জঙ্গিবাদ নির্মূলে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের ভূমিকা

Published : আগস্ট ২০, ২০১৬ | 2259 Views

জঙ্গিবাদ নির্মূলে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের ভূমিকা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

social-responsibility

মধ্যযুগের লড়াইটা ছিলো দেশ দখলের। বিংশ শতাব্দীতে লড়াইটা শেষ হয়ে আমেরিকা যখন বিশ্ব মাতব্বর হলো তখন লড়াইটা বদলে গেলো।লড়াইটা কৌশলগত ও কিছুটা আদর্ক হয়ে গেলো।আজ থেকে দুইশ বছর আগে বিশ্বটা যখন বৃটিশদের দখলে ছিলো তারা ইসলাম ও মুসলিমদের সাথে শুধু যুদ্ধই করেনি। তারা ষড়যন্ত্র, ধর্ম অবমাননা, ও ধর্মান্তর কাজে রাজশক্তিকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু রাশিয়া উত্থানের পর যুদ্ধট ঘুরে গেলো। অনেকগুলো মুসলিম দেশ দখল করে ধর্মকর্মে বাধা সৃস্টি করে তারা ইসলামের মুখোমুখি এসে দাড়ালো। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাস্ট্র তাদের প্রতিদ্ধন্ধী ছিলো তাই তারা রাশিয়ার সাথে ন্সায়ুযুদ্ধ শুরু করলো। নিজেরা অস্ত্রক্ষয় না করে অন্যদেরকে দিয়ে যুদ্ধটা করালো প্রতিপক্ষকে কাবু করলো এবং মিত্রপক্ষের কাছে অস্ত্রের ব্যবসা করলো। রাশিয়ার অধীনে মুসলিম দেশগুলোতে জিহাদী জঙ্গি তৈরী করলো আর শুরু হলো ইসলামী জঙ্গিবাদের ইতিহাস। এর আগে কেউ কখনো এমনটা শুনেনি।

কেন জঙ্গিবাদ ভ্রান্ত ধারণা:

১.         ইসলামে কোথাও ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ হত্যার কথা বলা হয়নি। শুধু তাই নয় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কোন অবৈধ ও অনৈতিক পন্থার কথা ইসলামে বলা হয়নি। তাহলে প্রিয়নবী (স.) ২৩ বছর ধরে মানুষের মার খেয়ে খেয়ে দ্বীন প্রচার করতেন না।

২.         প্রিয়নবী (স.) ইসলামের প্রথম যুদ্ধগুলো করেছেন আত্মরক্ষার জন্য। তৃতীয় পর্যায়ের যুদ্ধগুলো ছিলো অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কারণ সেসব গোষ্ঠিগুলো ইসলামের উপর আক্রমণ করার জন্য শক্তি সঞ্চয় করছিলো। তাদের মোকাবেলা না করলে ইসলামের অস্তিত্ব বিপন্ন হতো, এবং পবিত্র কাবা শরীফ মুক্ত করার ব্যাপার ছিলো। সেটাও হুট করে করেননি। বরং একবার হজ্জ করতে গিয়ে হজ্জ না করে হুদায়বিয়ার সন্ধি করে ফিরে এসেছেন ¯্রফে রক্তপাত এড়ানোর জন্য। তৃতীয় এবং শেষ পর্যায়ের যুদ্ধগুলো ছিলো মদীনা নামক রাষ্ট্রের মাধ্যমে সেখানে একটা সুপ্রিম পাওয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়ে সেসব যুদ্ধের ফায়সালা দিয়েছিলেন। সূতরাং আজকের জঙ্গিবাদের প্রেক্ষাপট এবং রাসূল (স) এর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এক নয়।

৩.        মোহাম্মদ (স) যুদ্ধগুলোতে প্রতিপক্ষের সাথে প্রকাশ্য শত্রুতা ছিলো এবং যুদ্ধের ময়দানে সরাসির মোকাবেলা হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নিরীহ অসামরিক লোককে হত্যা করা হয়নি। কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিলো সেগুলো কাফেররা ঘটিয়েছিলো আর ২/১টি ঘটনা কয়েকজন অতি উৎসাহী সাহাবীরা করেছেন। যাকে হত্যা করেছেন তাও যুদ্ধ চলা অবস্থায় অথবা যুদ্ধের প্রস্তুতি ও বিজয়কালে, যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো তারা আবার ছিলেন ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী।

৪.         আজ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠি যুদ্ধ করতে পারেনা। তখন আরবেও এটা হয়নি। মুসলিমরা এক হয়ে সব মোকাবেলা করেছে। সূতরাং বিশ্বের সব মুসলিম এক না হলে একটি রাজনৈতিক সুপ্রিম পাওয়ারের আওতায় না এলে এবং মুসলিম সমাজ ও ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য হুমকি না হলে যুদ্ধ করার কোনো যুক্তিকতা নেই। যেখানে যুদ্ধ করারই যুক্তিকতা নেই সেখানে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসের তো প্রশ্নই আসেনা।

৫.         বেশীরভাগ লোক কমপক্ষে ৭০-৮০ভাগ লোক যদি দ্বীন মেনে না চলে সে সমাজে জোর করে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। তাই আসুন সকলের সচেতন হওয়া দরকার।

কিন্তু আজ মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী জঙ্গি বলা হচ্ছে, নানা রকম বিচ্চিন্ন হামলায় তাদের জীবন আজ বিপন্ন। গুটিকয়কে পথভ্রষ্ঠ লোকের জন্য পুরো দ্বীন-ধর্ম কেন নষ্ট হবে তা আমাদের বোঝা দরকার। হয়তো সংখ্যা বা প্রভাবে জঙ্গিবাদের রেকর্ড খুব বড় নয় মানে আমরা যদি একটা পরিসংখ্যান করি দেশীয় এবং আর্ন্তজাতিকভাবে যে কোন পক্রিয়ায় সবচে বেশী মানুষ খুন হচ্ছে। তহালে হয়তো সেরা ১০টা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেরা ১০০টা ঘটনার মধ্যেও জঙ্গিবাদী কারণ আসবেনা। রাজনৈতিক হানাহানি, সম্পদের জন্য, সামাজিক শত্রুতা, নানারকম দূর্ঘটনা ইত্যাদি কারনেই সবচে বেশী লোক মারা যায়। অথবা ফিলিস্তিনি মুক্তিযোদ্ধারাই বেশী নিহত হচ্ছে ইসরাইলী সেনার চেয়ে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাস ও পুলিশের খুন, গুম এমনকি  দূর্ঘটনার কারনেও প্রচুর মানুষের অপমৃত্য হয়। তার উপর এখন যুক্ত হয়েছে এই ‘‘জিহাদী জঙ্গিবাদ’’ । এই জঙ্গিবাদ সমাজের জন্য এক মারাত্বক বিষফোড়া। কারণ এর বিকাশ ঘটলে তখন আর কেউ ঘুমাতে পারবেনা। কিন্তু জঙ্গিবাদের কারণে আমাদের তথা মুসলমানদের দৈনিন্দিন জীবনে অনেক বেশী ক্ষতি হচ্ছে। নেতিবাচক কারণে বিশ্বজুড়ে মুসলিম কমিউনিটি নানা বিপদ এর সম্মূখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত, তাদের ক্ষতির মাত্রাও অনেক বেশী ।

এখন এই জঙ্গিবাদের করাল ঘ্রাস থেকে বাঁচতে বৃহত্তর মুসলিম সমাজকেই  ভূমিকা নিতে হবে। কি ভূমিকা নেবে বৃহত্তর মুলিম সমাজ।

১.         পারিবারিক অনুশাসন:

যেকোন সামাজিক অপরাধ রোধ করার জন্য এটা অত্যন্ত কার্যকর উপায়। কিশোর বয়স থেকেই এটা খেয়াল করতে হবে। অন্যের উপর জোর খাটানো অন্যায়, নিরীহ মানুষের ক্ষতি করা অপরাধ, সব ধর্মের মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, মানুষের ধর্মীয় ভুলের শাস্তি আল্লাহ পরকালে নির্ধারণ করে রেখছেন। সেটা পৃথিবীর কারো হাতে দেয়া হয়না। আর সব মানুষ ভাই ভাই। এসব শিক্ষা ছোটবেলায় দিতে হবে। কেউ তার ক্ষতি করলে ক্ষমার চর্চা করতে হবে প্রতিশোধের নয়।

২.         একটা নিদিষ্ট বয়স পর্যন্ত পাঠের সিলেবাস নির্ধারণ:

মানুষ যে রকম সব খাবারের বয়স না হলে সব খাবার খেতে পারেনা। জ্ঞানের ক্ষেত্রেও এটা জরূরী। সব জ্ঞান অর্জনের বয়স না হওয়া পর্যন্ত সব ধরননের বইপত্র তরুনদের হাতে দেয়া ঠিক নয়।

৩.        যুবক বয়সে পরিবারের খোজখবর:

যুবক বয়সে ছেলেরা যখন বাইরে মেলামেশা করে তখন তারা কোথায় যায় কি করে, এগুলো পরিবারের লোকদের খোঁজ খবর রাখা উচিৎ।

৪.         বিভিন্নমূখী বৈশ্বিক জ্ঞান:

কম বয়সে ইতিবাচক বিভিন্নমূখী তথ্যভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক মানসিকতা তৈীরর সুযোগ দিতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর সব ধরনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। ততদিনে ভালোমন্দ জ্ঞান তৈরী হবে।

৫.         তৃতীয় একটা বিষয়:

লেখাপড়ার পাশাপাশি তৃতীয় একটা বিষয় এর প্রতি আকৃষ্ট করাতে হবে। তবে সেটা ইতিবাচক। যেমন বাগান করা, বইপড়া, পাখিপালন ইত্যাদি। ধর্মীয় পরিবার গুলোতে সমাজসেবা, নামাযপড়া, ইসলামী বই পড়া, ব্লগে লেখা এসব ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।  আর প্রগতিশীল পরিবারে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চচার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।

৬.        যুক্তি দিয়ে বিচার:

ছোট বেলা থেকেই আপনার শিশুকে শেখান যেন সে যেকোন বিষয় যুক্তি দিয়ে বুঝতে শেখে।

৭.         শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিলেবাস উন্নয়ন:

মাদ্রাসা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিলেবাস উন্নয়ন করে। ধর্মীয় চিন্তাটা সঠিকভাবে পরিষ্কার করে তুলে ধরতে হবে। সেটা সেক্যুলারিজমের দৃষ্টিতে এমনভাবে দেয়া উচিৎ নয় যাতে নতুন প্রজন্ম সেখানে তাদের সব প্রশ্নের জবাব না পায় অথবা সেটাকে ভুল মনে করে সঠিক জ্ঞানের খোঁজে অন্যদিকে ধাবিত না হয়।

৮.        বন্ধু বাছাইয়ে সর্তকতা:

যুবকবয়সে বন্ধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিবারের উচিৎ এবিষয়ের প্রতি নজর রাখা। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশে যেসব যুবক পথভ্রষ্ট হচ্ছে তাদেরকে জঙ্গিরা মসজিদ থেকে টার্গেট করে। সেখান থেকে বন্ধুত্ব করে, পরে বিপথে নিয়ে যায়।

৯.         শুরুতেই ব্যবস্থাগ্রহণ:

যখন বুঝতে পারবেন আপনার সন্তান জঙ্গিদের পক্ষে কথা বলছে বা তাদের প্রতি সহানভূতি দেখাচ্ছে তখন থেই সতর্ক হোন। তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। সে কি বলতে চায় শুনুন । তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝান। বুঝতে না চাইলে এমন কোন ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান যিনি মানুষ হিসেবেও ভালো আর বুঝিয়ে বলতে পারেন।

১০.       প্রতিবাদের শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বন:

যদি আপনি মনে করুন। কোথাও মুসলিমদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ করুন। আজকাল প্রতিবাদের হাজারো উপায় আছে। হয়তো কেউ বলবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে কি আর ইসরাইলীরা ফিলিস্তিন ছেড়ে যাবে? আমেরিকা ইরাকে লুন্ঠন বন্ধ করবে? তা হয়তো করবেনা। কিন্তু তাদের সাথে যুদ্ধ করলেওতো তারা তা বন্ধ করবেনা। বরং একজন ইজরাইলী সেনা গুলতি মারলে  বুলডোজার দিয়ে এস তিন হাজার নারী শিশুকে মেরে যাবে। কিন্তু জনমত যদি গঠন করা যায় এবং বিশ্ব মুসলিম ঐক্য করা যায়। তখন মিলিত মুসলিম বিশ্বের  এবটি বিবৃতি বা হুমকি বা কূটনীতি অনেক বেশী কাজ দেবে। তাই সে লক্ষ্যে কাজ করতে বলুন।

১১.       জঙ্গিদের ব্যাপারে সকলের সচেতনতা:

জঙ্গিবাদ ইলামের ক্ষতি করছে একথা সবাই জানতে হবে। এবং একমত হতে হবে। জঙ্গিবাদীদের কোন সাহায্য সহযোগিতা করা যাবেনা। বরং তাদের প্রতি অসহযোগ হতে হবে।

১২.       সমাজ ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগানো:

প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। সমাজে যেসব সমস্যা আছে সেগুলো দূর করার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কেউ যদি দ্বীণ ধর্মের জন্য কাজ করতে চায় তাহলে তাকে দাওয়াতী কাজ করতে হবে। দাওয়াতে তাবলীগই হলো ইসলামের প্রথম কাজ। তার মানে আমি তাবলীগ জামায়াতের কথা বলছিনা। যেটা করলে মানুষ তার সামাজিক দায়দায়িত্ব ভুলে যায় দেশ রসাতলে গেলে দিব্যি নাক তেল দিয়ে ঘুমায়, জঙ্গিবাদকে যেমন ঠেকাতে হবে। তেমনি এ ধরনের প্রবণতাও নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ আমরা যদি কোন প্রতিবাদ না জানাই তাহলে সমাজে সুবিধাবাদীরা আরো মারাত্বক ক্ষতিকর হয়ে উঠবে। তারমানে ভ্রান্ত রাজণীতিক মতবাদ থেকেও সাবধান থাকতে হবে।

১৩.      সঠিক দ্বীনি শিক্ষার প্রসার:

ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে। অনেকে বলবেন। কার কাছে যাবো। একজন তো একেকরকম বলে। আমি বলবো ভোট দেয়ার সময়তো আপনি নিজে জেনে বুঝে দেন। বাজার করার সময় প্রতিদিন জেনে বুঝে করেন। একাজটাও নাহয় নিজেই বুঝে নিন।

১৪.       কাউন্সেলিং চালু করা:

জঙ্গিবাদ আদতে কোনে ধর্মীয় সমস্যা নয় এটা মানসিক সমস্যা এজন্য এটা নিরসেনে পরিবারে সমাজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে কাউন্সেলিং করাতে হবে। কারণ স্বাধীনতার পর প্রায় সাড়ে ৩ হজার লোক রাজনৈতিক কারণে খুন হয়েছে। এর মধ্যে জঙ্গিদের হাতে একশরও কিছু কম বেশী এর বেশীরভাগই প্রচলিত রাজনীতিবিদদের হাতে। সূতরাং সমস্যাটা যতটা ধর্মীয় তারচেয়ে বেশী রাজনৈতিক তারচেয়ে বেশী সামাজিক। একটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের যে নেতা একটা লোককে পিটিয়ে খুন করে তার উপর নৃত্য করলো সেতো কোন জঙ্গি নয়। সে নরপশু তো আমাদের সমাজের সৃষ্টি। বা রাজনীতির তৈরী। যে লোকগুলো প্রতিপক্ষের মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি করছে। তারা কারা? যে লোকগুলো তাদের মিছিলের পাশে দিনের বেলায় প্রতিপক্ষের একজন লোককে পেয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারে তারাতো মুক্তিযুদ্ধের নাম দিয়েই করলো তারা তো জঙ্গি নয়। যারা নিজদলেরই লোকদের মেরে ইটবেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দিলো তারাতো আল কায়েদার লোক ছিলনা। যারা নিজ দেশের সবচে প্রিয় নেতাকে মেরেছে তারাতে আইএস এর লোক ছিলনা। যারা নিজদেশের মানুষদের প্রেটোল বোমা দিয়ে মারছে তারাতো ইসরাইল থেকে আসেনি। যে পুলিশ নিজের দেশের জনগনকে হাতে ধরে গুলি করছে গুম করছে তারাতো পাকিস্তানী সৈন্য নয়। তহালে করছে কেন? তাদেরকেও কাউন্সেলিং এর আওতাও আনতে হবে। সবার আগে ছুড়ে ফেলতে হবে যারা হত্যার নির্দেশনা দিয়ে রাজনীতি করে তাদের। যারা প্রতিপক্ষের মানুষকে খুন করার, ফাসী দেয়ার জন্য শাহবাগ আর শাপলা চত্বরে জড়ো হয়। এরাও সুস্থ্য আর সামাজিক নয়। যাদের কাছে যুক্তি বিচার আর আইনের চেয়ে ফাঁসী বড়। তারা সমাজ ও মানবতার শত্রু। তাদের সঠিক শিক্ষা দরকার।

১৫.       কোরআন হাদীসের মাপকাঠি:

যারা ইসলাম চর্চা করবে তাদের জন্য কোরআন ও হাদীসই হবে সঠিক মাপকাঠ, কোনো মুরব্বির ফতোয়া নয়। কোনো পীরের বিধান নয় কোনো নেতার নির্দেশ নয়। এই সত্যটি সবাইকে উপলব্দি করতে হবে। আর যে লোকটি কোরআনর হাদীস আল্লাহ রাসূল বিশ্বাস করেনা। তার জন্য কোরআন হাদীসের কোনো বিধান অন্তত দুনিয়াতে প্রযোজ্য হতে পারেনা। পরকালে আল্লাহ কি ঠিক করেছন সেটা আল্লাহ ভালো জানেন । তবে হ্যাঁ কেউ যদি সমাজকে নষ্ট করতে চায় তার ব্যাপারে সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ডিসিশান নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে ইসলামের প্রথম যুগে অনেক শত্রু পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে। সূতরাং ফাঁসী মৃত্য বা খুন এসব কোন সমস্যার সমাধান নয়। হামযার কলিজা চিবিয়ে খেয়ে হিন্দা ক্ষমা পেয়ে গেছে। বড়ো বড়ো নাস্তিক শেষ বয়সে ইশ্বরের কৃপা ভিক্ষা করেছে। সেটা নিশ্চয় কারো অজানা নয়।

আসুন আমরা ধর্মীয় জঙ্গিবাদের নির্মূলে কাজ করি। সামাজিক সন্ত্রাসবাদ দমনে একসাথে থাকি। রাজনৈতিক নিধনবাদ দমনে সচেতন হই। পুলিশি হত্যাযজ্ঞ বন্ধে সোচ্চার হই। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাই। আন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলি।  প্রতিটি চেষ্টা ভেতর থেকে করতে হবে। যতক্ষন মুসলিম সমাজের ভেতর থেকে জঙ্গিবাদ বিরোধী সচেতনতা তৈরী না হবে ততক্ষন এটা বিষফোঁড়া হিসেবে থেকে যাবে। যতক্ষন দলের ভেতর থেকে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ব্যাপারে কেউ সোচ্চার না হবে সে দলে সেটা জায়েয বলে চালূ হয়ে যাবে। যতক্ষন সামাজিক সংগঠন ও সামিজিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক গুন্ডামির বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াবে ততক্ষন তারা সবার উপর ছড়ি ঘোরাবেই। যতক্ষণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা নিজেরা ন্যায়ের মধ্যে থাকবেনা ততক্ষণ তাদের বাহিনী গুলো নস্ট হতে থাকবে। আর আর্ন্তজাতিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে  ঐক্য এবং জনমতের বিকল্প নেই।

একটা কথা মনে রাখতে হবে কেউ যদি বলে আমি শান্তির জন্য যুদ্ধ করছি। তহালে মনে রাখতে হবে সেই সবচে বড় যুদ্ধবাজ। কেউ যদি বলে আমি দেশের জন্য ক্ষমতা আকড়ে আছি সে বড় ক্ষমতাবাজ। কেউ বলে আমি ধর্মরজন্য মানুষ মারছি সেই সবেচয়ে বেশী অধর্মের মধ্যে আছে।

Published : আগস্ট ২০, ২০১৬ | 2259 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798