Community-based tourism এর সাতটি মূলনীতি

Published : আগস্ট ১৪, ২০১৭ | 1022 Views

Community-based tourism এর সাতটি মূলনীতি

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ই কম ভয়েস

স্থানীয় জনগনকে সাথে নিয়ে tourism সম্পর্কিত অবকাঠামো ও সুযোগ সুবিধার উন্নয়ন এবং এলাকার বাইরে থেকে আসা tourist দের জন্য যাবতীয় সেবামূলক কাজ করে tourism ভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠির আর্থসামাজিক উন্নয়ন করাই Community based tourism.

বাংলাদেশে ধারণা নতুন মনে হলেও বিশ্বব্যাপী এটি বহুল প্রচলিত সফল একটি ধারণা। এর সফলতার কারণে এটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ‍উন্নয়নশীল দেশগুলো এক্ষেত্রে বেশকিছু উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সাউথ আফ্রিকা, বলিভিয়া, সোয়াজীল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, ইণ্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে উল্লেখযোগ্য সফলতা বয়ে এনেছে Community based tourism.

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আজ অতি জরুরী হয়ে পড়েছে যে, Community based tourism এর মাধ্যমে eco-tourism ও social tourism কে ব্যাপক জনপ্রিয় ও প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে স্থানীয় জনগনের জীবন  ও জীবিকার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরী হয়েছে।

Community based tourism এর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নার্থে কতগুলো নীতি অপরীহার্য। এগুলোর বিচ্যুতি ঘটলে হয়তো সেটা Community-based tourism এর মূল পথ থেকে সরে যাবে। অথবা Community based tourism মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ থেকে সরে যাবে। Community based tourism in Bangladesh, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে Community-based tourism এর মূলনীতিগুলো আলোচনা করা যাক।

 

১. দেশপ্রেম: Patriotism: 

আমরা বলি দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। মানে দেশপ্রেম না থাকলে ঈমান পূর্ণ হয়না। বর্তমান প্রেক্ষিতে বলা যায় দেশপ্রেম শুধু ঈমানের অঙ্গ নয়। দলভিত্তিক সফলতারও পূর্বশর্ত। কোনো একটা দলে বা গোত্রে মানুষকে একীভূত করে কাজ করানো জন্য যে সংকল্প তৈরী করা দরকার সেটা ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী চেতনার আলোকে হতে পারে। এজন্যই দেশপ্রেম জরুরী। দেশপ্রেম Community র সদস্যদের মধ্যে একটি শক্তিশালী Bond বা বন্ধন তৈরী করে।  এই বন্ধনের কারণে তার ছোট খোটো সমস্যা ও স্বার্থ ভূলে গিয়ে একদল হয়ে কাজ করে থাকে। একটি নৈতিক বন্ধনছাড়া যা দীর্ঘমেয়াদীভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী করতে পারে।

 

 

২. নিজস্ব পরিচয়: Identity:

প্রতিটি জাতিগোষ্ঠির নিজস্ব পরিচয় আছে। আছে তাদের কোনো না কোনো নিজস্বতা। সেটা যত ছোট বা ক্ষুদ্র জাতিসত্তা হোকনা কেন। Community based tourism এর ক্ষেত্রে এই Identity টনিকের মত কাজ করে। একটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে Community based tourism প্রতিষ্ঠিত হয় বিধায় তারা তাদের নিজস্বতাকে কেন্দ্রীভূত করে একীভূত হয়। এবং পর্যটকরাও একটি সম্প্রদায়ের আলাদা ও ভিন্ন জীবনদর্শন এবং জীবন যাত্রাকে জানতে সেখানে ভ্রমণ করে।

   নিজেদের নিজস্বতার প্রতি সম্মান এবং  স্থানীয় পরিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্নরাখা, স্থানীয় বাসিন্দাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি চর্চা  চালু রাখা ও তার পূনরুজ্জীবনের মাধ্যমে এলাকার লোকজ সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখলে সেটা Community based tourism একটি উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হবে। এলাকায় উৎপাদন ও সেবামূখী কার্যক্রম চালুরাখা, স্থানীয় জনগোষ্ঠির জাতিগত পটভূমির আলোকে তাদেরকে উপস্থাপন করা নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচায়ক। এছাড়া স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, স্থাপত্য, ধর্ম, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, রন্ধনপ্রণালী , হস্তশিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদিত পন্য এলাকার প্রতিনিদিত্ব করতে পারে। আর পর্যটকদের সামনে তা তুলে ধরলে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়ে Community based tourism কে সফল করতে সাহায্য করবে।

 

৩. শিকড় এবং প্রথা: Roots and Customs:  স্থানীয় ও লোকজ সাংস্কৃতিক চর্চা সম্প্রদায়ের মানুষকে মূলের দিকে দাবিত করবে। তাদের কৃষ্টি ও প্রথা তাদের নিজেদের পরিচিতিকে প্রতিস্ঠিত করবে এবং জানান দেবে তারা অন্যদের মত নয় তাদের নিজস্ব কৃষ্টি কালচার রয়েছে। রয়েছে একটা শেকড় যেখান থেকে তাদের জাতিসত্তত্বা ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকশিত হয়েছে। এতে করে  সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সম্পর্কে পর্যটকরা জানতে পারে এবং তারা ইতিবাচক ও সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি পোষন করে। আর পর্যটকদের আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সঙ্গে তাদের সংস্কৃতি বিনিময় হতে পারে স্বচ্ছন্দচিত্তে। যেমন স্থনীয় জননিবাস, খাদ্য, সঙ্গীত, লোকাচারবিদ্যা এবং পণ্য  ইত্যাদি সাংস্কৃতিক দিক  থেকে আলোচনা, পরামর্শ  বিনিময় হতে পারে। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উভয়পক্ষ স্থানীয় জনতা এবং বহিরাগত মুসাফির সকলেই অপর পক্ষের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। এ ধরনের ধারণা বাস্তবায়নের জন্য কখনো কখনো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও Motivation এর প্রয়োজন রয়েছে।  ৪. পরিবেশগত চেতনা ও সাদৃশ্য: Ecological Consciousness and Harmony: যেকোনো বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার  অংশ হচ্ছে  এর মধ্যে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের বা Ecosystem ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ করার অন্তভূক্ত থাকবে। যেমন ভূসংস্থান, জলবায়ু, এবং স্থাপত্যশিল্প এসব ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত এলাকার নিজস্বতাকে তুলে ধরবে। সকল পরিকল্পনা এমন হবে যে, সেটা বাস্তাবয়নকালে বা বাস্তবায়নের পরে স্থানীয় পরিবেশের উপরে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বেনা।  প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে পূর্ণরুপে স্থানীয় সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করে তাকে নিরাপদ ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের দায়িত্বও নিতে হবে। এছাড়া কমিউনিটি ভিত্তিক ecotourism কার্যক্রম এর জন্য অবকাঠামোগত নূন্যতম উন্ণয়ন পয়োজন রয়েছে যেমন,  বাড়ীঘর, রাস্তাঘাট, ও অন্যন্য সুযোগ সুবিধা। Community based tourism এসব উন্নয়নকে  দারুনভাবে প্রভাবিত করে। আবার Community based tourism এর জন্য এসব উন্নয়ন এর একটা নূনতম মাত্রার প্রয়োজন হয়।

 

৫. স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ: Local Control:  Community based tourism এর জন্য সরকারী দপ্তর, কোনো সমিতি, সংস্থা বা কোম্পানী স্থানীয় জনগনের সাথে সহযোগিতা ও অংশীদারীত্বের ভিত্তিকে কাজ করতে পারে। কিন্ত তা সত্বেও মূল নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে থাকা উচিত। অবশ্য স্থানীয় নেতৃত্ব উপরস্থ কোনো কতৃপক্ষ থাকলে তাদের কাছে জবাদিহি থাকবে যদি কোনো গাফিলতি বা হটকারী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ‍ কমিউনিটি ভিত্তিক ecotourism শিল্পের স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ জরুরী। অন্যের খবরদারী এর স্বাভাবিক উন্নয়নকে ব্যাহত করবে দারুনভাবে।  স্থানীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনায় Community based tourism  এর উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধান অনুশীলন করা হবে। এতে স্বচ্ছ, বাস্তব সম্মত, বাস্তবায়ন উপযোগী ও সময়মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। কমিউনিটি সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ  ও পর্যটন গ্রহণযোগ্যভাবে সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য করতে হবে।  কৌশলগত উপাদানের গঠন এবং জ্ঞান সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের সঙ্গে স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিন্যাসিত অংশগ্রহণ, তাদের  প্রভাবিত পরিচালনা, সর্বোপরী cotourism উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়সমূহের  অনুশীলন  ও তা থেকে উপকার লাভ করার  জন্য সম্প্রদায় সক্রিয় করতে কার্যকর দলীয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।  ৭. টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন: Sustainable Economic Development:  প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে তা থেকে উদগত আয় দ্বারা স্থানীয় অর্থনীতির বুনিয়াদ গড়ে তোলা যায়। সকল পরিকল্পনা যেন স্থানীয় জনসংখ্যার মাঝে ন্যায়সঙ্গত ভাগ হয়, সাম্য ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে প্রত্যেকের ন্যায্য পাওনা এবং Community এর অংশ হিসেবে যার যা অধিকার তা নিশ্চিত করতে হবে।  একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সূচকে কর্মপরিকল্পনা তৈরী করতে হবে। ক্ষুদ্র ও সাময়িক সুবিধার পরিবর্তে বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদী সফলতার প্রতি নজর দিতে হবে। টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো বিদ্যমান জনগোষ্ঠির মাঝে একতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আর সেজন্য ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত, অধিকার ভিত্তিক প্রকল্প ও সম্মানজনক আচার অনুশীলন করতে হবে।

৭. অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করা: Common Goals:

যেকোনো লক্ষ্যে সফল হওয়ার একটি অনিবার্য শর্ত হলো। লক্ষ্যপূরনের জন্য কাজ করছে এমন ব্যক্তি ও গোষ্ঠিগুলোকে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের বদলে এলাকার বৃহৎ স্বার্থে কাজ করা। Community based tourism এর ক্ষেত্রে এটা আরো বেশী জরুরী। বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় গেলে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিভিন্ন ব্যবসায় খুলে বসেছে। বাইরের মানুষদের কাছ থেকে ডলার হাতানোর প্রতিযোগিতায় তারা একে অপরকে টপকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। আর এই প্রতিযোগিতার কারণে পন্য ও সেবার অযৗক্তিক দাম, পর্যটকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ইত্যাদি নানা নেতিবাচক লক্ষণ দেখা দেয়।

এবং ক্ষুদ্র ও ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকে বলে এলাকার বা পর্যটকদের কোনো সমস্যা হলে কাউকে পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়। এতে করে দীর্ঘমেয়াদী একটা Image সংকট ও শেষপর্যন্ত এলাকার পর্যটন নির্ভর উন্নয়নের যে সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে সেটাই বিনষ্ট হয়ে যায়।

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেমনি Community based tourism জরুরী পয়ে পড়ছে। তেমনি এর নীতি বৈশিষ্ট্যগুলো পালন করাও জরুরী। কারণ ভুলভাবে করার কারণে কোনো কাজে বিফলতা আসুক সেটা কারো কাম্য নয়।

Content By: Jahangir Alam Shovon

এই লেখা তৈরীতে ধারণাগত সহযোগিতা নিয়েছি http://www.endruralpoverty.org এই ওয়েবসাইট থেকে।

Published : আগস্ট ১৪, ২০১৭ | 1022 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798