সাতক্ষীরায় ১২ মন্দির এক জায়গায়

Published : এপ্রিল ৪, ২০১৭ | 1485 Views

সাতক্ষীরায় ১২ মন্দির এক জায়গায়: বুধহাটা দ্বাদশ শিবকালী মন্দির

বিশ্বপ্রাকৃতিক ঐতিহ্যের এক অপারলিলাভুমি, ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।যাসাতক্ষীরা জেলার মোট আয়তনের এক তৃতীয়াংশ জুড়ে আছে সুন্দরবন। তাই সাতক্ষীরার কথা মনে হলে প্রথমে সুন্দরবনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু সেদিন বদলে গেছে সাতক্ষিরার ছেয়ে মুস্তাফিজুর রহমান বিশ্ব ক্রিকেটে সাড়া জাগানোর পর এখন সাতক্ষিরার কথা তুললে প্রথমে মনে আসে মুস্তাফিজের নাম।

 

কোথাও একটি ঐতিহাসিক মন্দির থাকলে সে স্থানের গুরুত্ব বেড়ে যায়। আর সাতিক্ষীরায় রয়েছে একইসাথে ১২ টি মন্দির। উপজেলা সদরের ৯ কিলোমিটার উত্তরে বুধহাটায় রয়েছে ১১৪৬ বঙ্গাব্দে নির্মিত একই স্থানে এই বারোটি মন্দির। নাম ‘বুধহাটার দ্বাদশ শিবকালী মন্দির’।  ১১৪৬ বঙ্গাব্দে নির্মিত একই স্থানে বারোটি মন্দিরের নির্মাতা জমিদার রাজবংশী । বর্তমানে বারোটি মন্দিরের মধ্যে ৬টি টিকে আছে । অন্য ৬টির ভিথ ও ভাঙা অংশ চোখে পড়ে ।বুধহাটা বাজারের এ মন্দিরের পাশে বেতনা নদীর পাড়ে আছে বুড়ো পীরের দরগা । ফলেএ স্থানটি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের লোকের কাছে পবিত্র একটি স্থান । এখানে হিন্দু মুসলমানের সহাবস্থান চলে আসছে হাজার বছর ধরে।

শ্যামনগরের হাম্মামখানার ৩০ গজ পুর্বে ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত প্রতাপাদিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠকীর্তি ‘যশোরেশ্বরী মন্দির’ । পশ্চিমদিকের প্রবেশ পথের ডাইনে নাটমন্দির ও বামে যে নহবতখানা ভাঙাচোরা অবস্থায় টিকে আছে তা আজো সাক্ষ্যদেয় অতীতের জৌলুসের । এক গম্বুজের যশোরেশ্বরী মন্দিরের মাপ ৪৮ফুট-৬ইঞ্চিO৩৮ফুট-৬ইঞ্চি ।

সাতক্ষিরা জেলা শহর থেকে সাতক্ষিরা আশাশুনি সড়ক ধরে ৩৫ কিলোমিটার যেতে হবে।

কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের গ্রাম তেঁতুলিয়া। এখানে আছে একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। উপজেলা মধ্যে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান আছে । বিশেষকরে এ‌ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামটি নানা কারণে খ্যাত । এ গ্রামেই ছিল জমিদার রালামতুল্লাহ খানের বসতবাড়ি । যার ধ্বংসাবিশেষ এখনও আছে । তেঁতুলিয়া গ্রামটি উপজেলা সদরের ৩ কিলোমিটার উত্তরে । এই গ্রামে ১০০ গজের মধ্যে ‘তেঁতুলিয়া শাহী মসজিদ’ ও ‘তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ’ নামে দুটো ঐতিহাসিক মসজিদ আছে ।এরমধ্যে ‘তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ’টি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংস্কারের ফলে অনেকটা ভালো অবস্থায় টিকে আছে । ১২৭০ বঙ্গাব্দে জমিদার সালামতুল্লাহ খান এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন কলকাতার ‘সিন্দুরে পট্টি’ মসজিদের আদলে । ছয় গম্বজের এই মসজিদের মিনার সংখ্যা ২০টি । সুউচ্চ এ মিনারগুলো বহুদুর থেকে নজরে পড়ে।

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ইকো সিস্টেম এই বন প্রতিবেশী দুটি দেশ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত।সুন্দরবনের জন্য মুন্সিগঞ্জে পর্যটন শিল্প বিকাশের একটি ভালো সম্ভবনা রয়েছে।এখানে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন গড়ে তোলা হলে এবং সুন্দরবন ভ্রমনের নিরাপদ ও আরামদায়ক ব্যবস্থা করা হলে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটতে পারে।

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা হতে সড়ক পথে সাতক্ষীরা যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী ও শ্যামলী থেকে থেকে বিভিন্ন পরিবহন সকাল এবং রাতে উভয় সময় ছেড়ে যায়। সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস (০১৭১২৭৮৭৩৬০)। আর সাতক্ষিরা থেকে লাইন,এসপি গোল্ডেন লাইন সহ অন্যান্য পরিবহনে ঢাকা থেকে শ্যামনগর এর পর বাসে মুন্সিগঞ্জ যাওয়া যাবে।শ্যামনগর থেকে মুন্সিগঞ্জের দুরত্ব ১৫ কিলোমিটার লোকাল গাড়ীতে যাতায়াত করা যায়।ঢাকা শ্যামনগর পরিবহন ভাড়া চেয়ারকোচ ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া রংপুর ,রাজশাহী,চাপাই নবাবগঞ্জ থেকেও সরাসরি শ্যামনগর বি আর টিসি বাস চলাচল করছে।খুলনা থেকে কালিগঞ্জ এর পর কালিগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ লোকাল বাসে যাওয়া যায়। ভাড়া ৪৫ টাকা।মুন্সিগঞ্জেই আছে বন বিভাগের অফিস।বন বিভাগের অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এবং সরকারের ধার্যকৃত ফিস দিয়ে সুন্দরবনের মধ্যে প্রবেশ করা যাবে।মুন্সিগঞ্জে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বা নেীকা পাওয়া যাবে।এ ছাড়া বরসা ট্যুরিজমের লঞ্চ বা সুন্দরবন ট্যুরিজমের লঞ্চ পাওয়া যাবে।এ লঞ্চে নির্ধারিত ফিস দিয়ে ৩/৪দিন বনের মধ্যে থাকা যাবে।

কোথায় থাকবেনঃ শ্যমামনগরের মুন্সিগঞ্জে বেসরকারী সংস্থার গেষ্ট হাউস,পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাক বাংলা,বুড়িগোয়ালিনী জেলা পরিষদের ডাক বাংলা,সুশীলন,বরসার গেষ্ট হাউস,জোয়ার ইকো ট্যুরিজমের গেষ্ট হাউস, অথবা শ্যামনগর উপজেলা সদরে বিভিন্ন হোটেল,নকশীকাঁথার গেষ্ট হাউস সহ অন্যান্য হোটেলে কম মূল্যে থাকার ব্যবস্থা আছে।মুন্সিগঞ্জ অথবা বুড়িগোয়ালিনী থেকে চাঁদের আলোতে সুন্দরবনের মনোরম দৃশ্য দেখা যেতে পারে যা কখনও ভোলা যায় না।

 

Published : এপ্রিল ৪, ২০১৭ | 1485 Views

  • img1

  • এপ্রিল ২০১৭
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « মার্চ   মে »
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • Helpline

    +880 1709962798