এগারসিন্দুর দূর্গ: ইশা খাঁর স্মৃতি বহন করে

Published : এপ্রিল ৮, ২০১৭ | 2207 Views

এগারসিন্দুর দূর্গ: ইশা খাঁর স্মৃতি বহন করে

এগারসিন্দুর দুর্গের জন্যই পুরো এলাকাটি এগারসিন্দুর নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে এগারসিন্দুর দুর্গ নির্মাতা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। কেউ বলেন, রাজা আজাহাবা আবার কারো মতে বেবুদ রাজা এবং কারো মতে রাজা গৌর গৌবিন্দ। সুলতানি আমলের পরই এগারসিন্দুর এলাকাটি কোচ হাজংদের অধীনে চলে যায়। বাংলার বার ভূঁইয়ার প্রধান ঈশাখাঁ কোচ হাজং রাজাদের পরাজিত করে এগারসিন্দুর দুর্গটি দখল করেন। এ দুর্গ থেকেই পরবর্তীতে মোঘল সেনাপতি রাজা দুর্জন সিংহ ও পরে রাজা মানসিংহকে পরাজিত করতে সমর্থ হন। তখন থেকেই এগারসিন্দুর দুর্গটি ঈশাখাঁর দুর্গ নামেই পরিচিত।

বেবুধ নামে এক কোচ উপজাতি প্রধান ষোড়শ শতাব্দীতে এগারসিন্দুর দুর্গ নির্মাণ করেন। ঈশা খাঁ বেবুধ রাজার কাছ থেকে দুর্গটি দখল করেন এবং একে শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেন। ১৫৯৮ সালে মান সিংহ দুর্গটি আক্রমণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে দুর্গটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তবে দুর্গের ভেতরে উঁচু একটি ঢিবি পাওয়া যায়, যেখান থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কামান দাগানো হতো। এগারসিন্দুরে আছে বেবুধ রাজার দিঘি, সাদী মসজিদ, শাহ মাহমুদ মসজিদসহ অনেক কিছু।

এগারসিন্দুরের আরো যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলো হলো  ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নির্মিত একটি বিশাল গম্বুজসমৃদ্ধ শাহ্ মাহমুদ এ মসজিদ ও বালাখানা । ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে নির্মিত  সাদী মসজিদ। পোড়ামাটির অলঙ্করণে সমৃদ্ধ এ মসজিদটি সম্পূর্ণ ইটের তৈরি। এছাড়া বেবুদ রাজার দিঘি আজও কালের স্বাক্ষর হয়ে টিকে আছে। যা আজও মানুষের কাছে হৃদয় বিদারক হয়ে রয়েছে। বেবুদ নামে হাজং রাজা বাস করতেন এখানে। তিনি এই দিঘি খনন করেন।

ঢাকার মহাখালী থেকে জলসিঁড়ি ও অনন্যা পরিবহনের বাস সরাসরি পাকুন্দিয়া চলাচল করে। থানারঘাট নেমে এগারসিন্দুর যাওয়া যায় সহজে। পাকুন্দিয়ায় সরকারি ডাকবাংলো আছে। এছাড়া ট্রেনে করে আপনি চাইলে এগারসিন্দুর আসতে পারেন। এখানে ইতিহাসের অনেক তথ্য এখনো লুকায়িত আছে।

দিঘিটি গভীর থাকায় পানি খুবই স্বচ্ছ দেখায়। বেবুদ রাজা দিঘিটি খনন করেন বিধায় তার নামানুসারে এটি ‘বেবুদ রাজার দিঘি’ নামে পরিচিত। এ দিঘির পানিতে গাছের পাতা কিংবা অন্য কোনো কিছু পড়ে থাকলে তা পরদিন সকালে পাড়ে এসে জমা হয়। লোকমুখে শোনা যায়, কোনো অনুষ্ঠানের জন্য দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে থালা, বাসন ও অন্যান্য তৈজসপত্র চাইলে পরদিন দিঘির পাড়ে পাওয়া যেত। তবে শর্ত ছিল যা যা নেয়া হতো তা সঠিকভাবে ফেরৎ দিতে হবে। কিন্তু একদিন কেউ এ শর্ত ভঙ্গ করায় এরপর থেকে তৈজসপত্র আর পাওয়া যায় না।

ঢাকার মহাখালী থেকে জলসিঁড়ি ও অনন্যা পরিবহনের বাস সরাসরি পাকুন্দিয়া চলাচল করে। থানারঘাট নেমে এগারসিন্দুর যাওয়া যায় সহজে। পাকুন্দিয়ায় সরকারি ডাকবাংলো আছে।

Published : এপ্রিল ৮, ২০১৭ | 2207 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798