বিষয় গরুর রচনা

Published : নভেম্বর ২৬, ২০১৬ | 1772 Views

বিষয় গরুর রচনা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন
গরুর রচনা নিয়ে অসংখ্য কৌতুক প্রচলিত আছে আমাদের দেশে। এত কৌতুক মনে হয় অন্যকোনো রচনা নিয়ে তৈরী হয়নি। এরকম একটি কৌতুক শোনানো যাক, এক ছাত্র গরুর রচনা লিখতে গিয়ে প্রথমে গরুর নাক কান চোখ আছে সেটাতো লিখেছে বটে। তারপর গরু যে উপকারী প্রানী তা লিখতে গিয়ে বলছে-‘‘ গরু আমাদের দুধ দেয়। গরুর মাংশ আমরা খাই। গরুর গোবর আমাদের অনেক উপকারে আসে। গরু আমাদের লাথি দেয়। কখনো হাম্বা হাম্বা করে ডাক দেয়। গরুর বাছুর আমাদের বাড়ীতে থাকলে সে নানারকম খেলা করে।’’
সত্যি গরু অনেক উপকারে প্রাণী। তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফের পথে গরুর দেখা মিলবে তাতো স্বাভাবিক একটা জিনিস দেখা যাবে সেটা হেলো গ্রামের লোকেরা গোবরের ঘুটে শুকাচ্ছে। গোবরের ঘুটে সাধারণত দুই রকমের হয় একটা হলো হাতে ধরে ছোট ছোট ভাগ বসিয়ে রোদে শুকানো হয়। শুকালে সেটা শক্ত হয় জ্বালানীর উপযুক্ত হয়। আরেকটা হলো কাঠি বা ছড়ির চারপাশে হাত দিয়ে পাকিয়ে গোবর লাগিয়ে সেটাকে রোদে শুকানো হয়। গ্রামে গঞ্জে লাড়কির সাথে এগুলো মণ হিসেবে বিক্রি হয়। এটা মোটামোটি সস্তা ও দাহ্য জ্বালানি এমনকি এর ছাই থেকে ভালো সার হয়। ভারতেও গোবরের ঘুটে ফেরী করে বিক্রি করে, হাটে বাজারে পাওয়া যায়, সম্প্রতি ভারতের ই কমার্স শপেও গোবরের ঘুটে বিক্রি করার সংবাদ বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরে শুনেছিলাম গরুর মূত্র বিক্রি হচ্ছিলো।
গোবরের ঘুটে গ্রামীন জনগোষ্ঠির জীবনের একটা অংশ। গরু আদিকাল থেকে মানুষের নানা উপকার করে আসছে। দুধ, বাছুর ও মাংশ এর পাশাপাশি গোবর দিয়েও সাহায্য করছে। গোবর এর কথা ভাবতে আমারদের যেমনই লাগুক। আমরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে গোবরের সেবা নিচ্ছি। গ্রামের মানুষরো যুগ যুগ ধরে দুটো কাজ গোবর ব্যবহার করে আসছে প্রথমত জ্বালানী দ্বিতীয়ত প্রাকৃতকি সার। আধুনিক কালেও জৈবসার, কম্পোস্ট গাঁদা  তথা নিরাপদ ও ক্যামিক্যালমুক্ত সার হিসেবে এখনো গোবর অদ্বিতীয়। এছাড়া গোবর মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির এক ধরনের পাত্র তৈরী করা যায় যেগুলো শুকানোর পর ধান চাল রাখার উপযুক্ত হয়ে যায়। মাটির ঘরগুলোর দেয়ালে মাটির যে প্রলেপ থাকে তাকে গোবর মেশালে সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়। ছন যদি পাতলা হয় আর সে ছনের বেড়া যদি আপনি বাতাস পরিবহনের অনুপযুক্ত করতে চান তাহলে গোবর যুক্ত মাটি লেপে দিলেই হবে।
আপনি গত পয়েলা বৈশাখে প্রেয়সীকে যে গোলাপ ফুলটি দিয়েছেন তার গোড়ায় এক মুষ্টি গোবর ছিলো। যে লাউটি বাজার থেকে কিনে এনে রান্না হওয়ার পর রাধুনীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন তার গাছের গোড়ায় এক ঝুড়ি গোবর ছিলো। আর কোথায় কোথায় গোবর ছিলো বা আছে সেটা বলে শেষ করা যাবে না। তাই বলছি গোবর জীবনের একটা অংশ বটে। আমাদের পূর্বপুরুষদের এই বাংলার গ্রামীর জীবনের একটি দিনও গরু গোবর কিংবা ঘুটে বা গোবর সার ছাড়া অতিবাহিত হয়নি।

ভাবছেন, গরুর রচনা লিখতে গিয়ে গোবরের রচনা লিখলাম কিনা? ঠিক ধরেছেন। গরুর কয়টি নাক কান চোখ আছে এসবতো অনেক আগেই লেখা হয়ে গেছে। মনে হলো গোবর নিয়ে একটু কম লেখা হয়েছে। তাই… । তাছাড়া এখানে আমরা ‘‘রচনা‘’’কে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করলেও রচনা শব্দটা আসলে ক্রিয়া পদ ‘‘রচনা করা’’। এখানে হওয়া উচিত প্রবন্ধ। মানে গরু বিষয়ে একটা প্রবন্ধ রচনা করো।

Published : নভেম্বর ২৬, ২০১৬ | 1772 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798