রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনির হাট ভ্রমণ

Published : ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬ | 1715 Views

রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম ভ্রমণ

 

গরমের দিনে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি থাকে রুক্ষ। শীতেও বেশ শীত। তােই পড়ন্ত শীতের দিকে ঘুরে আসুন গাড়িয়াল ভাইয়ের দেশ থেকে। ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া গানের ভূমি, নানা নাতির গম্ভীরার দেশ, ক্ষীর মোহন আর খেজুর গাছের দেশ ঘুরে আসুন হালকা শীতে। তিনদিনের উত্তরবঙ্গ কেমন হতে পারে দেখে নিন এই পোস্ট থেকে।

ভ্রমণ সময়: ৩ দিন ২ রাত

যা দেখবো

রংপুর: ভিন্ন জগত, বেগম রোকেয়ার বাড়ী, কেরামতিয়া মসজিদ, তাজহাট জমিদার বাড়ী

কুড়িগ্রাম: সোনাহাট স্থল বন্দর, বঙ্গসোনাহাট ব্রিজ,  সাতভিটায় পাখির ভিটা রাজারহাট, চান্দামারী মসজিদ রাজারহাট, ধরলা ব্রিজ ও ধরলা নদীর পাড়|

লালমনির হাট: তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আংগরপোতা ছিটমহল, বুড়িমারী স্থলবন্দর

ভ্রমণ বৃত্তান্ত

প্রথম দিন: সকালে রংপুর গিয়ে সকালের নাস্তা। তারপর ভিন্নজগত ভ্রমণ। দুপুরে খাওয়ার পর কেরামতিয়া মসজিদ ও তাজহাট জমিদার বাড়ী। বিকেলে বেগম রোকেয়ার বাড়ী। রাতে বেগম রোকেয়ার বাড়ীর গেষ্ট হাউসে রাতযাপন।

দ্বিতীয় দিন: সকালে ঘুম থেকে উঠে কুড়িগ্রাম এর উদ্দেশ্যে রওনা, কুড়িগ্রাম গিয়ে সকালের নাস্তা। সোনাহাট স্থল বন্দর যাওয়া সেখান থেকে, চান্দামারী মসজিদ, বঙ্গসোনাহাট ব্রিজ,  সাতভিটায় পাখির ভিটারাজারহাটবিকেলে ধরলা ব্রিজ ও ধরলায় বসে সূর্যাস্ত দেখা।

তৃতীয় দিন: সকালে লালমনির হাটের উদ্দেশ্যে রওনা। নাস্তা করে তিনবিঘা করিডোর, দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিঠমহল দেখা। দুপুরে খাবারের পর বুড়িমারি স্থলবন্দর দেখে ঢাকায় ফেরা।

বিশেষ খাবার:

শীতের দিনে খেজুরের রস, গরুর দুধ, গরুর দুধ দিয়ে চা এবং ক্ষিরমোহন মিস্টি।

 

খরচ কেমন হতে পারে:

ঢাকা থেকে রংপুর ভাড়া: ৫০০ টাকা, ফেরা লালমনির হাট থেকে ৬৫০ টাকা: প্রায় ১২০০ টাকা।

প্রতিদিনের খাবারের খরচ জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে। তিন দিন ১৫০০ টাকা।

লোকাল পরিবহন: ১০ জনের টিম একটি মাইক্রোতে করে প্রতিদিন ঘুরলে তিনদিনে খরচ জনপ্রতি প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে ১৫০০ টাকা।

বিশেষ খাবার ও সুভেনির ক্রয়: ৩০০ টাকা

থাকা ২ রাত, প্রতিরাত ৫০০ করে ১০০০ টাকা

মোট খরচ তিনদিনে ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা প্রায়।

এবার শুনুন যে স্থানগুলোর দেখানো হবে সেগুলোর বিশেষত্ব:

রংপুর:

ভিন্নজগৎ:

বেসরকারিভাবে প্রায় ১শ’ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রটি  বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো এমিউজমেন্ট পার্ক।  ভিন্নজগতের প্রধান ফটক পার হলেই তিন দিকের বিশাল লেক ঘেরা নয়নাভিরাম দৃশ্য এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র  প্রথম বেসরকারী প্লানেটোরিয়াম।ছায়াঢাকা ও পাখিডাকা একটি গ্রামের মতোই এই ভিন্ন জগত। এখানে চিত্ত বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। রয়েছে রোবট স্ক্রিল জোন, স্পেস জার্নি, জল তরঙ্গ, সি প্যারাডাইস, আজব গুহা, নৌকা ভ্রমণ, শাপলা চত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষা সৈনিকদের ভাস্কর্য, ওয়াক ওয়ে, থ্রিডি, সুইমিং পুল স্পিনিং হেড, মাছ ধরার ব্যবস্থা। রংপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত।

কেরামতিয়া মসজিদ:

ভারতের জৈনপুর থেকে আগত মাওলানা কেরামত আলী জৈনপরী এটি নির্মাণ করেন। কেরামতিয়া মসজিদ রংপুর জেলার প্রধান আকর্ষণ ভারতের জৈনপুর থেকে আগত বাংলাদেশে মুসলিম সংস্কার আন্দোলণের অবিস্মরনীয় পুরোধা মাওলানা কেরামত আলী (রাঃ) জৈনপুরী। তিনি ১২১৫ হিজরীর ১৮ মহরম তারিখে জৈনপুরে জন্মগ্রহণ করেন। রংপুরে তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন এবং এখানে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মসজিদের পাশেই রয়েছে তার মাজার। আয়তাকার মসজিদটির আভ্যমত্মরীন পরিমাপ ৪২ বাই ১৩ ফুট।  রংপুরের শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত।

তাজহাট জমিদার বাড়ী:

স্থাপত্যশৈলী অনুযায়ী এটা মুঘল আমলের হয়ে থাকবে। মনমুগ্ধকর ‘তাজ’ বা মুকুটের কারণেই এ এলাকা তাজহাট নামে অভিহিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর। এতে বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী কক্ষ যাতে রয়েছে দশম ও একাদশ শতাব্দীর টেরাকোটা শিল্পকর্ম। এখানে রয়েছে সংস্কৃত এবং আরবি ভাষায় লেখা বেশ কিছু প্রাচীন ও দূর্লভ পাণ্ডুলিপি। মুঘল সম্রাট আওরাঙ্গজেবের সময়ের কুরআন সহ মহাভারত ও রামায়ণ আছে এখানে। তাজহাটে অবিস্থত।

বেগম রোকেয়ার বাড়ী

বেগমরোকেয়ার জন্মবসত ভিটা।  বর্তমানে এখানে তৈরী করা হয়েছে বেগম রোকেয়া স্বমৃতিকেন্দ্র।পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার পৈতৃক ভিটায় ৩ দশমিক ১৫ একর ভূমির ওপর এই কেন্দ্রটি । আছে অফিস ভবন, সর্বাধুনিক গেস্ট হাউজ, ৪ তলা ডরমেটরি ভবন, গবেষণা কক্ষ, লাইব্রেরি ইত্যাদি। ঢাকা রংপুর মহাসড়ক থেকে তিন কিলোমিটার ভেতরে মিঠাপুকুর থানায় অবস্থিত।

কুড়িগ্রাম:

চিলমারীর বন্দর:

একটি বিখ্যাত স্থলবন্দর। ওকি গাড়িয়াল গানে এই বন্দরের কথা রয়েছে। পুরনো এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে মালামাল বাংলাদেশে আসে।
সাতভিটায় পাখির ভিটারাজারহাট, কুড়িগ্রাম
পাখিদের কষ্ট করে ছানা বড় করতে দেখে  স্থানীয় যুবক আমির উদ্দিনের খুব মায়া হতো। তার বাড়িটিই এখন পাখিদের অভয়ারণ্য। কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ৪ কি.মি. দূরে কুড়িগ্রাম-উলিপুর সড়কের পাশে আনন্দবাজার। সেখান থেকে তিন কিলোমিটার সাতভিটা গ্রাম।
উলিপুরের মুন্সিবাড়ি
কুড়িগ্রামের বিখ্যাত জায়গা। ৩৯ একর আয়তনের বাড়িটিতে  ভবনের ভেতরে ও বাইরে নানা কারুকাজ করা স্থাপত্যশৈলী। মোগল স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে ব্রিটিশ রীতির মিশেলে  নির্মিত।এই প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন সম্পর্কে নানা উপাখ্যান ও লোকগাথা প্রচলিত আছে।
চান্দামারী মসজিদ
রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নে চান্দামারী মসজিদ। দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট। এর নির্মাণকাজে ভিসকাস নামে এক ধরনের আঠালো পদার্থ ব্যবহৃত রয়েছে। পাঁচ ফুট উঁচু তিনটি বড় দরজা রয়েছে মসজিদে। ওপরে আছে তিনটি বড় গম্বুজ। চারদিকে আছে আরো ছয়টি ছোট গম্বুজ।  এই মসজিদের নির্মাণকাল জানা যায়নি।
বঙ্গসোনাহাট ব্রিজ
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ব্রিজটি ১৯০০ সালে নির্মিত। ব্রিট্রিশ সরকার নির্মিত এই ব্রিজটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে এখনো দাড়িয়ে আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈন্য চলাচল ও রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হতো ব্রিজটি। ঢাকার
চিলমারী নদীবন্দর :

একসময় নদীবন্দর হিসেবে বিখ্যাত ছিল। এখানও ভাসমান তেল ডিপো রয়েছে। চিলমারী অস্টমীর স্নান ও মেলা  যেখানেসনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর সর্বপাপক্ষয়ে পুণর্ব্বসুনক্ষত্রযুক্ত বৃষ লগ্নে অষ্টমী তিথীতে পূণ্যস্নান করতে আসেন।

ঐতিহাসিক পাঙ্গা রাজবাড়ি:

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কুচবিহার রাজা নর-নারায়ণের মৃত্যু হলে, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষার্ধে অর্থাত্ মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে অনিরুদ্ধ অভিষেক পাঙ্গা রাজ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।  রাজ নর-নারায়ণের পুত্র লক্ষী নারায়ণ কুচবিহার রাজ্যের সিংহাসনে বসেন। কুচবিহারের কোচ রাজারা সপ্তম পুরুষ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তার পরবর্তী দত্তক পুত্র বংশধরগণ কুচবিহার রাজ্য পরিচালনা করেন।

 

লালমনির হাট:

তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আংগরপোতা ছিটমহল:

লালমনির হাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়ন ও দহগ্রাম-আংগরপোতা ছিটমহলের মাঝখানে এ করিডোরটি অবস্থিত। সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ব্যাপকভাবে পরিচিত। এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত। বর্তমানে এগুলো ভারতের অংশ হয়ে গিয়েছে।

 

 

Published : ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬ | 1715 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798