বই পড়ুন: ভালো থাকুন

Published : ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬ | 921 Views

বই পড়ুন: ভালো থাকুন

বই পড়লে কি হয়?

 

  • বই পড়া মানসিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখেঃ
    2. দক্ষতা বৃদ্ধির ভিত্তি তৈরী করার জন্য বই পড়ুনঃ
    3. একটি বিষয়ের উপড় শব্দ ভান্ডার তৈরী করার জন্য বইঃ
  • আপনার সময়ের সঙ্গি হতে পারে বইঃ
    5. কোনো একটি বিষয়ের উপড় মনোযোগ বৃদ্ধিতে বইয়ের ভূমিকাঃ
    6. বই পড়ে মানুষের আত্নমর্যাদা বাড়েঃ
    7. বই পড়লে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়ঃ
    8. বই পড়লে মানুষের জীবন সুশৃংখল হয়ঃ
    9. যেকোনো জায়গায় বই পড়া যায়ঃ
    10. বই পড়লে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়ঃ
  • বই পড়ার সময় করণীয

 

 ১। ইসলামিক বইকে সাধারণ গল্প উপন্যাসের বইয়ের মত ধরলে চলবে না। বিছানায় না পড়ে পারতপক্ষে পড়ার টেবিলে চলে যান এবং সঙ্গে অন্যান্য সহায়ক উপকরণ (যেমন, ডিকশনারি, নোটবই, পেন্সিল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদি) প্রস্তুত রাখুন যাতে করে পড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিসার্চ করে নিতে পারেন।

২। ধীরে পড়ুন। কোয়ান্টিটির তুলনায় কোয়ালিটির দিকে মনোযোগ দিন। বিশেষজ্ঞদের মতে ১ ঘন্টায় কোনমতেই ২০ পৃষ্ঠার বেশী পড়া উচিৎ নয়। মস্তিষ্কে তথ্যের আধিক্য নিয়ে আসার চাইতে একটি কনসেপ্টকে ভালোভাবে আয়ত্ত্ব করার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ইসলামিক বইসমূহে চিন্তার প্রতিফলন ঘটানোর বা তাদাব্বুর করার কোন বিকল্প নেই।

৩। নিশ্চিত করুন যে বইয়ের প্রতিটি বিষয় বা কনসেপ্টকে আপনি ভালো করে বুঝে নিয়েছেন। অনেক সময় লেখক ও পাঠকের মাঝে একটি কগনিটিভ গ্যাপ থেকে যায় যার ফলে লেখক একটি বিষয়কে যেভাবে বোঝাতে চেয়েছেন পাঠক তা বুঝে নাও উঠতে পারেন। এর পেছনে লেখকের লেখনীর সীমাবদ্ধতা যেমন দায়ী হতে পারে একই সাথে পাঠকের biasness ও কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। ‘আল্লামা মুখতার আল-শানকীতী তার একটি লেকচারে বলেন যে ধরুন ত্বাহারা বা পবিত্রতার আহকামে আপনাকে বলা হলো যে পানি তিন প্রকার – ত্বাহুর, ত্বাহির ও নাজিস। আপনাকে চিন্তা করতে হবে শরী’য়ার পরিভাষায় পানির সংজ্ঞা কী। “পানি কী তা তো আমি জানিই” – এটি বললে চলবে না।

৪। বইয়ের একটি অধ্যায় শেষ হলে পরবর্তী অধ্যায়ে চলে যাবার আগে ডাব্‌ল চেক করুন যে পঠিত অধ্যায় থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের রসদ আপনি সংগ্রহ করতে পেরেছেন কিনা। এক্ষেত্রে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ আপনি নিতে পারেন। প্রতিটি অধ্যায় শেষ করে একটি সামারি বা সারমর্ম লিখুন এর মুল শিক্ষাকে উল্লেখ করে। এই প্র্যাকটিসটি যদি আপনি চালু করতে পারেন, দেখবেন আপনার নলেজ রিটেনশন কতগুণে বৃদ্ধি পায়!

৫। প্রয়োজনীয় অংশ মার্ক করতে বা দাগিয়ে রাখতে ভুল করবেন না। বইয়ের সৌন্দর্য রক্ষার চাইতে পড়াশোনার কার্যকারিতা বেশী জরুরী। ‘উলামারা বলেন যে সাদা বইকে যতক্ষণ কালো না করা হচ্ছে জ্ঞান ততক্ষণ অধরাই থেকে যাবে। বই কালো করা বলতে এখানে মার্ক করাকেই বোঝনো হয়েছে। সুতরাং মার্কার নিন এবং সমানে দাগাতে থাকুন।

৬। ডিকশনারি, এনসাইক্লোপিডিয়া, ইন্টারনেট এগুলোর সাহায্য নিন প্রয়োজন হলে। ধরুন বইয়ে ইসলাম ও কম্যুনিজমের মধ্যে তাত্ত্বিক সংঘাত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আপনি মনে করছেন কম্যুনিজম সম্বন্ধে আপনি ভালোই জানেন। তার পরেও উইকিপিডিয়া খুলে আপনি কম্যুনিজমের জন্য বরাদ্দ পেজটি একবার পড়ে নিন। দেখবেন আপনার পূর্ব জ্ঞান ও এখনকার জ্ঞানের মাঝে আকাশ পাতাল ব্যবধান।

৭। খোলা মনে বই পড়ুন এবং স্বতন্ত্রভাবে বই পড়ুন। হতে পারে বইয়ের লেখক একজন বড় ‘আলেম। তাই বলে তার সব কথাই ঠিক হতে হবে এমন নয় বা তার ভুল হলে সেটি আপনার পক্ষে ধরা একেবারেই সম্ভব হবে না এতটা হীনমন্যতায় ভোগাও উচিৎ নয়। লেখকের মাঝে বায়াসনেসও থাকতে পারে। কোন কিছু প্রমাণ করতে গিয়ে লেখক যদি নৈর্ব্যক্তিক যুক্তিতে না গিয়ে ফাঁকা ভাবাবেগ বা বিশেষণের ছড়াছড়ি ঘটান তখনই পাঠককে বায়াসনেসের এলার্ম বাজিয়ে দিতে হবে। তবে লেখকের কোন একটি মতের সাথে একমত হতে না পারলেই তার পুরো বক্তব্যকে ফেলে দেয়াও বোকামি। আরও খেয়াল রাখতে হবে যে লেখকের সাথে একমত না হওয়ার মানেই এই নয় যে পাঠকই সঠিক। হতে পারে পাঠকের ব্যক্তিগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মেধার স্বল্পতা এখানে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে (এটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী)। মোদ্দা কথা হল যে, আমাদের সাবধানী হতে হবে পাঠক হিসেবে।

() কুরআন পড়বো নিয়মিত, প্রতিদিন অন্তত কয়েকটা আয়াত এবং তার তাফসীর। কমপক্ষে অর্থ, যেন নামাজে দাঁড়িয়ে সূরাগুলো বুঝে বুঝে পড়তে পারি। আল্লাহর সামনে আমরা প্রতিদিন যেই কয়বার দাঁড়াই, যেন সঠিক অর্থ জেনে পড়ি তাসবীহ ও সূরাগুলো। এতে নামাজে মনোযোগ গাঢ় হবে। নামাজ আমাদের জান্নাতের চাবি হবে, সবার প্রথম হিসেব হবে নামাজের। আর সুন্দর নামাজের জন্য কুরআন *সঠিক উচ্চারণে* এবং *অর্থসহ* জানা অপরিহার্য।

 

বই পড়ার আগে যা করণীয়

 ১। ভালো বই বাছাই করা। সমস্যা হচ্ছে যে এই স্কিল হুট করে অর্জিত হয়না। পড়তে পড়তেই সাধারণত একটি ধারণা জন্মায় কোন বইটি ভালো। এক্ষেত্রে অন্য কারো সাহায্য নেয়া যেতে পারে যার ইসলামিক বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে। বাজারে প্রচুর বাজে বই উপস্থিত। এগুলো পড়ে যেন সময় নষ্ট না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

২। উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে হবে। অবশ্যই ইসলামিক জ্ঞান অর্জনের প্রধান উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি। মানুষকে জ্ঞানের স্বীয় আলোকচ্ছটায় নাস্তানাবুদ করার উদ্দেশ্য যদি অতি সন্তর্পণে মনের কোণে এসে থাকে সেটিকে সংশোধন করতে হবে। একই সাথে এই বই থেকে কি উপকার আপনি আশা করছেন তারো একটি সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

৩। বইটি থেকে আপনি কি আশা করছেন তার একটি তালিকা মনে মনে করে নেয়া উচিৎ। এতে বই পড়ার অভিজ্ঞতা আরো বেশি জোরদার হবে এবং বইয়ের সাথে আপনার অবচেতনে একটি যোগসূত্র স্থাপিত হবে। এক্ষেত্রে যে কাজগুলি করা বাঞ্ছণীয় তা হচ্ছে সূচীপত্রে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া এবং লেখক পরিচিতি ও মুখবন্ধটাও  আগেভাগে পড়ে ফেলা। অনেকেই বোঝেন না যে এই কাজগুলি একটি বইয়ের অভিজ্ঞতাকে কতটা ঋদ্ধ করে তোলে।

 

Published : ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬ | 921 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798