ধামরাইয়ের কুমোর পল্লী। দেখে আসুন এক পলক

Published : অক্টোবর ১৬, ২০১৭ | 1460 Views

এমন এক সময় ছিল যখন মৃৎ পেশার সঙ্গে জড়িতদের জীবনমান ছিল উন্নত। আদি বা বংশানুক্রমে পাওয়া পেশা হওয়ায় অনেকে এ নিয়ে গর্ব করতেন। মাটির তৈরি তৈজসপত্রের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় এ পেশার মাধ্যমে স্বচ্ছলভাবেই জীবন ধারণ করতে পারতেন তারা। এমন অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লার মৃৎশিল্পী নীপেন চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, বাপ-দাদার চৌদ্দ পুরুষের ব্যবসা ছিল মাটির হাড়ি পাতিল তৈরি করা। তাদের বাড়ি এ এলাকায় কুমার বাড়ি হিসেবে পরিচিত। কোথাও শুকানো কোথাও রঙের প্রলেপ কোথাও খড় বিছিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। সবই কুমোরদের শিল্পী সত্তা ও ঘূর্ণনের ছন্দ। খড়ির চুলায় মাটির হাড়িতে রান্না ভাত তরকারির স্বাদই আলাদা। মাটির থালার নাম সানকি। এই সানকিতে পান্তা ভাত খাওয়ার কিই যে আনন্দ…।

বংশী নদীর পারে অবস্থিত ধামরাইয়ের কাগজিয়াপাড়ায় যেতে হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে প্রথমে বাসে করে, এরপর রিকশায়; সব মিলিয়ে মিনিট পঁচিশের দূরত্ব। ৬০-৬৫টি পাল পরিবারের বাস এ পল্লিতে। বংশপরম্পরায় কাগজিয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীরা মাটির জিনিসপত্র তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন জীবিকা নির্বাহের অন্য ভালো কোনো মাধ্যমের ব্যবস্থা করতে না পেরে। তাদের এই কাজটাকে সবাই মৌখিকভাবে বাহবা দেয়, সাহায্যের কথা বলে; কিন্তু শেষমেশ আর কারো খোঁজ থাকে না। কালের পরিবর্তনে জৌলুস হারাতে বসেছে ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। আধুনিকতার ছোঁযায় দৈনন্দিন জীবনে ব্যাবহার্য আসবাবপত্রের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে মৃৎশিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ব্যাবহারকারীরা । ফলে মৃৎশিল্পিরাও বাজার হারিয়ে বেকার হতে বসেছে। বাজার হারানো, আয়ের সাথে ব্যয়ের অসঙ্গতি আর জীবন মান উন্নয়নের ফলে অন্য পেশার দিকে ঝুকে পড়ছেন তারা। মৃৎশিল্পের চাহিদার অবনতি সহ নানা জটিলতায় সংকীর্ণ হচ্ছে এ শিল্পের স্থায়িত্বের পথ।

সাভার ও ধামরাই এলাকার একাধিক মৃৎশিল্পী বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ পেশার শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে এখনই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। দেশে বিভিন্ন স্থানে মেলার আয়োজন করে মাটির জিনিসপত্রের প্রয়োজনীয়তা জন সাধারণের কাছে তুলে ধরা করা দরকার।  তা না করা হলে মৃৎশিল্পীদের স্থান হবে শুধু ইতিহাসের পাতায়।

Published : অক্টোবর ১৬, ২০১৭ | 1460 Views

  • img1

  • অক্টোবর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « সেপ্টেম্বর   নভেম্বর »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798