ভাতের ভিটা: মাগুরার ২ হাজার বছরের পুরনো কৃতি

Published : মে ১৭, ২০১৭ | 2027 Views

ভাতের ভিটা

ভাতের ভিটা

ভাতের ভিটা নাম হলেও এটা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন। বিভিন্ন বিশ্লেষনে এর বয়স ২ হাজার বছরের বেশী বলে প্রতীয়মান হয়। তবে ভাতের ভিটা নাম হওয়ার পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ এক গল্প। লোকমুখে আসা এই পুরানই এখন এর তথ্যসূত্র। ঐতিহাসিক কিছু তথ্য পাওয়া যায় তবে তা নেহায়েত যৎসামান্য। আসুন জেনে নিই ভাতের ভিটা পুরাকীর্তি সম্পর্কে।

গুরা সদর উপজেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত  ফটকী নদীর তীরবর্তী ভাতেরভিটার অবস্থান।।টিলা আকৃতির মৃত্তিকাস্তুপের উপর মানুষের বসতভিটা আর বসতভিটার ঢালে ফসলের ক্ষেত, এই বন্ধুর ভূ-প্রকৃতি এই গ্রামকে পাশ্ববর্তী জনপদসমূহ থেকে পৃথক ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে। টিলা গ্রামের  নামের সাথে গ্রামের ভূ-প্রকৃতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে পূণ্যস্থান হিসেবে আদৃত এই স্থানটির নাম ‘ভাতের ভিটা’ ।

‘ভাতের ভিটা’ স্থানটি ছোট টিলার মত।  কোন এক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী দরবেশ গভীর রাতে রাস্তায় ভ্রমণের সময় এখানে এসে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। নির্মাণ কাজে নিয়োজিতদের জন্য ভাত রান্না যখন শেষ নির্মাণ কাজ তখনও শেষ হয়নি কিন্তু সকাল হয়ে যায়। ফলে নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে দরবেশ চলে যান। পথিমধ্যে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারিতে গিয়ে রাত শেষ হয়নি দেখে সেখানে মসজিদ নির্মাণ শুরু করে ফজরের নামাজ আদায় করেন।

এদিকে রাত শেষে লোকজন দেখতে পায় অসমাপ্ত মসজিদ, রান্না করা ভাত আর ভাতের ফ্যান গড়িয়ে পাশে পুকুরের মত তৈরী হয়েছে। সেই থেকে উঁচু টিলার নাম হয় ভাতের ভিটা। যেখানে ফ্যান গড়িয়ে পুকুরের মত হয়েছে তার নাম দেয়া হয় ফ্যানঘালী।

‘ভাতের ভিটা’ এর ধ্বংসাবশেষ দেখে এবং ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক তথ্য প্রমাণাদি বিশ্লেষণে অনুমান করা হয় এখানে মোর্য্য সাম্রাজ্যের সময়কাল খ্রীঃ পূঃ তৃতীয় শতাব্দী থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়কাল পযর্ন্ত এই কাল পরিসরে এখানে একটি বৌদ্ধ সংঘ্যারাম প্রতিষ্ঠিত ছিল।

কিংবদনত্মীর সূত্র ধরেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এখানে মনস্কামনা পূরণের আশায় নিত্যদিন সদকা মানত করতে আসত দূর-দূরান্ত হতে।

বছর কয়েক আগে এলাকায় একটি ধর্মসভা করে ঘোষণা দেয়া হয় যে, এরূপ সদকা মানত করা ও শিরণী দেয়া ধর্ম বিরুদ্ধ। তারা টিলার মাটি কেটে ঈদগাহ ভরাটের উদ্দ্যোগ নেয়। এ সংবাদ প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে সরকারীভাবে পুরাকীর্তি সংরক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ এখানে খননকার্য শুরু করে। খননকার্যের ফলে এখানে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের স্থাপত্যশৈলীর অনুরূপ অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রায়তঃ বহুকক্ষ বিশিষ্ট ইমারতের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খনন অসমাপ্ত রেখেই একটি বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে এখানকার কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।
যাতায়াত: মাগুরা সদর উপজেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত বেয়ে ফটকী নদীর উত্তর তীরবর্তী এক পল্লীগ্রাম টিলা। নামের সাথে গ্রামের ভূ-প্রকৃতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে পূণ্যস্থান হিসেবে আদৃত ‘ভাতের ভিটা’ মাগুরা জেলা শহর হতে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণের এই টিলা গ্রামে অবস্থিত। মাগুরা জেলা শহর হতে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে মঘি ইউনিয়নে ফটকী নদীর তীরে টিলা গ্রাম অবস্থিত। যশোর-মাগুরা সড়কে বাস ও ভ্যানযোগ যাতায়াত করা যায়।

Published : মে ১৭, ২০১৭ | 2027 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798