সিরাজগঞ্জের লটারী অনুষ্ঠানে

Published : ডিসেম্বর ১, ২০১৬ | 1117 Views

পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমনের স্মৃতি: সিরাজগঞ্জের লটারী অনুষ্ঠানে
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
বানিজ্যমেলার প্রধান আকর্ষন লটারী। প্রতিদিন ড্র, প্রতিদিন পুরষ্কার, মোটরসাইকেল ফ্রিজ এসব। সিরাজগঞ্জের ছয়টি থানার প্রতিটি হাটবাজার ছাড়াও রিক্সায় করে পথে পথে বিক্রি হয় প্রতিদিন ২০ টাকা দামে লটারীর টিকেট। খুব কম মানুষই বাদ পড়ছেন যারা এই লটারীর টিকেট কেনেনি। কেউ কেউ একাধিক মানে ৫টা ১০টা বা আরো বেশী কিনেছেন। শ্রমজীবি মানুষ, কৃষক, দোকানী, গৃহীনী ফেরিওয়ালা মধ্যবয়স্ক নারী কেউ বাদ নেই। লটারীর বাড়তি টোকেন রাত আটটার মধ্যে মেলা প্রাঙ্গনে এসে পৌছে যায়। ড্রামে ড্রামে তারপর বিশাল এক বাক্সে ফেলা হয়। রাত নটা নাগাদ চক্রকারে ঘুরিয়ে দর্শক সারি থেকে কয়েকজন ডেকে তাদের দিয়ে তোলা হয় টিকেট। টিকেটের নাম্বার আছে আবার ফোন নাম্বার। সেই অনুষ্ঠান সরাসিরি সম্প্রচার হয় কেবল টিভিতে। রাত ৮টার পর পাখি কিরণমালা, পাখি মালা সব বন্ধ কেবল লটারীর ড্র দেখার অস্থিরতা। বাসা অফিস দোকান ক্লাব ফুটপাত সর্বত্র লটারীর দর্শক। এমনটা আমার ধারনার বাইরে ছিলো।
আমাদের দেশে লাইব্রেরীতে কেউ যায়না বিউটি পার্লারে ভীড়। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গঠনমূলক আড্ডা গাজাঁর আসরে জমজমাট। সাংস্কৃতিক ধর্মীয় কিংবা গঠনমূলক কিছু হলে এত মানুষকে পাওয়া যেতনা গ্রেফ লটারীর জন্য আকুতি। এতটুকু সান্তনা যে মাদক থেকে ভালো নির্মল বিনোদনের একটা উৎস বটে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পাড়ি দিয়ে টাঙ্গাইল চলে আসলাম। সাথে আসলো সিরাজগঞ্জের আলোকিত যুবক মামুন সালাম, লেলিন আর বাপ্পী । যমুনা সেতুর গোড়ার এসে দেখা করে গেলেন মামুন সালাম ভাইয়ের স্ত্রী মরিয়ম ভাবি। তার দুটো ফুটফুটে মেয়ে চলে এলো তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ আঙ্কেলের সাথে ছবি তোলার জন্য। ভাবী মোটামোটি বিদূষী একজন নারী। কিছুদিন আগে তিনি রাজশাহী বিভাগের সেরা জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষা কর্ম ও পেশাগত জীবনে সফলতার জন্য।
সিরাজগঞ্জের সেই লটারী অনুষ্ঠানে আমি দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। তো আমার সেই মেসেজ মানুষের মাঝে দিতে চেষ্টা করলাম। স্টেজ থেকে নামার সময় এর পরিণতি কিছুটা টের পেলাম। মানুষ তখন গুমড়ি খেয়ে পড়ছিলো আমার সাথে হ্যান্ডসেক করার জন্য। লেনিন একরকম আমাকে রক্ষা করলেন। আসল উত্তাপ টের পেলাম পরের দিন পথে পথে প্রতিটি লোক আমাকে বলল। তারা আমাকে চেনে এবং আগের দিন পত্রিকায় দেখেছে। কারো আব্দার হাত মেলানো কারো আব্দার ছবি তোলা কারো আব্দার এক কাপ চা খাওয়া। আর আমার আব্দার- ভাই ছাড়েন আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।
পথে পথে সিরাজগঞ্জের বাস ও ট্রাক ড্রাইভাররা জোরে চিৎকার দিয়ে ডেকে বলতো ও বড়ো ভাই তারপর তাকালে হাত নাড়তেন। পাল্টা হাত নেড়ে সাড়া দিলেই তারা খুশি। কক্সবাজার পর্যন্ত পৌছে গেছে সিরাজগঞ্জের উত্তাপ। কক্সবাজার পার হয়ে সামনে আগানোর পর মার্চের ২৫ তারিখ হবে এক বিজিবি ক্যাম্পের সামনে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম সেখান থেকে কয়েকজন বিজিবি সদস্য বের হয়ে আসেন। একজন বললেন ‘‘আপনাকে আমি সিরাজগঞ্জ দেখেছি। টিভিতে লটারী অনুষ্ঠানে, আমি তখন বাড়ীতে ছিলাম ছুটিতে’’।

Published : ডিসেম্বর ১, ২০১৬ | 1117 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798