গ্রামীন ই-কমার্স এখন সময়ের দাবী

Published : মে ৮, ২০১৭ | 1483 Views

ছবি : জাহাঙ্গীর আলম শোভন

গ্রামীন ই-কমার্স এখন সময়ের দাবী

গ্রামে বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষদের জন্য বাংলাদেশ সরকার নিয়ে আসতে পারে ই কমার্স সেবা। গ্রামের সাধারণ মানুষরা যাতে প্রযুক্তির সুবিধা পেতে পারে এজন্য সরকার ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকার ছাড়া অন্য কারো জন্য এটা কঠিন হয়ে যাবে।। সারাদেশে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’’ স্লোগানকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশকে তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্ব ভূমিকা রাখছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা ইউডিসি। সারা দেশে সাত হাজারের বেশী ইউডিসি সাধারণ মানুষদের ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রযুক্তি সেবা দিচ্ছে। এসব পয়েন্টকে কাজে লাগানো যায় ই কমার্সের অর্থ গ্রহণ কিংবা পন্যে ডেলিভারী দেয়ার পিক পয়েন্ট হিসেবে।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ই-কমার্ষ ক্রমবিকাশমান খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ঘরে বসে বিভিন্ন ধরনের পন্য ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ই কমার্স জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের শিক্ষাহীন ও অল্পশিক্ষিত মানুষ বিশেষ করে যারা স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত নয় তারাও এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পাবে। বিশেষ করে আমরা ধরে নিতে পারি গ্রামের একজন কৃষকও তার একটি কৃষিযন্ত্র বা বীজ বা কোনো ঘরগেরস্থালী পন্য কিনতে পারবে। এজন্য তার নিজেকে ইন্টারনেট ব্যবহার বা অনলাইণ শপে ভিজিট করার প্রয়োজন হবেনা।

এই খাতে সরকারের উপস্থিতি না থাকলে এক শ্রেনীর অপেশাদান ব্যবসায়ী ও প্রতারকরা এই সেক্টরে এসে এর সুনাম নষ্ট করতে পারে। বর্তমানেও মাঝে মধ্যে পন্যের কোয়ালিটি, সঠিক পন্য না দেয়া ইত্যাদি নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। ফলে ই কমার্স যেভাবে অগ্রসর হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না।

গ্রামীন ই কমার্স ফরম্যাটে  একজন ক্রেতা ইউডিসিতে গিয়ে তার প্রয়োজনীয় পন্যের কথা বলবেন। ইউডিসি তার পক্ষ হয়ে অনলাইন শপ থেকে পন্য ক্রয় করবেন। সে অনলাইন শপ অবশ্যই এই প্রস্তাবিত সিস্টেম এর সাথে যুক্ত থাকবে। যাতে করে অনলাইন ক্রেতা শপ থেকে এই সিস্টেমকে সিলেক্ট করতে পারে। এই সিলেকশানের মাধ্যমে ক্রেতা তার পন্য গ্রহণ করার জন্য শিপিং পয়েন্ট হিসেবে ইউডিসি কে নির্বাচন করতে পারবে। যাতে করে বিক্রেতা পন্যটি UDC কে প্রেরণ করে। এবং ইউডিসি গ্রাহকের কাছ থেকে মূল্য গ্রহণ করে গ্রাহককে তার কাংখিত পন্যটি বুঝিয়ে দেবে।

আর UDC তার নিজের একাউন্ট থেকে মার্চেন্টকে পন্যের দাম পরিশোধ করবে। সেজন্য ইউডিসির একাউন্ট এবং ব্যালেন্স থাকার প্রয়োজন হবে।

এই পক্রিয়ায় দুটো অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো সি টু বি বা সি টু ইউডিসি মানে কাষ্টমার ইউডিসির শরনাপন্ন হবে। UDC কে পে করবে এবং UDC থেকে পন্য বুঝে নেবে।  দ্বিতীয় অংশ হলো বি টু বি বা বি টু UDC. এখানে একটি লেনদেন হয় একটি ই কমার্স শপ এর সাথে আরেকজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর। মানে UDC অনলাইন থেকে পন্য ক্রয় করে। পুরো পদ্ধতিটা এমনভাবে চিন্তা করা হয়েছে যাতে করে বাংলাদেশ উপযোগী একটা স্বতন্ত্র ই-কমার্স চেইন তৈরী হয়। যাতে গ্রামের এক প্রান্ত বসবাসকারী একজন সাধারণ মানুষ দেশের অন্য প্রান্ত থেকে অনলাইনে তার প্রয়োজনীয় পন্যটি কিনতে পারে। এতে করে কাষ্টমারের শিক্ষা, প্রযিুক্তিজ্ঞান, ইন্টারনেট না থাকা কোনোটাই কোনো সমস্যা নয়। কাস্টমার আর মার্চেন্ট এর মাঝে একটি যোগসুত্র রচনা করে দিছ্ছে UDC পরোক্ষভাবে সেটা এটুআই নিয়ন্ত্রণ করবে।

শুধু তাই নয়। যেহেতু বাংলাদেশে শিপিং বা ডেলিভারী সিস্টেম এখনো সমস্যামুক্ত নয়। এবং বিভিন্ন কুরিয়ার কোম্পানীর সেবা গ্রামপর্যায়ে বিস্তৃতি নয়। সেজন্য গ্রামে বসবাসকারী নেট ব্যবহার করেন এবং স্মার্টফোন আছে এমন লোকও তার পন্য কিপিং পয়েন্ট বা রিসিভিং পয়েন্ট হিসেবে ইউডিসিকে ব্যবহার করে তার পন্য ডেলিভারী নিতে পারেন। এতে করে একদিকে যেমনি UDC কে ই কমার্সের জন্য ব্যবহার করা যাবে। সেখানে একটি সেবা যুক্ত হবে। তেমনি প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ ই কমার্স সেবার আওতায় চলে আসবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে সব মানুষকে ইকমার্স সেবার আওতায় নিয়ে আসাটা একটা যুগান্তারী পদক্ষেপ হয়ে থাকবে।

আশাকরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি ই কমার্স প্লাটফরম গ্রামের প্রান্তিক মানুষদের অনলাইনে বেচাকেনার সুযোগ করে দিতে পারে। এবং প্রতারক ও ঠগবাজদের হাত থেকে তাদেরকে সেফ করতে পারে। সবচেয়ে যে কাজটা করতে পারে সেটা হলো কৃষকের উৎপাদিত পন্য সারাদেশে পৌছে দিতে পারে গ্রামীণ ই- কমার্স।

Published : মে ৮, ২০১৭ | 1483 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798