বাংলাদেশের ই কমার্স: বর্তমান পেক্ষাপট

Published : জুন ২০, ২০১৭ | 1315 Views

ই-কমার্সে বাইরের কোম্পানী আসা প্রসঙ্গ

ভারতে অ্যামাজনের কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপডিল আর ব্যবসা করতে পারছে না। ফ্লিপকার্টও দারুণ চাপের মধ্যে পড়েছে। অবস্থায় ফ্লিপকার্ট এবং স্ন্যাপডিল এক হয়ে যাচ্ছে। গতকাল সেটি নিয়ে আমি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম ক্যাব ফেইসবুক গ্রুপে (লিঙ্কঃ www.facebook.com/groups/eeCAB/permalink/1528992277119202/)

বাংলাদেশের কমার্স ব্যবসায়ীরাও অ্যামাজন, আলিবাবা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন। প্রায়শই তাদের বলতে শোনা যায় যে এসব প্রতিষ্ঠান আসলে তাদের ব্যবসা টিকবে না। এখন কথা হলো আপনারা যদি টিকতে চান তাহলে আপনাদের ব্যবসা বাড়াতে হবে, দেশের মানুষের কাছে কমার্সকে ছড়িয়ে দিতে হবে, কমার্সকে জনপ্রিয় করতে হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে যে মানুষ যেন দেশীয় কমার্স প্রতিষ্ঠানের থেকে পণ্য সেবা ক্রয় করতে উৎসাহিত হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে

এখন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কমার্স ব্যবসায়ীদের পক্ষে নিজেদের টাকা দিয়ে এত কিছু করা সম্ভব নয়। তাদের নিজেদের সেরকম টাকা নেই। এখন তাহলে কি করা যায়? সরকারের সহায়তা লাগবে। এই যে এত বড় বাজেট থেকে কমার্স ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে বিশাল বরাদ্দ দিতে পারে সরকার। ক্যাবই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যে সরকারের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলতে পারে। ক্যাব কমার্স ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারের সাথে আলোচনা করে এসব সুবিধাগুলো আদায় করতে পারে। ক্যাবের সদস্যরা যত বেশি ঐক্য ধরে রাখবে এবং যত বেশি তৎপর হবে ক্যাব তত শক্তিশালী হবে এবং সরকারের সাথে তত শক্তিশালীভাবে বোঝাপড়া করতে পারবে।

সারাদেশে সরকার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) স্থাপন করেছে। এসব ইউডিসির মাধ্যমে গ্রামের মানুষের কাছে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু ইউডিসিকে কাজে লাগাতে হলে সরকারের সাথে কথা বলতে হবে এবং কাজ করতে হবে। সেটা কে করবে? ক্যাবই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যে এই কাজ করতে পারে

ডাকবিভাগ পোস্টালক্যাশ কার্ড চালু করেছে। এসব পোস্টাল ক্যাশকার্ড ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ চাইলে পোস্ট অফিসে অনলাইনে অর্ডারকৃত পণ্যের দাম মেটাতে পারে। কিন্তু বিষয়ে সরকারের কাছে কে কথা বলবে? উত্তর হচ্ছে ক্যাব।

কিন্তু একদিকে কমার্স ব্যবসায়ীরা বলছেন যে অ্যামাজন আলিবাবা তাদের শেষ করে দেবে আবার ক্যাবকেও শক্তিশালী করছেন না। তাহলে কি হবে? সরকার অবশ্যই চায় যে দেশের কমার্স সেক্টরের উন্নয়ন হোক। কিন্তু সরকার তো আর অনলাইনে ব্যবসা করবেন না। ব্যবসা করবে কমার্স ব্যবসায়ীরা এখন তারা যদি নিজেরা সচেতন না হয় তাদের সমস্যা মেটানোর ব্যাপারে এবং নিজেরাই অন্তর্কোন্দলে লিপ্ত হয় তাহলে সরকার কতক্ষণ তাদের রক্ষা করবে?

কমার্স ব্যবসায়ীদের টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি এবং সিএনজি চালকদের থেকেই শিক্ষা নেয়া উচিত। এখন টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের দাপট কিন্তু যখন টিএন্ডটির একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তখন কি অবস্থা ছিল তা কমবেশি আমরা সবাই জানি। একই কথা বলা চলে ঢাকার সিএনজি চালকদের ব্যাপারে। তারা ইচ্ছামতো টাকা নেয়া, যাত্রীদের হয়রানি সবই করে এসেছে কিন্তু এখন উবার এসে আস্তে আস্তে তাদের ব্যবসা খেয়ে ফেলছে। লোকে উবারে চড়ে সেটা কি শখ করে চড়ে?দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বড় অংশ গ্রামীনফোন ব্যবহার করে (আমিও তাদের একজন) সেটা কি মনের আনন্দে করে?

বছরের পাঁচ মাস ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে। আর সাতমাস আছে। এরপরে ক্যাবের নির্বাচন হবে এবং নতুন সভাপতি এবং নতুন নেতৃবৃন্দ নিযুক্ত হবেন। কিন্তু ক্যাব সদস্যরা যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্য রাখতে না পারেন এবং অন্তর্কোন্দলে লিপ্ত হন তাহলে আপনাদের সবচেয়ে ভয়ংকর স্বপ্নটিই বাস্তব রূপ ধারণ করবে।

তাই ক্যাবের সকল সদস্যদের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে যে আপনাদের নিজেদের স্বার্থেই আপ্নারা একত্রে থাকুন।
সূত্রঃ ই-ক্যাব প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ এর ফেসবুক পোস্ট থেকে।
www.mof.gov.bd/…/bn/FINAL_Digital%20Bangladesh%202016-17.pdf

www.kalerkantho.com/print-editi…/budget2017-2018/…/08/495104

Published : জুন ২০, ২০১৭ | 1315 Views

  • img1

  • জুন ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মে   জুলাই »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798