অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে

Published : জুলাই ১১, ২০১৫ | 2224 Views

অনলাইন দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরা নিজেরাই নিউজ, বিনোদন, যোগাযোগ, ব্যাংকিং, বেচা-কেনা সহ প্রাত্যহিক কাজের জন্য আমরা দিন দিন ওয়েব এর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। শুধু কম্পিউটারের উপর আমরা এখন আর নির্ভর করিনা। আজকাল এন্ড্রয়েড, আইফোন , ট্যাবলেট এবং স্মার্ট ডিভাইসগুলো আমাদের জীবনের অংশ হয়ে পড়েছে।

এজন্য শুধু তথ্যপ্রযুক্তি তথ্য আদান প্রদানের জন্য ব্যবহার না হয়ে সার্বিক কাজের অনুসঙ্গ হয়ে পড়েছে এর মধ্যে অন্যতম হলো লেনদেনে। লেনদেনের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার ব্যাংকিং খাতে এক অবিস্মরনীয় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

অনলাইন পেমেন্ট
অনলাইন বা ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে লোকেরা যেসব লেনদেন করে থাকে। তাকে অনলাইন পেমেন্ট বলে এ ব্যবস্থায় ব্যাংকের সম্পৃক্ততা বা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়।

অনলাইন পেমেন্ট ও ই কমার্স
দেশে ই-কমার্স জনপ্রিয় হওয়ার সাথে ওপিজি বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের অবদান রয়েছে । ইলেকক্ট্রনিক পেমেন্টের ব্যাকএন্ডের সলিউশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পেমেন্ট গেটওয়েগুলো (ওপিজি)। চালুর পরে বর্তমানে এর ব্যবহার বেড়ে চলেছে। বর্তমানে দেশে ৮০ লাখ মানুষ ডেবিট কার্ড, ২০ লাখ মানুষ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। এছাড়া তিন কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং করে।

দেশীয় পেমেন্ট সুবিধা
বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেমেন্ট অপশন গুলো হলো ভিসাকার্ড, মাস্টারকার্ড, নেক্সাসকার্ড, বিকাশ, মোবাইলব্যাংক, ইসলামিব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এবং কিউক্যাশ ইত্যাদি। আরও অনেক পেমেন্ট অপশন আছে কিন্তু সেগুলা এখনো সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেনি। সকল প্রকার দেশি বিদেশি ভিসা এবং মাস্টার কার্ড প্রসেস হবে। এছাড়া ডাক বিভাগের রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং ও ভিপি সুবিধা। রয়েছে এস এ পরিবহন ও কয়েকটি কুরিয়ার কোম্পানীর লেনদেনের সুযোগ। সাম্প্রতীক কালে যোগ হয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারী সিস্টেম।

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে
অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এমন একটি গেটওয়ে যার মাধ্যমে আপনি অনলাইনে লেদদেন করতে
পারেন। একজন মার্চেণ্ট হিসেবে আপনি গ্রাহকের কাছ থেকে পন্য বা সেবার দাম গ্র্রহণ করতে পারেন। আর গ্রাহক তার ক্রেডিট , ডেবিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং এর সাহায্যে আপনাকে যেকোন জায়গায় সশরীরে না এসে পে করতে পারবে, আপনি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি উঠাতে পারবেন। উন্নত বিশ্বে সকল প্রকার কেনাবেচা আজকাল অনলাইনে এবং কার্ডের মাধ্যমে হচ্ছে। ক্রেতারা যেমনি অনলাইনে পে করতে অভ্যস্ত, তেমনি মার্চেন্টরাও অনলাইনে অর্থ গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।

বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে
বাংলাদেশে পেমেন্ট গেটওয়ে সার্র্ভিসের সাথে বহি: বিশ্বের সাথে কিছু পার্থক্য ও দূরত্ব রয়েছে। অন্য কোনো দেশের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে বাংলাদেশি কার্ড কাজ করেনা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধা বিপত্তি রয়েছে। বাংলাদেশের এবং দেশের বাইরের কার্ড এদেশের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে কাজ করতে হলে লোকাল অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস নিতে হবে। তখন পে করা অর্থ মার্চেণ্ট হিসেবে আপনার ব্যাংকের বিজনেস অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সাধারণত দেশী অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে দেশি বিদেশি সব ভিসা মাস্টার কার্ড কাজ করে।

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা পেতে
আপনি একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যাক্তা হিসেবে বিদ্যমান আ্ইনের আওতায় অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা নেয়ার জন্য সর্ব প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা আপনার থাকতে পারে একটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের সনদ যদি আপনি সেচ্ছাসেবি সংগঠনের জন্য এই সেবা নিতে চান।

আপনার থাকতে পারে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে জয়েন্ট স্টক নিবন্ধণ, সাথে দরকার জাতীয় পরিচয় পত্র, টিআইএন সনদ এবং একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যা আপনার ফার্মের নামে হবে।পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা একটিভেট করতে আপনি শুধু অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জণ করলেই হবে না। এই সেবাটি এক্টিভেট করতে আপনার প্রয়োজন হবে কিছু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। মার্চেণ্টদের অনলাইন শপ বা ই কামর্স সাইটের সিস্টেম এর সাথে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেট করার জন্য আপনি যে কোম্পানী থেকে পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা নিবেন তারা আপনাকে সাহায্য করবে। অথবা তাদের সাথে আপনি আপনার ওয়েব ডেভেলপারকে সম্পৃক্ত করেও সার্ভিস একটিভ করতে পারেন।

মার্চেন্ট আইডি
আপনি যখন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে রেজিস্টার করবেন তখন আপানাকে মার্চেন্ট আইডি দেয়া হবে। একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর সাথে আপনি অনেকগুলো মার্চেন্ট আইডি নিতে পারবেন।

মার্চেণ্ট একাউন্টে টাকা স্থানান্তর
সপ্তাহে একবার , দুইবার পেমেন্ট করে থাকে। অনলাইন পেমেন্টগেটওয়ে কোম্পানী আপনাকে পেমেন্ট করবে। তবে সে টাকা তারা আপনাকে ক্যাশ বা অন্য কোনো ভাবে দেবেনা। এই টাকা সরাসরি আপনার বিজনেস একউন্টে জমা হবে। তবে পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানী আপনাকে লেনদের সামারি বা তথ্যসমূহ প্রদান করবে। সেক্ষেত্রে কোনো ট্রানজেকশান নিয়ে গ্রাহকের আপত্তি থাকলে সেটি আটকে যেতে পারে। পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানীগুলো অনেক সময় অনলাইনেই আপনার যাবতীয় লেনদেন এর রিপোর্ট দেখার সুযোগ আপনাকে করে দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশি অনলাইন পেমেন্টগেটওয়ে
দেশের সব গেটওয়ে অন্যান্য বিশ্বের মতো ট্রানজেকশন এর সাথে একটা চার্জ নিয়ে থাকে। এর শতকরা হার ৩-৭% পর্যন্ত হয়। তবে বাংলাদেশী গেটওয়েগুলো সাধারণত কম চার্জ করে থাকে। এর পরিমাণ ২.৮% থেকে ৪% পর্যন্ত এছাড়া দেশীয় গেটওয়ে গুলো শুরুতে একটা সাবস্ত্রিপশান ফি নিয়ে থাকে। একে রেজিস্ট্রেশান ফিও বলে। এর পরিমাণ ৫ থেকে ২০ হাজার। কোনো কোনো গেটওয়ে মাসিক ও বাৎসরিক ফি নিয়ে থাকে।

নিরাপত্তার স্বার্থে
আপনি অবশ্যই কাস্টমারের কাছে থেকে পাসপোর্ট আথবা ড্রাইভিং লাইচেন্স আথবা ন্যাশনাল আইডি কার্ড কপি আপনার কোম্পনির আফিসিয়াল ইমেইল নিয়ে রাখবেন । এই দুটো বিষয় খেয়াল রাখলে আপনি সবসময় নিরাপদ । এই ডকুমেন্ট গুলো আপনি অবশ্যই ১২০ দিন পর্যন্ত আপনার কাছে নিরাপদে রাখবেন কেননা কাস্টমার ১২০ দিন পর্যন্ত টাকা তার ব্যাংক কাছে ক্লেইম করতে পারে। এই ডকুমেন্ট আপানার কাছে থাকলে কাস্টমার ক্লেইম করলেও আপনি নিরাপদ থাকবেন।

রিফান্ড প্রসেস
আপনি যদি কোন পেমেন্ট রিফান্ড দিতে চান তাহলে আপনার প্যানেল সেই অপশন আছে। অথবা আপনি আপানার অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কো¤পানি কে ই মেইল এর মাধামে জানাতে পারেন আপনি টাকা রিফান্ড দিতে চাচ্ছেন । আপনি চাইলে পারসিয়াল রিফান্ডও করতে পারনে ।

থ্রিডি সিকিওর গেটওয়ের পরে ডকুমেন্ট সংগ্রহে
অনেক সময় অনেক কার্ড থ্রিডি সিকিওর হয় না সেক্ষেত্রে আপনি প্রতারনার শিকার হতে পারনে কিন্তু ডকুমেন্টস থাকলে আপনি নিরাপদ। কারন এটা হচ্ছে একটা প্রসেস ।

সর্তকতা:
অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের লেনদেন ঝুকিমুক্ত তবে সর্তকার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। যদি পন্য বিক্রি করে থাকেন তাহলে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেয়ার সময় অবশ্যই ডেলিভারি স্লিপ ব্যবহার করবেন। এতে কাস্টমারের ফোন নাম্বার স্পষ্টভাবে লিখবেন এবং ফোনের মাধ্যমে কাস্টমারকে ভেরিফাই করবেন। স্লিপে কাস্টমার এর স্বাক্ষর নিতে একদম ভুলবেন না। এবং অনলাইনে অর্ডার দেয়ার সময় কাস্টমার যে ঠিকানা দিয়েছে সেই ঠিকানায় পন্য ডেলিভারী দিবেন। কুরিয়ার সার্ভিস দিয়ে ডেলিভারি দিলে ক্যুরিয়ার এর স্লিপ যতœসহ সংরক্ষণ করবেন।

Published : জুলাই ১১, ২০১৫ | 2224 Views

  • img1

  • জুলাই ২০১৫
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
        জুন »
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798