আমিয়াখুমে বর্ষাকালীন ভ্রমণ

Published : অক্টোবর ৪, ২০১৭ | 837 Views

আমিয়াখুম এর বর্ষাকালীন টিপস
নাফাখুম , আমিয়াখুম বাংলাদেশের অনেক সুন্দর দুইটি জায়গা। রেমাক্রি খালের আপার স্ট্রিমে পাথরের বিশেষ গঠনের কারনে এই দুইটি খুমের সৃষ্টি হয়েছে। সেই আমিয়াখুম এ ভিডিও কিছু ছবি দেখে অনেকেই সুযোগে থাকেন সেখানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোথাও যেতে হলে শুধু সেই জায়গা না বরং সেই জায়গায় যাওয়ার রোড ঘাট নিয়েও কিছু ধারনা থাকা দরকার। বিশেষ করে সেটা যদি পাহাড়ি পথে হয় তার উপর বর্শাকাল হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, সেই রোড ঘাট এর ছবি, অবস্থার বর্ননা আপনি খুজলে ফেসবুক , ইউটিউবে খুজে পাবেন না তাই সবার উচিত সেই পথ ঘাট সম্পর্কেও খোজ খবর নিয়ে যাওয়া।

আমিয়াখুমে বর্ষাকালীন যে প্লান টা করা হয় তা হল , পদ্মমুখ হয়ে হরিশ্চন্দ্রপাড়া হয়ে থুইসাপাড়ায় যাওয়া প্রথম দিনেই। এই পথ টা এমনিতে কঠিন কিছু না কিন্তু আমাদের ছুটি ছাটা কম থাকায় আমরা বাধ্য হয় এই পথ টা এক দিনেই যেতে, চিন্তা করেন, ঢাকা থেকে বান্দরবান, বান্দরবান থেকে থানচি, সেখানে থানা, বিজিবি, লাঞ্ছ শেষ করে বোটে করে পদ্মমুখ , সেখান থেকে ঝিরি পথে লম্বা সময় হাটা তারপর পাহাড়ি পথ তার পর আবার রেমাক্রি পথ । এত্ত গুলা প্রসেস শেষ করতে করতে সবারই রাত হয়ে যায়। সেই অবস্থায় যদি কারো পাহাড়ে চলার অভ্যাস না থাকে তার যে কি দুঃসহ অবস্থা হতে পারে তা নিজে প্রায় ১ বছর আগে আর এইবার নিজের চোখে অনেকের অবস্থা থেকে দেখলাম। বিশেষ করে যে সমস্ত আপুরা গিয়ে থাকেন তাদের অবস্থা আসলেই খুব খারাপ ছিল। হরিশ্চন্দ্রপাড়ায় উঠার সময় একজন আপু কে দেখলাম দম না নিতে পেরে হাশ ফাশ করছেন , তখন বাজে রাত ১০ টা। তারপর থুইসাপাড়ার আগের ঝিরি পথ এ এক গ্রুপের বেশ কয়েকজন আপু, রাস্তা হারিয়ে খুব চিন্তিন্ত অবস্থায় সময় কাটাচ্ছিলেন , তখন বাজে রাত ১ টার বেশি, পরে সকালে শুনি উনারা সারা রাত রেমাক্রি খালের এক পাশে ( রেমাক্রি খাল পার হওয়া টা বেশ রিস্কি ছিল) বসে কাটিয়েছেন। আমিয়াখুমেও নাকি উনারা যেতে পারেননি সময় স্বল্পতার কারনে।

তাই সবাই কে অনুরোধ করব, বিশেষ করে আপুদের, প্রিভিয়াস এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চার এ যাওয়ার আগে কিছু চিন্তা করবেন। অ্যাডচেঞ্চার ভাল কিন্তু নিজের জীবনকে বিপন্ন করে নয়।

তাহলে কি এর কোন সমাধান নেই?

আছে, আমার পরামর্শ গুলা নিম্নরুপ, ইনশাআল্লাহ এইভাবে করতে পারলে কষ্ট অনেক কম হবে, অ্যাডভেঞ্চার ও হবে, নাফাখুম, আমিয়াখুম দেখা হবে।

১। ঢাকা থেকে রাত ৯ টার মধ্যে বের হয়ে পড়া।
২।বান্দরবান থেকে থানচি চান্দের গাড়ি তে যাওয়া।
৩।প্রত্যেক টিম মেটের নাম, পিতার নাম , ঠিকানা, পেশা, বয়স, মোবাইল নাম্বার আগেই একটা কাগজে লিখে নিয়ে যাওয়া।
৪।গাইড, বোট আগে থেকেই ণিয়ে যাওয়া।
৫।টিম বড় হলে এবং অনভিজ্ঞ লোক বেশি থাকলে গাইড ছাড়াও প্রতি ৮-১০ জন এর জন্য একজন পোর্টার ( যে জায়গাগুলা চিনবে যেন গাইডের কাজও করতে পারে) নিয়ে যাওয়া।
৬।দড়ি, টর্চ ( এক্সট্রা ব্যাটারি সহ) নিয়ে যাওয়া।
৭।অবশ্যি বড় ছুটির সময় না যাওয়া।
৮।টীম ১০-১৫ জন এর বেশি না করা।

সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ রইল। আর কারও কোন পরামর্শ থাকলে আমরা আলোচনা করতে পারি, এতে আশা করি সবার উপকার হবে।

সবাইকে ধন্যবাদ, হ্যাপি ট্রাভেলিং! আবু বকর সিদ্দিক। ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ

Published : অক্টোবর ৪, ২০১৭ | 837 Views

  • img1

  • অক্টোবর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « সেপ্টেম্বর   নভেম্বর »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • Helpline

    +880 1709962798