ছোট ছোট কাজ থেকেই বড়ো কিছু করার অনুপ্রেরণা

Published : আগস্ট ১৪, ২০১৬ | 1144 Views

ছোট ছোট কাজ থেকেই বড়ো কিছু করার অনুপ্রেরণা
মোহাম্মদ আশরাফ আলী

 

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ছোট ছোট কাজ থেকেই মানুষ একদিন বড়ো কিছু করার অনুপ্রেরণা পায়। এবং পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা মানুষকে পরবর্তীতে বড়ো কাজে সফল হতে সাহায্য করে। কখনো কখনো আমরা বড়ো কিছু করার স্বপ্ন দেখি কিন্তু ছোট কাজকে অবহেলা করি ফলে আমরা কখনো শুরু করতে পারি না। আজ এমন একজন মানুষের গল্প করবো। যিনি সম্প্রতি পাঁয়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমন সম্পন্ন করেছেন। জাহাঙ্গীর আলম শোভন যিনি অনলাইন লেখক ও ই কমার্স এডভাইজার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি এখন একজন অভিযাত্রী পর্যটক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৬ থেকে ২৯ মার্চ ২০১৬ এই সময়ের মধ্যে ১১৭৬ কিলোমিটার রাস্তা পদব্রজে ভ্রমণ করেন। এটা এখন একটা জাতীয় রেকর্ড।
কিন্তু তার কর্মজীবন ঘেঁটে দেখলে দেখা যাবে তিনি খুবই ছোটখাটো কাজ করে করে নিজেকে বড়ো কিছু করার জন্য তৈরী করেছেন। যদি তার পেশাগত জীবন দিয়ে শুরু করি তাহলে দেখা যাবে তিনি প্রথম দিকে বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে এনজিও হয়ে আইটি প্রফেশনালদের সাথে কাজ করার সুযোগ হয় তার। এমনকি বিদেশী চ্যারিটি সংস্থায়ও কাজ করেন তিনি।

সামাজিক কাজের ক্ষেত্রেও তিনি একেবারেই ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাহায্য সহযোগিতা করতেন গরিবদের। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে স্বেচ্চাসেবক হিসেবে নানা কাজ করে দিতেন। একটা সময় পর সবাই তাকে যেকোনো কাজের জন্য ডাকতেন। ফলে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করতেন। খুব ছোটবেলায় মানে একেবারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি তার বাড়ীর আঙিনায় প্রতিবেশীদের ছেলেমেয়েদেরকে বিনাপয়সায় পড়াতেন। আজ পর্যন্ত তিনি তার এই সেবার মানষিকতা ধরে রেখেছেন। নিজে নিয়মিত রক্ত দিয়ে থাকেন। যেখানে যান শিশুদের পক্ষে কথা বলেন, শিশু নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ রোধ করতে বলেন। তার লেখালেীখতেও সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে থাকেন।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া

পায়ে হেঁটে ভ্রমনের সময় তোলা

এসব কাজ করতে গিয়ে সব কিছু যে সহজে হয়ে যায় তা নয়, নানা বাঁধা বিপত্তি পেরুতে হয়। সমাজের কিছু পরশ্রীকাতর লোক বিভিন্ন কুৎসা রটনার মাধ্যমে এসব কাজে সমস্যা সৃষ্টি করেন। কিন্তু প্রকৃত দেশপ্রেমী ওমানবপ্রেমী লোকেরা এসব কাজে কখনোই পিছপা হন না। জাহাঙ্গীর আলম শোভন বলেন, যখনি দেখি মানুষ একটা ভালো কাজকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরছে বা কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করার পায়তারা করছে তখনি আমার কাছে মনে হয় এই সমাজ বদলানোর জন্য আরো বেশী বেশী কাজ করা উচিত। এবং এইসব মানুষদের মানষিকতার পরিবর্তন করার জন্যও কাজ করা প্রয়োজন।

একসময় পোস্টকার্ড সাইজের একটা পত্রিকা প্রকাশ করতেন তিনি। লোকসাহিত্যের কাগজ। লোকসাহিত্য বিষয়ক লেখা থাকে তাতে। দশবছর এটি প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি রাখালী ডট কম নামে েএকটি লোকসাহিত্য বিষয়ক ব্লগ এর আত্মপ্রকাশ করতে যাছ্ছেন। আজকের এই ব্যতিক্রম ব্লগের পেছনে সেই ছোট ৫ইঞ্চি বা তিন ইঞ্চি সাইজের একটি লিটল ম্যাগ এর প্রেরণা কাজ করছে। ঠিক তেমনি পায়ে হেটে দেশভ্রমনের আগে ছোট ছোট ২৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটারের ছয়টি পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।িএভাবে আজ তিনি গাজীপুরের শিশুর জন্য আমরা নামে একটি সংগঠনের সাথে কাজ করেন। এজন্য তিনি আগেই বিছ্চিন্নভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিভিন্নসংগঠনের গিয়ে শিশুদের কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন কাজ করতেন।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন সবচে বেশী পরিচিতি পেয়েছেন লেখক হিসেবে। লোকসাহিত্য নিয়ে তার রয়েছে অর্ধশতাধিক প্রবন্ধ বিভিন্ন প্রত্রিকা ও ব্লগে। ই কমার্স বিষয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী লেখা তার এর সংখ্যা একশ পঞ্চাশটিরও বেশী। পর্যটন বিষয়ে তার লেখা চলতি বছরেই একশ ছাড়িয়ে যাবে। রয়েছে শিশু ও নারীর অধিকার বিষয়ক লেখা রয়েছে সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে নানা প্রবন্ধ। এভাবে ধীরে ধীরে একটু একটু করে তিনি তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

টেকনাফ তেঁতুলিয়া হাজার কিলোমিটার এর রাস্তা হলেও। চলার পথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভ্রমনের কারণে তার এই যাত্রা ১১৭৬ কিলোমিটার হয়েগেছে। বাংলাদেশে পায়ে হাঁটার ক্ষেত্রে এটাই সর্বোচ্চ। একটা বিষয় এতে পরিষ্কার হয় যে কোনো লোক যদি স্বীয় লক্ষ্যপূরনে অবিচল থেকে কাজ করে যেতে পারেন তবে সফলতা একদিন তার হয়ে কথা বলবেই।

Published : আগস্ট ১৪, ২০১৬ | 1144 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798