দিনাজপুরে দিনদুপুরে

Published : নভেম্বর ২৮, ২০১৬ | 1125 Views

দিনাজপুরে দিনদুপুরে

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দিনাজ অথবা দিনারাজ নামে কোনো রাজন দিনাজপুরে তার রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।  ব্রিটিশ আমলে ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা হয় দিনাজপুর। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি গ্রহণের ফলে দিনাজপুর জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণভুক্ত হয়। বহুকাল আগে থেকে দিনাজপুর ধান চাষের জন্য বিখ্যাত। ক্রমে এখানে আম ও লিচু চাষ জনপ্রিয় হয়। ১৭৮৬ সালে দিনাজপুর জেলা হিসেবে ঘোষিত হযএকসময় নৌপথ এখানকার প্রধান যাতায়ত নির্ভরশীলতা ছিলো নৌপথে। বর্তমানে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণে সব আমুল বদলে গেছে। এখনো এখানে কদাচিত নৌকা ও গরুরগাড়ী চলতে দেখা গেলেও একসময় এগুলো এখানকার প্রধান জনবাহন। পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণের সময় (১২-০২-১৬ থেকে ২৮-০৩-১৬) ১৭, ১৮ ও ১৯ ফ্রেব্রুয়ারী দিনাজপুর পাড়ি দিয়েছিলাম। সে সময়ের স্মৃতি নিয়ে এই লেখা। স্মৃতি নিয়ে নয় বলা যায় স্মৃতির একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি- খোদা তোমার মেহেরবানী/ এই শষ্যশ্যামল ফসলভরা মাটির ঢালিখানি খোদা তোমার মেহেরবানী। কবি নজরুলের বিখ্যাত গানটি মনে পড়তে পারে দিনাজপুরের দিগন্তজুড়ানো শষ্য শ্যামল ফসলের মাঠ দেখে।কখনো চোখের দিগন্তজুড়ে ভূট্টার খেত কখনো মূলার ফুল যেন বারওয়ারী দুয়ারে ক্যানভাসে আঁকা কোনো দূর গাঁয়ের কাল্পনিক ছবি। কিন্তু সেসব যখন চোখের সামনে উজ্জল তখন আর কল্পনাবিলাসের কি দাম ? মানুষ আর প্রকৃতি যেখনো মোহনা বানায় সেখানে তাদের বিনিময়ের এক আদিগন্ত খেলা চলে অবিরাম। হয়তো এভাবে মানুষে গাছে, মানুষে মাটিতে আর মানুষে প্রকৃতিতে এক অমোঘ বন্ধন রচনা করে পৃথিবীটা ঘুরে চলেছে দিনমান বেলা অবেলায়।

ধান নদী আর চাতালপুর এর নাম হতে পারে দিনাজপুর। ধান নদী আর রাইসমিল এই তিনটা এখানে একসূত্রে গাঁথা। মাঠ ঘাট প্রান্তর জুড়ে সবুজ সমারোহের ধানক্ষেতে ফলানো রাশি রাশি সোনালী স্বপ্ন কৃষকের বারান্দাটুপির শৈল্পিক দোতনার মাঝ দিয়ে কৃষাণীর অবিশ্রান্ত কোমরে বাঁধা শাড়ির আঁচলের বুননি চাষী শিশুর ফোকলা দাঁতের মায়াময় হাসিতে একাকার যেন ভবিষ্যতের দিন গোণা। ক্ষয়ে যাওয়া নদীর হারানো যৌবনের মাঝেও এর বুক চিরে নৌকা কিংবা আধুনিক যান অথবা কৃষকের মাথায় বয়ে যায় সোনালী দানের ভার। কৃষকের কাছ থেকে চাতালে এসে ধান হয়ে যায় চাল মাঝখান দিয়ে একটা সময় ও পক্রিয়া। এটা সম্পন্ন হয় চাতালে। যুগ যুগ ধরে ধান আর ধানের চাতাল বা রাইসমিল এখানকার সবকিূছতে বিশেষ করে বণিক বিদ্যায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ধান চাল ভূষি খৈলেএসবরে নানা কায় কারবারে জমজমাট এখানকার হাট ঘাট বন্দর।

 

 

Published : নভেম্বর ২৮, ২০১৬ | 1125 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798