পিকনিকের পরিকল্পনা করেছেন কি?

Published : জানুয়ারি ৩১, ২০১৭ | 2181 Views

 পিকনিকের পরিকল্পনা করেছেন কি?

পিকনিক মানে হৈচৈ, আনন্দ আর এক বছরের জন্য রিফ্রেসপেমন্ট। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব অফিস এসোসিয়েশান কিংবা পারিবারিক ভাবেও দল বেঁধে পিকনিক যান অনেকে। অনেকে লোক একসাথে বেড়াতে যায় বলে অনেক আনন্দ হয় আবার ঝামেলাও পোহাতে হয় অনেক।  একটি পিকনিক পার্টি আয়োজনের জন্য নানা ধরনের ‍বিষয় ও প্রয়োজনীয় জিনিসকে সম্পৃক্ত করতে হয়। এগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও সব টুল ও ব্যক্তি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখভাল করতে হয়। পিকনিক পরিকল্পনার নানা দিক নিয়ে আজকের লেখাটি তৈরী করেছেন জাহাঙ্গীর আলম শোভন।

আসুন একটি পিকনিক আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা যাক

পরিকল্পনা:

একটি সঠিক পরিকল্পনা আপনার একটি সুন্দর পিকনিক বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত। আপনাকে অবশ্যই আগেই ঠিক করে নিতে হবে। আপনার মোট লোক কতজন হবে। তাদের মধ্যে নারী শিশুর সংখ্যা কেমন হবে। পিকনিক কত সময়ের জন্য হবে। কত দূরত্বের মাধ্যমে করতে হবে। কোথায় করবেন? আপনার পিকনিকের মধ্যে কি কি ইভেন্ট রয়েছে। সেই ইভেন্টগুলো কোথায় হলে আপনি সব ঠিকঠাক করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে বিভিন্ন পিকনিক েস্পটের ছবি দেখে ফোন করে তাদের সেবা ও দরদাম এবং সীমাবদ্ধতা ও শর্ত সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। তাহলে আপনি সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে অবশ্যই কমপক্ষে এক থেকে ২ মাস সময় হাতে রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। কারণ ঢাকার আশপাশের রিসোর্ট বা পিকনিক স্পটগুলো আপনি এক দেড়মাস আগে বুকিং না দিয়ে খালি পাবেন না। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ এই সময়ে তো ছুটির দিনগুলো ২/৩ মাস আগে বুকড থাকে।

 

ব্যবস্থাপনা

একটি পিকনিক পার্টিতে নানা রকম কাজ থাকে। পরিবহন, খাদ্য, বিনোদন, রেজিস্ট্রেশন, খেলাধুলা, পুরষ্কার, প্রচারণা, নিরাপত্তা নারী ও শিশুদের দেখভাল করা। ইত্যাদি। আপনি যদি কোনো রিসোর্টে পুরো বিষয়টা কন্টাক্ট করে তাদের দায়িত্বে দিয়ে দেন। তহালে সবচেয়ে ভালো হয়। তবে এক্ষেত্রে নিজের পছন্দমত অনেক কিছুই করা যা্য়না। নিজেদের মতো করে পিকনিক করার মাঝে আনন্দ রয়েছে। সেক্ষেত্র নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে ‍ূলিডার ও কর্মী ঠিক করে নেবেন। তারাই সব করবে। নিজেদের মধ্যে সম্ভব না হলে আপনি বাবুর্চি বেয়ারা কিংবা নিরাপত্তার রক্ষী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় কোনো ট্যুর বা পিকনিক বা ইভেন্ট ম্যানেজার কোম্পানীকে সম্পৃক্ত করে তাদেরকে পুরো কাজের দায়িত্ব দেয়া। এবং আপনার সবকাজ ও চাহিদা তাদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা।

 

পিকনিক স্পটে

পিকনিক স্পটে খাওয়া ছাড়াও আনন্দ বিনোদনের নানা আয়োজন থাকে। আপনাকে অবশ্যই খাবারের মেন্যু নাস্তার তালিকা এসবের পরিমাণ বাজেট ও মান আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে। যদি ভেন্যুতে পান তাহলে তাদেরকে সেভাবে অর্ডার করতে হবে আর যদি নিজেরা আয়োজন করেন তাহলে বাবুচী, তার সহকারী ও সার্ভিসের জন্য লোক ঠিক করে নিজেদের টিমের কয়েকজনকে তাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে কাজ করাতে পারেন্। আপনার লোকসংখ্যা অনুসারে ভেন্যু ঠিক করবেন। যাতে সেখানে তাদের বসা , খাওয়া ও ঘোরাফেরার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। তবে রিফ্রেস হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত রুম ও ওয়াশরমের কথাও মাথায় রাখতে হবে।

 খাওয়া দাওয়া

পিকনিকে খাওয়া দাওয়া একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি মেন্যু অনুসারে অর্ডার করেন তাহলে তাদেরকে অবশ্যই বলে দেবেন খাবার যেন কম তেল, কম ঝাল ও কম মসলা সম্পন্ন হয়। কারণ ২/৪ জন হয়তো স্পাইসি পছন্দ করে। কিন্তু নারী ও শিশুরা রয়েছে বা যাদের খুব বেশী রিচ ফুড বা বাইরের খাবারের অভ্যাস নেই তাদের সমস্যা হতে পারে। আর দুপুরের খাবার ছাড়াও সকাল ও বিকেলের নাস্তার কথা ভুলে গেলে চলবেনা।

পরিবহন

পরিবহন পিকনিকের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‍একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে পিকনিক স্পটে ‍যাওয়ার জন্য আরামদায়ক পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ যদি গাড়ি দূগন্ধময় বা অপরিষ্কার হওয়ার কারণে গাড়িতেই লোকেরা কাহিল হয়ে যায় বা বমি করে দেয়। তাহলে পুরো ট্যুরে তার একটা প্রভাব পড়বে। আর গাড়ি ভাড়া করলে তাকে অবশ্যই টাইম বলে দেবেন এমনকি দেরী হলেও ‍সেটা আগে বলে রাখবেন।

বিনোদন

বিনোদন ছাড়া পিকনিক? সেটাতো আজকাল চিন্তাই করা যায়না। তাই গান, খেলাধুলা, র‌্যাফেল ড্র, কৌতুকসহ নানা আয়োজনে আপনি পিকনিককে আনন্দময় করে তুলতে পারেন। শিশু ও নারীদের জন্য থাকতে পারে ভিন্ন আয়োজন। যদি রাতে অবস্থান করেন তাহলে আতশবাজি ও ফানুষ উড়াতে পারেন।

নিরাপত্তা

বর্তমান সময়ে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনাকে অবশ্যই অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এজন্য স্থান কাল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খুব দূরে গেলে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। থানা, ব্লাডব্যাংক, ডাক্তার, এম্বুলেন্স এসবের ফোন নাম্বার নিয়ে যেতে পারেন। সাথে ডাক্তার ও ফাস্টএইড নিয়ে গেলেও মন্দ হয়না। এমনকি জ্বর, গ্যাস্টিক, প্রেসার,  মাথা ব্যথা, পেটখারাপ, বমি হওয়া এমন কিছু সাধারণ সমস্যার জন্য কিছু ওষধও সাথে নিয়ে যাবেন। দলে কোনো দাগী আসামী বা উচ্ছৃংখল লোক রাখবেন না। দলের কেউ যেন কোনো অন্যায় বা ভুল কাজ করে না বসে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আর কোনো সেলিব্রেটি, শিল্পী বা ‍রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকলে থানা পুলিশের প্রটোকল নিয়ে নেবেন। এবং যদি ফানুস বা আতশবাজি করতে চান তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতির বিষয়টি মাথায় রাখুন।

আপনাদের ভ্রমণ এবং পিকনিক আনন্দময় হোক। এ ব্যাপারে আপনি যেকোনো সেবা নিতে পারেন www.cholbe.com থেকে। ফোন: 01709 962798

ছবি: ই-কমার্স এসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ এর ২০১৫ সালের পিকনিক

ফটোগ্রাফি: রুহুল কুদ্দুছ ছোটন

Published : জানুয়ারি ৩১, ২০১৭ | 2181 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798