হামহাম ঝর্ণা: এক কথায় অসাধারণ

Published : এপ্রিল ১৩, ২০১৭ | 2285 Views

হাম হাম মৌলভীবাজার

হামহাম ঝরণা

হামহাম ঝরনাটা মৌলভীবাজার জেলার কমলগন্জ উপজেলার রাজবাড়ী ফরেস্টের গভীরে অবস্হিত । আসতে এবং যেতে প্রায় ৬/৭ ঘন্টা হাটতে হয় বনের ভিতরে আর ঝিরি পথে হাটতে হবে । এডভেঞ্চার এর অভিজ্ঞতা পেতে না চাইলে হামহামে না যাওয়াই ভালো। এখানে পাহাড়ী ঝিরি পথ, পানি, পাথর ঝোপ আর জোঁকের কামড় ডিঙিয়ে তবেইনা দ্বিগিজ্বয়ের আনন্দ।

যতই খাড়াই উৎরাই থাকুক আনন্দও কম নয়। পাহাড়ী ঝিরির দুই পাশে চিকন পাতার ঘাসের আশ্চর্য মোলায়েম পরশ তার ক মাঝখান দিয়ে পাহাড়ের বুক  চিরে চলে গেছে  স্ফটিক-স্বচ্ছ ঠান্ডা পানির ঝিরি। এখানে দেখা মিলবে পাহাড়ী চিংড়ির। পাহাড়ি বুড়ো গাছের লতানো রশি দুলবে মাথার উপর মন চাইবে এক মুহুর্তের টারজান হয়ে যেতে। এছাড়া চারদিকে রয়েছে ঘনজঙ্গল। বিশেষ করে প্রচুর  পাহাড়ী বাঁশ দিয়ে ঘেরা বন। কখনও বেশ খাড়া পথ বেয়ে নিচে নামতে হচ্ছে। প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ  পাথুরে রাস্তা।

এভাবে অনেকটা পথ যেতে হয় হিমশীতল ঠাণ্ডা পানির ঝিরি পথ ধরে। পুরো জায়গা জুড়ে কেমন যেন আদিম নীরবতা। দূর থেকে ভেসে আসছে নাম না জানা পাখিদের মিষ্টি ডাক।

পাহাড়ের আড়ালে বনের গায়ে সবুজ তুলি দিয়ে আকা প্রকৃতির এক মায়াময় চিত্র। নাকে এসে লাগবে মাতাল করা সবুজের বুনো ঘ্রাণ। পিচ্ছিল পাথুরে পথ, সাবধানে পা ফেলতে হয়। এক সময় শুনতে পাবেন সে কাঙ্ক্ষিত ডাক। হামহাম এর শব্দ।  সে ডাক ধরেও এগিয়ে যেতে হবে আরো কিছু দূর।

হামহাম যাবার পথে মাকাম নামে একটা পাহাড় টপকাতে হয়। সাথে দড়ি থাকলে টেনশন নাই। পাহাড়টা খাড়া আর জোকে ভরা। বুনো একটা পথ ধরে চলতে চলতে বিস্ময়ে কখনো দেখবেন সবুজ ধারালো ঘাস,  পাথুরে গর্ত , কোমর সমান পানি, কখনো গলা ডুবে যাবে। পথের একপাশে ফুটে থাকে নয়নতারা ফুল।

এভাবে যেতে যেতে পড়বে পাথরের সারি। পাথরের আড়াল থেকেই যেন হঠাৎ বেরিয়ে আসবে একটি অপার্থিব সুন্দর ঝরনা, গড়গড় করে জল পড়ছে। জল পড়ে পড়ে সেখানে এক পুস্কুরিনি তৈরী হয়েছে। যেন বিশাল এক প্রাকৃতিক বৌল। পাথরের পিপেতে পড়ে সাদা জল গড়িয়ে চলেছে পাহাড়ের গা গেয়ে দূর অজানার পানে। একটানা ছলাৎ ছলাৎ শব্দে বয়ে চলা এই ঝরনা যেন পেয়েছে চিরকৈশোর। বনজঙ্গলে শুধু গেলেই শেষ নয়। সেখানকার মায়া ছেড়ে আসটাও আরেকটা ব্যাপার। তাই একসময় ফিরতে হয়। তবে বনবাস করার অভ্যাস থাকলে ক্যাম্প নিয়ে যেতে পারেন। দলবেঁধে গেলে চাঁদনীরাতে আগুন জ্বালিয়ে ঝর্ণার সঙ্গে রাত্রিবাস করতে পারলে সে স্মৃতি জীবনভর মনের ফ্রেমের সুখস্মৃতি এলবামে বাঁধাই করে রাখা যাবে।

 

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার সরাসরি বাস আছে। ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা। এছাড়া শ্রীমঙ্গল থেকেও যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম থেকেও সিলেট হয়ে মৌলভী বাজার যাওয়া যাবে। আছে ট্রেন। ঢাকা থেকে সরাসারি আর চট্টগ্রাম থেকে আসলে কুমিল্লায় বদলে নিতে হবে।  মৌলভীবাজার থেকে যেতে হবে কমলগঞ্জ। সেখান থেকে আদমপুর বাজার, বাস ভাড়া ১৫-২০ টাকা। এখান থেকে ২০০-২৫০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় পৌঁছে যেতে পারেন আদিবাসী বস্তি তৈলংবাড়ি বাঙালীরা বলে কলাবনপাড়া। এরপর হাঁটা রাস্তা। প্রায় ৮ কিলোমিটারের মতো পাহাড়ি পথ শেষে হামহাম ঝর্ণার দেখা মিলবে। কলাবন গ্রাম থেকে হামহাম বা সিতাপ পুকুরের ট্রেইল ধরে হাঁটতে থাকবেন। মোকাম টিলাটা দেখলেই দাঁড়িয়ে যাবেন। মোকাম টিলা পার হওয়ার আগেই দেখবেন বাঁ দিক থেকে একটা চিকন ধারার পানি এসে সিতাপে মিশেছে। সেই পানির রেখা ধরেই হাঁটতে থাকবেন। টানা ৩২ মিনিট হাঁটার পর পেয়ে যাবেন এই ঝরনার প্রথম সিঁড়ি। এভাবেই একে একে বেশ কয়েকটি সিঁড়ি বা ধাপ পেরিয়ে পৌঁছে যাবেন ঝরনার কাছে।

 

তবে যেখান থেকেই যাওয়া হোক, কলাবনপাড়ার দিকে অবশ্যই সকালে রওনা হতে হবে। জঙ্গলে যাওয়ার আগে শ্রীমঙ্গলে এক রাত থেকে পরদিন খুব ভোরে উঠে রওনা দিয়ে সারাদিন কাটিয়ে সন্ধ্যার পরে শ্রীমঙ্গল ফিরে আসা। এটাই সঠিক সিডিউল।  যদি কোনো কারণে মৌলভীবাজার পর্যন্ত আসতে না পারেন তাহলে কলাবন পাড়ায় আদিবাসীদের বাড়িতে থাকা যায়।

 

জেনে রাখা ভালো

১. যাওয়ার আগে অবশ্যই কলাবনপাড়ার স্থানীয়দের কাছ থেকে ভালো-মন্দ জেনে যাওয়া উচিৎ। সঙ্গে সরিষার তেল , লবণ ও চুন রাখতে হবে।

২. হাতে একটা ছোট বাঁশের টুকরা বা লাঠি সঙ্গে নেওয়া ভালো। এতে পাহাড়ি পথে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা থেকে শুরু করে সাপ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী থেকে নিরাপদ রাখবে।

৩. সঙ্গে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর খাবার স্যালাইন রাখতে ভুলবেন না। জীবাণুনাশক ক্রিম আর কটন সঙ্গে নেবেন।

৪. কলাবন গাইড সাথে  নিবেন । বষার্তে সাথে পলিথিন নিয়ে যাবেন যাতে বৃষ্টি আসলে মোবাই্ল ক্যামেরা এগুলো সেইফ করে রাখা যায় ।

৫. থ্রিকোয়াটার্র টাইপের প্যান্ট আর টিশার্ট পরে যাবেন জুতা হিসেবে কেডসের তুলনায় প্লাস্টিকের স্যান্ডেল ভালো কারণ পানি পাড়ি দিতে হয়।

অভিযাত্রীদের অভিজ্ঞতা অবলম্বনে – জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : এপ্রিল ১৩, ২০১৭ | 2285 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798