দানের জন্য প্রাণ: এযেন বাঁচার জন্য মরা

Published : মে ২২, ২০১৮ | 767 Views

দান করার উত্তম পদ্ধতি

দানের জন্য প্রাণ: এযেন বাঁচার জন্য মরা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

বার বার সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে দানগ্রহণ করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা। যাকাতের কাপড় গ্রহণ করতে গিয়ে মৃত্য। মৃত্যু বার্ষিকীর দাওয়াত খেতে গিয়ে পদপিস্ট হয়ে প্রাণত্যাগ। এবার যুক্ত হলো ইফতারী সামগ্রী গ্রহণ করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু।

বেশীরভাগ ঘটনা আবার চট্টগ্রামে। আমরা কোটি টাকার ইফতার, লাখটাকার যাকাতের কাপড় কিংবা হাজারো মানুষকে খাওয়ানোর আয়োজন করি অথচ অল্প কিছু টাকা খরচ করে এ সুন্দর ব্যবস্থাপনা করতে চাইনা। কি অদ্ভুৎ আমাদের এই স্ববিরোধী সংস্কৃতি।

 

কেন এই দান?

আমরা বিভিন্ন কারনে দান করে থাকি। তারমধ্যে দুটো কারণ হলো এক. অন্যের উপকার দুই. নিজের নাম প্রসার। বিশেষ করে আমাদের দেশে যেভাবে দান করা হয় সেভাবে আসলে কি সে অর্থে উপকার হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে লাখ লাখ টাকা খরচ করে মেজবানি হয়। বড়োলোকেদের কথা বাদ দিলাম। গরীবদেরকে একদিনের খিচুড়ি মাংশ খাইয়ে দিলে কি তাদের অভাব ঘুচে যাবে। অথচ সে টাকা দিয়ে যদি ১০ হাজার মানুষের উদরপূর্তি না করে ১০০ মানুষকে কর্মসংস্থানের ব্যবহার করে দেয়া যায়। তাহলে সে মানুষটির সারা বছরের খাবারের ব্যবস্থা আপনি করে দিতে পারলেন।

সস্তা যাকাতের কাপড় দিলেই কি কারো অভাব ঘুচে যায়। ৫ হাজার লোককে যাকাতের কাপড় দেয়ার চেয়ে ৫০টি পরিবারের ঘর তুলে দিলে আরো বেশী উপকৃত হতো মানুষ।

তাতে মোটেও প্রচার কম হতো না। বরং বেশী হতো। যে ১০০ মানুষকে কর্মসংস্থান করে দেয়া হলো তাদের দোকান কিংবা গাড়ীর উপরতো আপনি আপনার নাম লিখে দিতে পারেন। যে ৫০ জন লোককে যাকাতের টাকা দিয়ে ঘর তুলে দিলেন তাদের ঘরের সামনে আপনি আপনার ছবিসহ একটা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলে কেইবা নিষেধ করবে? প্রয়োজনে যাকাতের টাকায় সেটা করেছেন এমন লিখে দিলেওতো ক্ষতি নেই।

এখন আসুন আপনার যদি একান্তই ইফতার সামগ্রী দিতেই মন চায়। অথবা ঈদে সেমাই চিনিই দিতে চান। তাতেওতো সহজ ও সুন্দর উপায় বের করে দিতে পারেন। হাজার হাজার মানুষকে এক জায়গায় করা কি খুব জরুরী?

কি হতে পারে সে সুন্দর উপায়।

প্রথম ধাপ:

আপনি যে এলাকায় ত্রান দেবেন, সে এলাকাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করুন। সেখানে ভলানটিয়ারদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রকৃত গরীব ও অর্থহীনদের তালিকা করুন। প্রয়োজনে সে এলাকার সেচ্চাসেবী সংগঠন সমূহ ও তাদের কর্মীদের কাজে লাগান। উপকারভোগীদের প্রত্যেকে একটি করে দানের কার্ড দিয়ে দিন। এবং কখন কোথায় থেকে দান আনবে সেটা কার্ডে লিখে দিন। কার্ডে দানের পরিমান এবং প্রাপকের নাম ঠিকানাও থাকতে পারে। অবশ্যই কাডের একটা সিরিয়াল নাম্বার থাকা উচিত।

দ্বিতীয় ধাপ:

আপনি যা দেবেন তার একটি প্যাকেজ তালিকা করুন। যেমন ধরুন। আপনি দেবেন ধরি ইফতার সামগ্রী। ৩ কেজী ছোলা, ১ কেজী ভেসন, ২ লিটার তেল, ১ কেজী খেজুর, ৫ কেজী আলু, ধরি আপনি প্রতি প্যাকে ৫০০ টাকার ইফতার সামগ্রী দান করবেন। সে মোতাবেক প্রতিটি এলাকায় কয়েকটি দোকান কন্টাক্ট করুন। যেন একটি দোকান ১০০-৫০০ জনকে প্যাক দিতে পারে। সে দোকানে আপনি আপনার মেনু এবং সে এলাকায় যারা এই দান পাবে তাদের তালিকা বুঝিয়ে দিন। সময় ও তারিখ বলে দিন। সে এলাকায় বিষয়টা তদারক করার জন্য একজন স্বেচ্চাসেবকদের দায়িত্ব দিন।

তৃতীয় ধাপ:

সময়মত এলাকা ভিত্তিক দরিদ্র মানুষ সে দোকানে, বা অফিসে বা মোকামে গিয়ে তাদের ইফতার সামগ্রী গ্রহন করবে। এতে করে ভীড় কমবে। প্যাকিং করার ঝামেলাটা দোকানদারের দায়িত্বে পড়বে। আর লাইন ধরে মানুষ মরবেনা। এবং প্রকৃত হকদারেরা সাহায্য পাবে। আর একটা সুবিধা হলো আপনার কারণে এলাকার কিছু দোকানদারও খুশি হবে।

দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা অবশ্যই পরিমাণ এবং পন্যের মান চেক করে দেবে।

আপনি চাইলে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সাহায্যও নিতে পারেন।

এ ব্যাপারে আমার নিজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা ঠিক এমনভাবে কাজটি করেছে যাদেরকে দিয়েছি তারা ছাড়া অন্য কেউ জানতেও পারেনি।

প্রথমে গোপনে এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে একটি তালিকা করি যে, কারা কারা দান পেতে পারে। সেটা ছিলো ঈদের সেমাই চিনি। তারপর তাদের প্রত্যেকের নাম লিখে কার্ড বানাই। সেই কার্ড তাদের বাসায় রাতে গিয়ে বিলি করে আসি। এবং তাদেরকে বলি যে, অমুক দোকানে গিয়ে কার্ড দেখালে সেমাই চিনি দেবে।

তার আগেই এলাকার একটি ভালো মুদি দোকানে জনপ্রতি ৫০০ টাকার সেমাই চিনির প্যাকেজ তৈরী করে দোকানীকে প্যাকেট রেডি করে রাখতে বলি। এবং প্রাপকদের নামের তালিকা দিয়ে দিই। প্রতি প্যাকেটে ছিলো সেমাই, চিনি, সাগু, কিসমিস, বাদাম, দুধ ও নারিকেল। মানে রোজার ঈদে যা যা লাগে।

ফলে কোনো ঝামেলা হয়নি এবং সঠিক লোকদের হাতে সঠিক জিনিস তুলে দিতে পেরেছি।

 

Published : মে ২২, ২০১৮ | 767 Views

  • img1

  • মে ২০১৮
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   জুন »
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798