হিমাচল পর্যটন উন্নয়নে বরাদ্দ ১০০ কোটি রুপী

Published : মে ২১, ২০১৭ | 1738 Views

ভারতের হিমাচল প্রদেশের পর্যটন উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ কোটি রুপী বরাদ্দ

হিমাচলের স্বদেশ দর্শণ এবং হিমালয় সার্কিটকে  আরো সৌন্দর্যময় করে ঢেলে সাজাতে রাজ্য সরকারকে ১০০ কোটি রুপী বরাদ্দ দিলো ভারতের কেন্দ্রীয় প‌র্যটন মন্ত্রনালয়।  রাজ্য সরকারের পাঠানো ১৪টি প‌র্যটন প্রকল্পের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে শিমলায় হেলিপোর্ট সেন্টার, সোলান জেলায় কাইরিঘাট এলাকার উন্নয়ন, শিমলা গ্রামীণ কেন্দ্রে সুন্নির জলক্রীড়া প্রকল্প, শিমলার আইসস্কেটিং রিঙ্কের রক্ষণাবেক্ষণ,  মানালি অঞ্চলকে নবরূপে সাজানো হচ্ছে। মানালিতে  কৃত্রিম রক ক্লাম্বিং প্রকল্পও গড়ে তোলা , ধর্মশালায় ডাললেকের সৌন্দ‌র্যা বৃদ্ধি, বীর এলাকায় প্যারাগ্লাইডিং স্কুল, হামিরপুর জেলার নাদুঁয়াতে রাফটিং সেন্টার, পালামপুরে সৌরভ কালিয়া বন বিহার, কাঙ্গরায় শিল্পকলা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র গড়ে তোলার ইত্যাদি। দারুন সব রোমাঞ্চকর আইডিয়া আমলে নিয়েছে কেন্দ্র। ভারত সরকার হিমাচলের এই প্রত্যেকটি প্রকল্পেই অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।

হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজিম কতৃপক্ষ আশা করছে কেন্দ্রের এই সহায়তা হিমাচলের প‌র্যটন শিল্প ‌যেমন চাঙ্গা হবে, তেমন রাজ্যের অর্থনীতিতেও বিকাশ আসবে। রাজ্যের প‌র্যটন কর্মকর্তাদের মত, একটা সময় ছিল ‌যখন হিমাচলে প‌র্যটকেরা আসতেন নির্দিষ্ট সিজিনে। এখন সেই বাঁধাধরা ছক ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃতিক শোভার পাশাপাশি হিমাচলের আঞ্চলিক উৎসবগুলিকেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হিমাচলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা সারা বিশ্বের মানুষ জানে। সেখানে পর্যটকেরও কমতি নেই। রয়েছে হোটেল রিসোর্টসহ নানা সুযোগ সুবিধা। তবুও সেখানে আরো পর্যটন উন্নয়ন এর জন্য রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চেষ্টা ও পরিকল্পনার শেষ নেই। বিশেষ করে হেলিকপ্টার এর জন্য হেলিপোর্ট, পানির মধ্যে খেলাধুলা বাড়াতে, খেলাধুলা দেখাতে এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহনের মাধ্যমে পর্যটক বাড়াতে জলক্রীড়ার উন্নয়ন, কৃত্রিম রক ক্লাইম্বিং এগুলো উন্নয়ন না হলেওতো ট্যুরিস্ট আসছে। তবু তারা সেগুলোর উন্নয়নের কথা ভাবছি। আর আমরা সাজেক কিংবা কক্সবাজারে রাস্তাঘাট ও রিসোর্ট ছাড়া আর কিছুই ভাবছিনা কেন?

প্যারাগ্লাইডিংকে জনপ্রিয় করা এবং প্যারাগ্লাইডার তৈরী করার জন্য তারা স্কুল করার প্লান করেছে। আমরা প্যারাসেইলিং এর জন্যও আজ পর্যন্ত কিছু করতে পারিনি। এর সাথে সেখানে শিল্পকলা ও সংস্কৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আমরা এ কথা ভুলে যাই যে একজন ট্যুরিস্ট শুধু প্রকৃতি দেখতে আসেন না। একটা এলাকার শিল্পসংস্কৃতিও দেখতে আসেন। সেখানে আমাদের কোনো পর্যটনকেন্দ্র শিল্প সংস্কৃতিকে তুলে ধরার কোনো উদ্যোগও আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। আমরা যদি নিজেদেরকে সঠিকভাবে তুলে না ধরে। শুধু পর্যটকরা আকর্ষিত হয়ে ছুটে আসবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা কেবল আফগানিস্তান আর ভূটান থেকে এগিয়ে আছি পর্যটনে। এমনকি পাকিস্তান পর্যন্ত আমাদের পেছনে ফেলে দিয়েছে। গত ১ দশকে ভিয়তনাম, কম্বোডিয়ার যে হারে উন্নতি করেছে পর্যটনে সেটা বিশ্লেষন করলে মুখ লুকাতে হবে। আমরা কেবল উন্নয়ন এর চাটুকারিতার নিচে ছাপা পড়ে পিছিয়ে পড়াটাও দেখতে পারছিনা। আমরা আগাচ্ছি সত্য কিন্তু সেটা বিশ্বের অগ্রগতির সাথে কত কম গতিতে সেটা ভেবে দেখেছি কিনা কর্তাদের ব্যক্তিদের কাছে জানার রইলো।

  • লেখা জাহাঙ্গীর আলম শোভন, তথ্য উইকিবাজার

Published : মে ২১, ২০১৭ | 1738 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798