পর্যটনে ফ্যাক্ট সেন্টমার্টিন দ্বীপ

Published : মে ৩১, ২০১৭ | 2213 Views

সেন্টমার্টিন ফ্যাক্ট

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১০৬টি আবাসিক হোটেল আগামী ১০ মের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শনিবার হোটেল কর্তৃপক্ষকে এ সংক্রান্ত নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়।

 

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথের বিষয়টি তদন্তে নৌপরিবহন অধিদপ্তর একটি কমিটি গঠন করে। গত ৫ মার্চ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত দলের প্রধান অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন। তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন অধিদপ্তরের ঢাকা নদীবন্দরের সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান, মুখ্য পরিদর্শক শফিকুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম। গত ৩ মার্চ তদন্ত দল টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলকারী ছয়টি জাহাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলসিটি কুতুবদিয়া ও এলসিটি কাজল নামে দুটি জাহাজ। জাহাজ দুটির

চলাচলের সক্ষমতা নেই। এ দুটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।  জাহাজ দুটি হলো এলসিটি কুতুবদিয়া ও এলসিটি কাজল। এদিকে যেখানে প্রথমদিকে ১টি জাহাজ চলাচল করতো সেখানে বর্তমানে ২টি এবং গত সিজনে ৫টি পর্যন্ত চলাচল করেছে। ফলে এখানকার নাফ চ্যানেল ও সমুদ্রের মোহনায় জীব বৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এবং এখানে বসবাসকারী মাছ কাছিম ও অন্যান্য প্রানীদের ডিমপাড়াসহ স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এবং পর্যটকদের নিক্ষেপকরা প্লাস্টিক ব্যাগ, পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট এসব নদীর নাব্যতা আর প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

 

জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে পর্যটন বন্ধ করে দ্বীপটি পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তর মনে করছে, মাত্রাতিরিক্ত পর্যটনের কারণে সেন্টমার্টিনে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে সেখানে অন্তত আগামী তিন বছর সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। এ সময় দ্বীপটি পুনর্গঠন তথা জীববৈচিত্র্য প্রতিস্থাপনের পর নিয়ন্ত্রিত এবং পরিকল্পিত পর্যটন চালুর মাধ্যমে দ্বীপকে রক্ষা করা যেতে পারে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয় থেকে ঢাকায় পাঠানো এক লিখিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেন্টমার্টিনের অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেখানে পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে জীববৈচিত্র্য সহায়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে দ্বীপটি সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল সেন্টমার্টিনকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। কিন্তু এ ঘোষণার সঙ্গে আনুষঙ্গিক ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শুধু ঘোষণার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকে। কক্সবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় না থাকা এবং বিভাগীয় কার্যালয়ে অল্প লোকবল নিয়ে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপের দেখভাল করা কঠিন।’
অবাক করা ব্যাপার হলো, প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার পর্যটক সমুদ্র পাড়ি দিয়ে প্রবাল দ্বীপে আসছেন। ১২২টি হোটেল, মোটেল ও কটেজে লোকজনের ঠাঁই নেই। পুরো দ্বীপে উৎসবের আমেজ। এখানকার অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের মনে হিলেল্গালের সৃষ্টি করলেও দ্বীপের অধিবাসীদের মনে এর কোনো অনুভূতিরই হয়তো জন্ম দেয় না। অভাব-অনটন আর রূঢ় বাস্তবতার কারণে সেন্টমার্টিনবাসীর কাছে দ্বীপটির সৌন্দর্য একরকমের নিরর্থকই। অন্ধকারেই পড়ে আছেন এখানকার বাসিন্দারা ।

র্যটকরা সেন্ট মার্টিনে ঘুরতে গেলে যে আয় হয়, তা স্থানীয়দের পকেটে যায় না। যারা ওইসব রেস্টুরেন্ট-হোটেলের মালিক, তারাই সব সুবিধা নিয়ে নেয়। এখানকার ব্যবসায়ীদের বেশিভাগই বহিরাগত। মুষ্টিমেয় লোকের হাতে পর্যটন অর্থনীতি জিম্মি হয়ে আছে। হোটেল-কটেজে রাতের বেলায় জেনারেটরের সাহায্যে আলো জ্বললেও স্থানীয়দের ঘরবাড়ি থাকে অন্ধকারে। দ্বীপে একসময় সরকারি উদ্যোগে একটি অস্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র থাকলেও ১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে তা বিকল হয়ে যায়। তখন থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। এখন বেশিরভাগ সরকারি অফিস চলে সৌরবিদ্যুতে।

২০০৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেন্টমার্টিনে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে ১০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। এখনও হাসপাতালের জরুরি, গাইনি, সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে কোনো যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি। প্রসূতিসেবা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা।

‘তিন শতাধিক জেলে নৌকার জালে প্রতিদিন একটি করে কাছিম আটকা পড়লেও এর সংখ্যা দাঁড়ায় দৈনিক অন্তত তিনশ’। জালে আটকেপড়া কাছিম জেলেরা পিটিয়ে মেরে ফেলছে।

‘পাড়ে ডিম পাড়তে এসে কুকুরের আক্রমণে প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি কাছিম মারা যাচ্ছে। কুকুর কাছিমের ডিম এবং বাচ্চাও খেয়ে ফেলছে।’ তিনি বলেন, ‘রাতে হোটেল, মোটেল ও দোকানের আলো এবং পর্যটকের জ্বালানো আগুন সামুদ্রিক কাছিমের আগমনে বাধা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল

Published : মে ৩১, ২০১৭ | 2213 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798