পরীর দিঘীর কথা

Published : সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭ | 2214 Views

বাংলাদেশে মোট ১২টি পরীর দিঘীর সন্ধান মিলেছে

পরীর দিঘী? আছে আর কোনো পরীর দিঘী। থাকলে জানান-
পরীর দিঘী খোঁজ করতে গিয়ে বাংলায় ১২ টি দিঘী পেলাম। মনে হয় সব জেলায় ২/১টি থাকতে পারে।েএই তালিকার বাইরে আপনাদের জানা কোনো পরীর দিঘী থাকলে ছবি ও তথ্য শেয়ার করতে পারেন।
১। ফেণীর কাছে পরীর দিঘী: অপর নাম জগন্নাথ দিঘী ( জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে উপনাসে এই দিঘীর কথা আছে।)
২। দূর্গাপুরে একটা পরীর দিঘী আছে।
৩। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের তেতুলিয়া ইউপি, তালা সাতখিরা। এখানে একটা পরীর দিঘী আছে।
৪। কুরবার দিঘী, দাগনভূঞা ফেণী, প্রচলিত মনে এই দিঘীও জিন পরীরা তৈরী করেছে।
৫। দিনাজপুরের বিরল বিলকেও বলা হয় পরীর দিঘী
৬। কিশোরগঞ্জে একটি পরীর দিঘী আছে।
৭। মৌলভীবাজারের শ্রামঙ্গলে একটি পরীর দিঘীর কথা জানা গেল
৮। চট্টগ্রামে ২টা পরীর দিঘী আছে একটা পটিয়া যেখানে একটা বলি খেলা হয়
৯। আরেকটা দিঘী আছে চট্টগ্রামের রাউজানে – পরীর দিঘী
১০।রাজশাহীতে একটা পরীর দিঘীর সন্ধান মিলেছে
১১। লক্ষীপুরের ভোলাকোট ইউনিয়নে একটা পরীর দিঘী আছে।
১২। সর্বশেষ ভারতের কুচবিহারে একটি পরীর দিঘীর কথা জানতে পারি।
ছবিতে : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফেণীর কাছেই জহির রায়হানের পরীর দিঘী বা মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্মৃতি বিজড়িত জগন্নাথ দিঘী।

 

ঐতিহাসিক পরীর দিঘী

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক দিঘীগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দিঘী। কুমিল্লা জেলার তথা সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দিঘী হচ্ছে পরীর দিঘী খ্যাত এই জগন্নাথ দিঘী।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ্বে অবস্থিত প্রায় ২৫০ বছরেরও পুরোনো এই দিঘী আয়তনে বিশাল।

কথা সাহিত্যিক জহির রায়হান তাঁর “হাজার বছর ধরে” উপন্যাসে এই দিঘীকে বিশালত্বের জন্য পরীর দিঘী হিসেবে উল্লেখ করলেও ইতিহাস মতে এই দিঘী খনন করা হয় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের উদয়পুরের জমিদার পরবর্তীতে ত্রিপুরা রাজ্যের এক যুগেরও বেশি সময়ের মহারাজা বাঙলার বাঘ বা ভাঁটির বাঘ খ্যাত সমশের গাজী।(তাঁর উত্থানের ইতিহাস অনেক বড় যা এখানে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।পরবর্তীতে দেয়া হবে।)১৭৩৯ সালের দিকে শাসনভার নেয়ার পর ত্রিপুরা রাজ্য শাসনের সময় তাঁর বহু জনহৈতিষী কাজের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তালুকদার জগন্নাথ সেনের নামানুসারে নামকরনকৃত জগন্নাথ এলাকায় এই দিঘী খনন।

এই দিঘীর পাড়ে তৎকালীন সময়ে শাহ সূজা রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে আরাকান রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি রাস্তা বেঁধে যান কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত।যা এখন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক।চলাচল সুবিধা হওয়ায় দিঘীর পাড়ে গড়ে উঠে জনবসতি।কালের পরিক্রমায় বাঙলাদেশ স্বাধীনের পর এখানে এরশাদ সরকার গডে তোলেন ১০০ পরিবারের গুচ্ছগ্রাম।বর্তমানে এই দিঘীর পাড়ে গুচ্ছগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হোটেল রেস্তোরা সহ নানারকম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

দিঘীর পশ্চিমে রাস্তার পাশে রয়েছে সুনামধন্য ঐতিহাসিক নারানকরা জামেয়া মাদ্রাসা এবং সাথেই গড়ে উঠছে একটি কলেজ(নির্মাণাধীন)। দিঘীর পশ্চিম পাড়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক,পূর্ব ও দক্ষিন পাড়ে গুচ্ছগ্রাম,উত্তরে গণকবর।দক্ষিন পাড়ের পশ্চিম কোনে রয়েছে সরকারী ডাক বাংলো।ছায়া সুনিবিড় এই দিঘীর পাড়ে যাত্রা পথে অনেকেই বসে জিরিয়ে নেন।উপভোগ করেন মনোরম পরিবেশ।পাখির কল কাকলী।সব মিলিয়ে কুমিল্লার অন্যতম প্রাচীন এবং বাঙলাদেশের সবচেয়ে বড় দিঘী এই ঐতিহাসিক পরীর দিঘী জগন্নাথ দিঘী।
লিখাঃ Nazrul Islam Soikat

চট্টগ্রামের পরীর দিঘী

আইয়ুন ঘুরিজন #চেয়ারম্যান_আমজু_মিয়ার_পরীর_দীঘির #বলি_খেলাত।১৪ বৈশাখ,২৭
এপ্রিল, রোজ-বৃহস্পতিবার। স্থান : বাস স্টেশন,
বৈলতলী রোড পশু হাসপাতাল সংলগ্ন মাঠ।
বলিখেলা হল এক ধরনের কুস্তি খেলা, যা চট্টগ্রামের
পরীরদিঘী ময়দানে প্রতিবছরের ১৪ই বৈশাখে অনুষ্ঠিত হয়।এই খেলায় অংশ গ্রহন কারীদেরকে বলা হয় বলী। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কুস্তি বলীখেলা নামে পরিচিত। ১৯১০ সালে পটিয়ার পাইকপাড়া এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা এই প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। কিছু বছর এভাবে চলার পর এই প্রতিযোগিতা #তৎকালিন চেয়ারম্যান আমজু মিয়া এই বলীখেলার দায়িত্ব নেন।এবং তা পরবর্তিতে আমজু মিয়ার বলীখেলা নামে পরিচিতি লাভ করে।চেয়ারম্যান আমজু মিয়ার মৃত্যুর পর তা, আমজুমিয়া পরিবার সুস্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছে। আমজু মিয়ার বলীখেলা একটি জনপ্রিয় ও #ঐতিহ্যমন্ডিত প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত। বলীখেলাকে কেন্দ্র করে পরীর দিঘী ময়দানের আশে পাশে প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়। এটি বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার ২য় বৃহৎ বৈশাখী মেলা।
এবার পরীর দীঘির #১০৭ তম বলিখেলার আসর,ও বৈশাখি
মেলা অনুস্ঠিত হতে যাচ্ছে ।
#বিকাল ৩
ঘটিকায় খেলা শুরু। আমাদের ঐতিয্যবাহি
বলিখেলায় আপনারা সকলে স্ববান্ধব
আমন্ত্রিত। সবাই আসেন, ঘুরে যান বাংলার ঐতিহ্যবাহি এই প্রাচীন উৎসব থেকে। পরীর দীঘির ১০৭ তম বলিখেলা ও বৈশাখি মেলা।বিশেষ আকর্ষন: সকল দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে লাকি কুপন। ১ম পুরষ্কার ১টি ব্র্যান্ড নিউ মোটর বাইক।স্থান : পটিয়া বাস স্টেশন এর পার্শে, পশু হাসপাতাল সংলগ্ন মাঠ,পটিয়া, চট্টগ্রাম।
#বি_দ্র: বাংলাদেশে কেবল ২টি বলিখেলাই চলমান আছে। জব্বারের খেলা ও চেয়ারম্যান আমজু মিয়ার বলিখেলা।
সৌজন্য: মুন চৌধুরী সম্পাদক, বলীখেলা ও বৈশাখি মেলা উদযাপন পরিষদ।

অন্যান্য পরীর দিঘী সম্পর্কে পর্যায়ক্রমে জানানো হবে।

Published : সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭ | 2214 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798