ঠাকুরগাঁয়ের রাজভিটা

Published : মে ২০, ২০১৭ | 1821 Views

ঠাকুরগাঁও ভ্রমণ

রাজভিটা
পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের হাটপাড়া নামক স্থানে টাঙ্গন নদীর বাঁকে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে যে রাজবাড়ির অস্তিত্ব অনুভব করা যায় তা রাজভিটা নামে বর্তমান মানুষের নিকট পরিচিত। এর সঠিক ইতিহাস পাওয়া কঠিন। তবে অনুমান করা হয় এটি শেরশাহের সময়ে নির্মিত হয়েছিল। এখানে শেরশাহ আমলের মুদ্রা পাওয়া যায়। একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে যার বর্ণগুলো অপরিচিত এবং শিলালিপিতে একটি উট, একটি ঘোড়া ও একটি শুকরের প্রতিকৃতি আছে। সাংবাদিক কাজী নুরল ইসলাম তাঁর ‘পীরগঞ্জের ঐতিহাসিক রাজভিটা‘ নিবন্ধে এ সমস্ত তথ্য প্রদান করে বলেছেন-‘এগুলোর সূত্র বিশ্লেষণ করা হলে ঐ স্থানে কোন আমলে কোন রাজার রাজভিটা ছিল এর সঠিক তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তে চা বাগান। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে বিস্তৃত চা বাগানে শীতের এই সময়ে তার প্রকৃত রূপ ছড়ায়। উত্তরে হিমালয়কন্যা-খ্যাত ভারতের পাশেই রূপ-বৈচিত্র্যের চা বাগান। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পাড়িয়া সীমান্তের এই চা বাগান এখন ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যরকম পছন্দ। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের চা বাগান।
প্রাকৃতিক লীলাভ ঠাকুরগাঁও।


রাজভিটায় দাঁড়িয়ে থাকা রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ নেই- সবই মাটির গর্ভে। মাটি খুড়লেই ইট পাথর বের হয়ে আসে। বিভিন্ন ভবনের অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। আর নদীর ভাঙনেও নানা আকৃতির প্রচুর ইট ও পাথর বেরিয়ে আসে। নদীর উপত্যকায় পড়ে আছে বহু পাথর ও প্রাচীন ইট। রাজ পরিবারবর্গ টাঙ্গন নদীকেই নৌপথ হিসেবে ব্যবহার করত যা সহজে বোঝা যায়। রাজভিটা প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এবং ২৫০ মিটার প্রস্থ। রাজভিটা থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে শেরশাহ আমলের পূর্ণিয়া সড়কের নিদর্শন আছে।

আর থাকা?

হিমালয়ের পাদদেশে সমতলের চা বাগান দেখতে এলে কম খরচেই রাত কাটানো আর খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। পঞ্চগড় শহরেই আছে ভালোমানের কয়েকটি আবাসিক হোটেল। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি কটেজ ডাকবাংলো তো রয়েছেই। হিমকন্যা তেঁতুলিয়ায় সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ডাকবাংলো রয়েছে। এসব ডাকবাংলোয় রাত কাটাতে চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। এক রাতের জন্য খরচ পরবে পাঁচশ’ থেকে এক হাজার টাকা। একটু এদিক ওদিক খুঁজলেই পেয়ে যাবেন ভালো রাঁধুনি অথবা বাবুর্চি। নিজেদের উদ্যোগেই তারা আপনাকে খাওয়াবে। পরিচ্ছন্ন মনোরম পরিবেশে শীতঘন রাত আপনার স্বপ্নময় হয়ে উঠবে। এ ছ্ড়াও তেঁতুলিয়ায় বেসরকারিভাবে আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন চা বাগানে কটেজ নির্মিত হচ্ছে।

ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও সড়ক ও রেলপথ, উভয় পথেই যাতায়াত করতে পারবেন। ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলায় যে-কটি বাস চলাচল করে কর্ণফুলী পরিবহন তার মধ্যে অন্যতম। কল্যাণপুর, গাবতলী এবং আবদুল্লাহপুর থেকে কর্ণফুলী পরিবহনের যাত্রীরা সরাসরি আন্তঃজেলা বাসে উঠতে পারেন। ঢাকা-লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও রুটে চলাচল করে ৭৫২/৭৫১ নং লালমনি আন্তঃনগর ট্রেনটি।

 

Published : মে ২০, ২০১৭ | 1821 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798