সাবধানের মাইর নাই

Published : মে ২৭, ২০১৮ | 663 Views

বিপদের উপর আপদ (সত্যি এমনটা যেন না হয়)
১. ধরুন আপনার ভাইকে খুজে পাচ্ছেন না। ২ দিন ধরে সে নিখোজ। তার ফোন বন্ধ। আপনি বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, জিডি করেছেন বা পত্রিকায় এড দিয়েছেন। তারপর থেকে ফোন আসা শুরু করবে।
একজন বলবে, সে আপনার ভাইকে অপহরণ করেছে। ১০লাখ টাকা দিলে সে আপনার ভাইকে ফেরত দেবে।
একজন ফোন দিয়ে বলবে। আপনার ভাইকে চরম অসুস্থ ও রক্তার্ত অবস্থায় নদীর কুলে পাওয়া গেছে। এখন তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তাড়াতাড়ি ১০ হাজার টাকা বিকাশ করেন।
২. ধরুন আপনি এড দিলেন যে, আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাগজ হারিয়ে গেছে। তারপর একজন আপনাকে ফোন দিয়ে বলবে তিনি সেটা পেয়েছেন এবং আপনার কাছে নিয়ে আসতে চান কিন্তু তার কাছে আসার ভাড়া নেই। তাই তাকে ৫০০ টাকা বিকাশ করে পাঠাতে হবে। আরেকজন বলবে – আপনার কাগজ আমার কাছে এসে নিয়ে যান। তারপর আপনাকে একটা অড প্লেসের ঠিকানা দেবে। পরে আপনাকে আটক করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাইবে।
৩. ধরুন আপনার কাজিন খুন হয়েছে। কেবা কারা তাকে মেরে ফেলে গেছে জানা যায়নি। এবারো আপনি মজার মজার ফোন পাবেন, একটি ফোন থেকে বলা হবে। তার কাছে খুনের ভিডিও আছে টাকা দিলে সে সেটা আপনাকে দেবে। আরেকটি ফোন থেকে বলবে, আমার কথা বিশ্বাস করুন। যে খুন করেছে সে আমার আত্মীয়, ……. এই হলো তার পরিচয়। বা সে আমার স্বামী। আমি স্ত্রী হয়েতো আর স্বামীর নামে মিথ্যা বলছিনা। মানে যার সাথে যার শত্রুতা আছে সে সেটা আপনাকে দিয়ে উদ্ধার করতে চাচ্ছে।
৪. কোনো কারণে আপনার কাছের কারো ফোন বন্ধ। বা ওই সময়ে তার ফোন এমনিতে বন্ধ থাকে। এটা শয়তানেরা জানে। আর তারা আপনার নাম্বারটিও জানে। তখন তারা আপনাকে ফোন দিয়ে বলবে। আপনার ভাই ইয়াবাসহ আরো ৩ জনের সাথে ধরা পড়েছে। আমরা পুলিশের লোক। অন্য ২ জনের পরিবার তাদের ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। তাড়াতাড়ি ২০ হাজার টাকা বিকাশ করেন যদি ছেলেকে বাঁচাতে চান। অথবা ফোন আসবে, বলবে- আপনার ছেলে বাজেভাবে একসিডেন্ট করেছে এখন তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা পাঠান।
৫. জিনের বাদশা, লটারী আর কারো ফেসবুক আইডি হ্যাক করে টাকা চাওয়ার কথা আর নাইবা বললাম। তবে একটা বিষয়ে বলতে হয়। বিশেষ করে কেউ যদি রক্ত চাই লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তাহলে এরকম ২/৪টা কল পেতেই পারেন যে, আমি রক্ত দিতে চাই। কিন্তু আমি অনেক দুরে বা আমার কাছে ভাড়া নেই। ৩০০ টাকা সিএনজি ভাড়া বিকাশ করেন আমি এখনি আসছি। টাকা বিকাশ করার পর আর ফোনটি খোলা পাবেন না।
অথবা ধরেন, কোনো গরিব লোক অসুস্থ্য। কেউ হয়তো এমনি এমনি সেটা ফেসবুকে শেয়ার করেছে। সেই ছবি দিয়ে আরেকটা গ্রুপ সেটা পোস্ট করে। ফোন নাম্বার আর বিকাশ নাম্বার দিয়ে সাহায্য চাইছে। এই ধরনের ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে।
খুব কাছ থেকে একটি দেখা ঘটনা বলি।(ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল, মগবাজার- ২০১৪ সাল) এক লোক হাসপাতালে খুব অসুস্থ্য। বয়স্ক। তার কোনো এটেনডেন্স নেই। তৃতীয় দিনে হঠাৎ একজন এসে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তার সেবা যত্ন শুরু করলো। বা তার ছেলে বা মেয়ে পাঠিয়েছে বলে তার গোসল করানো খাওয়ানো এসব করা শুরু করলো। কয়েক ঘন্টা পরে জানতে পারলেন। রোগীর ফোন আর টাকা পয়সা নিয়ে সে উধাও।
কিছু অসাধু লোক মানুষের বিপদের সময়ের এই বিষয়টিকে তাদের ব্যবসায় বানিয়ে নিয়েছে।

তাই, বলেকি মানুষের বিপদে পাশে দাড়াবেন না। অবশ্যই দাড়াবেন। সেজন্য যাচাই করে নেবেন। বিকাশ হলো প্রতারকদের সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম। পারলে অন্যকোনো মাধ্যমে সাহায্য দিতে পারেন। ব্যাংক একাউন্ট খুব ভালো উপায়। চাইলে আপনি ব্যাংক একাউন্ট নিয়ে রাখতে পারেন। জরুরী হলে অন্যভাবে টাকা দিলেও ব্যাংক তথ্য চেয়ে রাখতে পারেন। কারণ েএই তথ্য চাইলে প্রতারক আপনাকে ব্যাংক তথ্য দিতে পারবেনা। এটা দিয়ে জাস্ট ভেরিফাই করে নিতে পারেন।

 লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : মে ২৭, ২০১৮ | 663 Views

  • img1

  • মে ২০১৮
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   জুন »
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798