অনিন্দ্য সুন্দর কাঠ মসজিদ দেখতে চলুন পিরোজপুরে

Published : মার্চ ৩১, ২০১৭ | 2795 Views

কাঠের মসজিদ

অনিন্দ্য সুন্দর কাঠ মসজিদ দেখতে চলুন পিরোজপুরে

মমিন মসজিদ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব শৈল্পিক ভাবনা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি মসজিদটি তৈরি করেন। যা শিল্পকর্মের অপূর্ব নিদর্শন হিসাবে তৈরি করেছে নতুন এক স্থাপত্য। বিচিত্র কারুকাজখচিত সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি এই মসজিদ স্থানীয়ভাবে ‘কাঠ মসজিদ’ নামে পরিচিত।

 

১৯১৩ সালে কাঠ মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাঠ শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা থেকে তিনি হরকুমার নাথকে মাসিক ৪০ টাকা বেতনে মসজিদ তৈরির প্রধান মিস্ত্রি নিয়োগ করেন।  মমিন উদ্দিন আকন সব সময় মিস্ত্রিদের কাছে থেকে তাঁদের কাজ পরিচালনা করতেন এবং কারুকাজ গুলো সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করে দেখতেন। কখনো কখনো একটি কাজ তিন চার বার করতে গিয়ে মিস্ত্রীরা বিরক্ত হতেন।

 

মমিন উদ্দিন আকনের নাতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ তাঁর মমিন মসজিদ:স্মৃতি বিস্মৃতির কথা বইয়ে লিখেছেন, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা মহসিন উদ্দিন দুদু মিয়ার ছেলে পীর বাদশা মিয়ার অনুসারী ছিলেন প্রয়াত মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন। অনেক দিন ধরে নিজ বাড়িতে পাকা কাঠ দিয়ে মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন তিনি। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে কাঠের নানা নকশা দেখে নিজেই সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে মসজিদ তৈরির একটি পরিকল্পনা করেন।

মমিন মসজিদ

পূর্ব দিকে একটি মাত্র প্রবেশ দ্বারে কারুকার্য খচিত দুটি খাম্বা বিশিষ্ট দরজা রয়েছে, যাতে মসজিদ নির্মাণের সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম ফুটে উঠেছে। প্রবেশ দ্বারের উপরের বা দিকে আরবী হরফে ইসলামের চার খলিফার নাম ও মাঝ খানে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সঃ) অলংকৃত করা হয়েছে। প্রবেশ দ্বারের মাঝ খানের অংশে লেখা রয়েছে লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৭ এপ্রিল সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী মমিন মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

 

শত বছর পূর্বে মমিন মসজিদ তৈরিতে মমিন উদ্দিন আকন যে শিল্প রুচির পরিচয় দিয়েছে তা একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের মসজিদ অনেক আগে ভারতের কাশ্মীরে একটি ছিল। ১৮৮৫ সালের ভুমকম্পে সেটি ধংসপ্রাপ্ত হয়। ২০০৮ সালে খুলনা জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়নে মমিন মসজিদ প্রথম বারের মত সংস্কার করা হয়। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ৩০ টি শিল্প সম্পৃদ্ধ মসজিদের তালিকায় রয়েছে মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদ।

মঠবাড়িয়া উপজেলার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামে একমাত্র কাঠের তৈরী মমিন জামে-মসজিদটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদের মেঝেতে পানি পড়ে। ফলে মেঝেতে কাঁদা ও উঁইপোকা লেগে যায়। কয়েক বছর ধরে মেঝেতে লবনাক্ততা দেখা দিয়াছে।ফরাজী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মরহুম মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের একান্ত প্রচেষ্টায় বাংলা ১৩১৮ সালে তৎকালীন দিল্লির ২২ জন কাঠ মিস্ত্রি পেরেক ব্যবহার ছাড়াই এটি নির্মাণ করেন। সরকারের প্রতœত্বান্তিক বিভাগ মসজিদটি খোঁজ-খবর রাখছেন।  মসজিদটির পাশে বিভিন্ন প্রজাতির উঁচু গাছ হয়েছে। বিভিন্ন সময় ঝড়-বাতাসে গাছের ডাল মসজিদটির ওপর পড়ে। সিডর পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থ্য মসজিটি ৭জন কাঠ মিস্ত্রী সংস্কার করেন। এসময় যে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে তা নি¤œ মানের কাঠ। যা পুরাতন কারুকার্যের সাথে মিল নেই। সে কাঠগুলোতে ঘুনপোকা লেগে গেছে।

Published : মার্চ ৩১, ২০১৭ | 2795 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798