে হলো হরিণের আপন মাংশই তার শত্রু। যখন কথাটা প্রথম শুনি তখন ঠিক বুঝতে পারিনি। কিভাবে হরিনের নিজের সুস্বাদু মাংশই তার শত্রু হয়।

দিনাজপুর শহর থেকে অদূরে রামসাগর পারে একটা ছো্ট ছিড়িয়াখানা আছে সেখানে বিশটির বেশী আছে হরিণ। ছোট একটা ঘেরাওয়ের মাঝে হরিণগুলো বন্দী হয়ে আছে আর তাদের পেটে ঠেকে আছে পিঠের সাথে। বেচারা হরিণ মাছ গোছ খায়না, খায়না বিরানী খিচুড়ীও, বার্গার চাইনিজ চাওমিন খেলে না জানি কি হতো? ফিজা হটডগ বা স্যান্ডউইচ এর কথা আর না বলি খাওয়ার মধ্যে খায় চারটা ঘাষ কেবল, তাতেই সে শেষ করে ঘাষ খেয়েছে তা গবেষনা করার জন্য হয়তোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা অনুসদের ডাক পড়তে পারে। এটা আমার মতামত। আর সেখানে ঘুরতে আসা পাবলিকের মতামত হলো। … … … না ভাই লেখা গেলো না। এইটুকু জায়গা মনে করুন যে ঘষা লেগে প্রিন্ট উঠে গেছে। আমাকে দেখে অনেকেই অনুরোধ করেছে আমি যেন এই নিরীহ প্রানীদের উপর হাখাবার অত্যাচার এর দূ:সহ স্মৃতির কথা পত্রপত্রিকায় লিখি। মনে মনে ভাবি- হায়রে দিন হায়রে কাল পত্রিকার লেখায় যদি কাম অইবে তাইলে কি আর যুগে যুগে শাষকগোষ্টি চাটুকার পালতো নিহি।

আজো সেই প্রবাদ অপনা মাংসে হরিণা বৈরি আমার কাছে জটিল ও দূর্ভেদ্য মনে হলো। আজ বুঝতে পারিনি এই নিরীহ হরিণগুলোর শত্রুতা আসলে কিসের সাথে। বনের কয়টা হরিণকে আটকে রেখে অভুক্ত রাখার মাঝে মনুষ্য প্রজাতি কি বীরত্ব জাহির করিতে চাহে তাহা আমার বোধের গম্য নহে, আপনিরা যদি জানিতে পারেন তাহা জানাইলে বাধিত হইবেক।

পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমনের সময়ের ঘটনা।

Jahangir Alam Shovon

Published : আগস্ট ২১, ২০১৬ | 1617 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798