ঘুরে আসুন সাতক্ষীরার জোড়া গ্রাম

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ | 1367 Views

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা পিলার এখানকার মানুষের ঘরের কাছেই। শুধু ঘরের কাছে বললে ভুল হবে। ঘরের ভেতর দিয়ে চলে গেছে ২ দেশের সীমানা। নেই কোনো সীমানা বেড়া বা তারকাটা। থাকবে কেমন করে। কারো রান্নাঘর বাংলাদেশে থাকার ঘর ভারতে। কারো আবার রান্নাঘরের এক হাঁড়ি বাংলাদেশে আরক হাঁড়ি ভারতে। কেউ আবার খান বাংলাদেশে কিন্তু বাথরুম ভারতে। কারো হয়তো বিছানা বা খাটের মাঝখান দিয়ে সীমানা রেখা। হয়তো স্বামী ঘুমান বাংলাদেশে আর স্ত্রী ঘুমান ভারতে। এমন অদ্ভুত দেশের কথা আগে শোনেন কিংবা না শোনেন  এমনটাই আছে সাতক্ষীরায়। সর্বশেষ জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে প্রচার করা হয় এই গ্রামের  ইতিহাস।

সাতক্ষীরা বা সুন্দরবন ঘুরে আসতে গেলে ঘুরে আসতে পারেন এই জোড়াগ্রামে। সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত থেকে উত্তর-পশ্চিমে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আছে দুটি গ্রাম। একটির নাম হাড়দ্দা আর অন্য গ্রামের নাম চর পানিতর। এই ২টি গ্রাম জোড়া হয়ে লেগে আছে। কারো ঘর বাংলাদেশে জমি ভারতে। এভাবে আড়াআড়ি করে বছরের পর বছর সেখানে বাস করছে লোকেরা। সেখানে আছে বিডিআরের টহল আছে বিএসএফের নজরদারী। কিন্ত স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা তাদের স্বপ্নের এবং বাপ দাদা থেকে পাওয়া এক খন্ড জমি বা ভিটেমাটি ছেড়ে তারা কোথাও যেতে পারেনি। ২ দেশের মানুষ মিলে মিশে বসবাস করছে বছরের পর বছর।

বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রামের মতই সবুজ-শ্যামল দেখতে গ্রাম দুটি। মানুষের কথা-বার্তা আচার-আচরণও প্রায় একই রকমের। কিন্তু গ্রাম দুটির পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। হাড়দ্দা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের একটি গ্রাম। আর চর পানিতর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাট থানার একটি গ্রামের নাম। একটি গ্রামের কোনো বাসিন্দার রান্নাঘর বাংলাদেশে পড়েছে তো, শোয়ার ঘর পড়েছে ভারতে। বাড়িঘরগুলোর মধ্যে কোনো সীমান্ত রেখা নেই। তবে স্থানীয়রা জানেন কোন অংশ বাংলাদেশ আর কোন অংশটুকু ভারতের।

দেখা গেল সহোদর ২ ভাই। একভাই ভারতের নাগরিক আরেক ভাই বাংলাদেশের। এভাবে দুই গ্রামের অন্যান্য লোকেরাও ভাইয়ের মতো বসবাস করছেন। সেখানে থাকা দুই দেশের সীমান্তবাহিনীও গ্রামের মানুষদের সাথে মিলেমিশে চলেন। মানবতার কাছে হার মেনেছে আন্তজাতিক ও রাজনৈতিক সীমারেখা।

তবে কিছু সমস্যা আছে    ভারতের চর পানিতক  গ্রামে মাত্র ৪০/৫০টি পরিবারের বসবাস। সবাই মুসলমান। অধিকাংশ মানুষই গরিব। কৃষিকাজ করে তাদের সংসার চলে। গ্রামের বাসিন্দারা কয়েক কিলোমিটার দূরে ভারতের ইটইন্ডিয়া বাজার থেকে খাবার-দাবারসহ নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে যান। ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রামের কাছে বাংলাদেশের ভোমরায় বাজার থাকলেও সেখানে তারা যেতে পারেন না।

মানুষে মানুষে বন্ধত্ব ও আর সম্প্রীতির এই বন্ধন দেখতে ঘুরে আসুন সাতক্ষীরা থেকে।

ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা অভিমুখে প্রতিদিন ছেড়ে যায় বাস কল্যাণপুর থেকে। সাতক্ষীরা সদর থেকে স্থানীয় পরিবহনে যেতে হবে ভোমরা বাজার। এখানেই ভোমরা স্থলবন্দর সীমান্তের পাশেই। এখান থেকে অটো, রিক্সা বা ভ্যানে মাত্র কয়েক মিনিটের রাস্তা পার হয়ে পেয়ে যাবেন হাড়দ্দা গ্রাম।  আগেই বিএসএফ এর সাথে কথা বলে নেবেন। বিনা অনুমতিতে ভারতে প্রবেশ করে বিপদে পড়তে পারেন কারণ আপনার ঘর সে জোড়াগ্রামে নয়।

রাতে থাকার জন্য সাতক্ষীরা শহরে রয়েছে আবাসিক হোটেল। বিভিন্ন এনজিওর রেস্টহাউস ও রয়েছে সীমান্ত জেলা সাক্ষীরা।

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ | 1367 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798